kalerkantho

মঙ্গলবার । ৬ ডিসেম্বর ২০১৬। ২২ অগ্রহায়ণ ১৪২৩। ৫ রবিউল আউয়াল ১৪৩৮।


একাদশ ও দ্বাদশ শ্রেণি : বাংলা দ্বিতীয় পত্র

ভাষণ

মো. শহিদুল ইসলাম, প্রভাষক ন্যাশনাল আইডিয়াল কলেজ, খিলগাঁও, ঢাকা   

৭ অক্টোবর, ২০১৬ ০০:০০



প্রশ্ন : ‘জাতি গঠনে ছাত্রসমাজের ভূমিকা’ সম্পর্কিত একটি ভাষণ তৈরি করো।

উত্তর : সম্মানিত সভাপতি, বরেণ্য প্রধান অতিথি, শ্রদ্ধেয় শিক্ষকবৃন্দ, সুধী অভিভাবকবৃন্দ এবং সমবেত ছাত্রছাত্রী ভাই ও বোনেরা—আস্সালামু আলাইকুম।

আদর্শ ছাত্র বলতে যেভাবে মূল্যায়ন করা হয়, তাতে একজন ছাত্রের মধ্যে মানুষের সামগ্রিক মহৎ গুণাবলিই প্রতিফলিত হয়। একজন আদর্শ ছাত্রের যে গুণাবলি দরকার সেগুলো হলো—সততা, আদর্শবাদিতা, ন্যায়নিষ্ঠা, উদ্যম, দেশপ্রেম, আত্মত্যাগ ইত্যাদি। যেকোনো জাতির সেরা সম্পদ তরুণসমাজ তথা ছাত্রসমাজ। একটি জাতির সমৃদ্ধি, সম্মান আর মর্যাদার সঙ্গে আজকের ছাত্রসমাজের ভূমিকা সম্পৃক্ত। কারণ তারাই একসময় জাতির হাল ধরবে। তাদের কৃতকর্মের সফলতার ওপরই নির্ভর করবে জাতির ভবিষ্যৎ। বস্তুত একটি দেশ গঠনে যেকোনো দেশের ছাত্রসমাজ যুগোপযোগী ভূমিকা রাখতে পারে। বিশ্বের যেকোনো দেশে ছাত্রসমাজ তাদের আর্থসামাজিক, সাংস্কৃতিক ও রাজনৈতিক বাস্তবতার আলোকেই তাদের দেশ গঠনের কার্যক্রম নির্ধারণ করে।

দেশের গঠনমূলক কাজে ছাত্ররাই সবচেয়ে বেশি কার্যকর ভূমিকা পালন করতে পারে। সমাজ, দেশ ও জাতির সমস্যাগুলো দূর করা গেলেই দেশের উন্নতি হবে। আর এই সমস্যাগুলো দূরীকরণে ছাত্রসমাজ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। এর জন্য প্রথমেই প্রয়োজন দেশপ্রেম। ছাত্রসমাজ যদি রাষ্ট্রের প্রতি আনুগত্য স্বীকার করে দেশাত্মবোধে উজ্জীবিত হতে পারে এবং তা দেশের সর্বস্তরের জনগণের মধ্যে ছড়িয়ে দিতে পারে, তাহলেই জাতির ঐক্য প্রতিষ্ঠা হবে। তখন সবাই মিলে দেশ গঠনে ভূমিকা রাখতে পারবে।

দেশের মূল সমস্যাগুলোর অন্যতম নিরক্ষরতার অভিশাপ থেকে জাতিকে মুক্ত করতে ছাত্রসমাজের ভূমিকা সবচেয়ে কার্যকর।

ছাত্ররা যদি ঘুষ-দুর্নীতিসহ সব ধরনের নৈতিক অবক্ষয়ের বিরুদ্ধে সোচ্চার হয় এবং নিজেরাও সততার অনুশীলন করে, তাহলে অদূর ভবিষ্যতে বাংলাদেশ হতে পারে একটি দুর্নীতিমুক্ত সমৃদ্ধ দেশ।

ছাত্রসমাজ যদি নিজেরাই আত্মকর্মসংস্থানের উপায় বের করতে পারে, তাহলে দেশে বেকারত্ব দূর হবে। ধন্যবাদ সবাইকে।

 

প্রশ্ন : মাদকাসক্তির কুফল সম্পর্কে সচেতনতা সৃষ্টির লক্ষ্যে একটি ভাষণ রচনা করো।

অথবা, মাদকদ্রব্যের ভয়াবহ পরিণতি সম্পর্কে সচেতনতা সৃষ্টির লক্ষ্যে যুবসমাজের উদ্দেশে একটি ভাষণ রচনা করো।

উত্তর : সম্মানিত সভাপতি, সুপ্রিয় সুধীবৃন্দ—আসসালামু আলাইকুম।

আমাদের অনেক সামাজিক সমস্যা আছে। আমরা যদি এখনই সচেতন হতে না পারি, কার্যকর পদক্ষেপ নিতে না পারি, তাহলে অনেক পরিবারেই নেমে আসবে মাদকের সর্বনাশা অভিশাপ।

মাদকাসক্ত তরুণরা আজ নানা অসামাজিক কাজে জড়িত। তাই এ মরণ নেশা থেকে যুবসমাজকে বাঁচাতে মাদকাসক্তির কারণ উদ্ঘাটন করে প্রতিকার করা জরুরি হয়ে পড়েছে।

খারাপ বন্ধুদের সঙ্গে মিশেও মাদকাসক্ত হচ্ছে অসংখ্য উঠতি বয়সের তরুণ।

আজ শহর থেকে গ্রামে, বৃদ্ধ থেকে তরুণ—সব বয়সী ও পেশার লোকদের মধ্যে মাদকাসক্তির ভয়ংকর নেশা ছড়িয়ে পড়ছে। কিন্তু তারা জানে না, মাদকাসক্তির ক্ষতিকর প্রভাব কতটা ভয়ংকর। এ দেশের যুবসমাজের বড় একটা অংশ মাদকাসক্ত হওয়ার ফলে আমাদের জনশক্তি ক্রমেই দুর্বল ও নির্জীব হয়ে পড়ছে। ফলে তাদের মেধা ভালো কোনো কাজে আসছে না। এর সঙ্গে অবনতি ঘটছে মানবিক মূল্যবোধ ও সামাজিক সম্পর্কের। এর বিরূপ প্রভাব পড়ছে গোটা সমাজ ও রাষ্ট্রে।

বিপথগামী তরুণসমাজকে সুস্থ পথে ফিরিয়ে আনার দায়িত্ব আমাদেরই।

এর প্রতিকারে সরকারের পাশাপাশি সব শ্রেণির মানুষকে এগিয়ে আসতে হবে। মাদকাসক্তির কুফল সম্পর্কে সচেতনতা সৃষ্টি, পারিবারিক প্রতিরোধ জোরদার, ধর্মীয় অনুভূতি সৃষ্টিকরণসহ মাদকাসক্তদের পুনর্বাসন করতে হবে। তাহলেই সমাজে ন্যায়বিচার, মানবিক চেতনা ও আদর্শ প্রতিষ্ঠা পাবে।

আর মাদকের ভয়াল ছোবল থেকে জাতি রক্ষা পাবে।

ধন্যবাদ সবাইকে।


মন্তব্য