kalerkantho

বৃহস্পতিবার । ৮ ডিসেম্বর ২০১৬। ২৪ অগ্রহায়ণ ১৪২৩। ৭ রবিউল আউয়াল ১৪৩৮।


নবম ও দশম শ্রেণি : পৌরনীতি

অনুধাবনমূলক প্রশ্ন

তাহেরা খানম সহকারী শিক্ষক মিরপুর সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়, মিরপুর, ঢাকা   

৭ অক্টোবর, ২০১৬ ০০:০০



প্রথম অধ্যায় : পৌরনীতি ও নাগরিকতা

 

     আইয়ান দ্বীপের আয়তন ৮০ হাজার বর্গকিলোমিটার। এখানে প্রায় এক কোটি লোক বাস করে।

দ্বীপটি পরিচালনার জন্য একটি সরকার আছে। এ সরকার দ্বীপটির সার্বভৌমত্ব রক্ষায় বদ্ধপরিকর।

     (ক) ‘সিভিটাস’ শব্দের অর্থ কী?

     (খ) সমাজ বলতে কী বোঝো?

     (গ) উদ্দীপকে আইয়ান দ্বীপকে কোন ধরনের সংগঠন বলা যায়? ব্যাখ্যা করো।

     (ঘ) তুমি কী মনে করো উক্ত সংগঠনের জন্য জনসমষ্টি, নির্দিষ্ট ভূখণ্ড, সরকার ও সার্বভৌমত্ব অপরিহার্য? তোমার উত্তরের সপক্ষে যুক্তি দাও।

 

     উত্তর :

     (ক) ‘সিভিটাস’ শব্দের অর্থ নগররাষ্ট্র।

     (খ) সমাজ বলতে একটি সংঘবদ্ধ জনগোষ্ঠীকে বোঝায়, যারা কোনো সাধারণ উদ্দেশ্য সাধনের জন্য একত্রিত হয়।

     একদল লোক যখন সাধারণ উদ্দেশ্য সাধনের জন্য সংঘবদ্ধ হয়ে বসবাস করে, তখনই সমাজ গঠিত হয়। সমাজের এ ধারণাটি বিশ্লেষণ করলে এর প্রধান দুটি বৈশিষ্ট্য লক্ষ করা যায়। যথা—ক) বহুলোকের সংঘবদ্ধভাবে বসবাস এবং (খ) ওই সংঘবদ্ধতার পেছনে সাধারণ উদ্দেশ্য। তা ছাড়া সমাজের সদস্যদের মধ্যে আরো কিছু বৈশিষ্ট্য লক্ষ করা যায়—ঐক্য ও পারস্পরিক সহযোগিতা, নির্ভরশীল, ক্রিয়া-প্রতিক্রিয়া, সাদৃশ্য-বৈসাদৃশ্য ইত্যাদি।

     (গ) উদ্দীপকে আইয়ান দ্বীপকে রাষ্ট্র নামক সংগঠন বলা যায়।

     রাষ্ট্র একটি রাজনৈতিক প্রতিষ্ঠান। বিশ্বের মানুষ কোনো না কোনো রাষ্ট্রে বসবাস করে। অধ্যাপক গার্নার বলেন, ‘সুনির্দিষ্ট ভূখণ্ডে স্থায়ীভাবে বসবাসকারী সুসংগঠিত সরকারের প্রতি স্বভাবজাতভাবে আনুগত্যশীল, বহিঃশত্রুর নিয়ন্ত্রণ হতে মুক্ত, স্বাধীন জনসমষ্টিকে রাষ্ট্র বলে। ’

     উদ্দীপকে আইয়ান দ্বীপের একটি নির্দিষ্ট আয়তনের ভূখণ্ড রয়েছে। এখানে জনসমষ্টি রয়েছে এবং জনসমষ্টিকে পরিচালনার জন্য সরকার রয়েছে। ভূখণ্ডটির সার্বভৌম ক্ষমতাও রয়েছে। অর্থাৎ আইয়ান দ্বীপের রাষ্ট্র গঠনের চারটি উপাদান, যথা—জনসমষ্টি, নির্দিষ্ট ভূখণ্ড, সার্বভৌমত্ব ও সরকার রয়েছে। এ চারটি উপাদান উপস্থিত থাকলে তাকে রাষ্ট্র বলা যায়। রাষ্ট্র গঠনের একটি অপরিহার্য উপাদান হচ্ছে জনসমষ্টি। কোনো ভূখণ্ডে একটি জনগোষ্ঠী স্থায়ীভাবে বসবাস করলেই রাষ্ট্র গঠিত হতে পারে। তবে রাষ্ট্র গঠনের জন্য কী পরিমাণ জনসংখ্যা প্রয়োজন তার কোনো সুনির্দিষ্ট নিয়ম নেই। রাষ্ট্র গঠনের জন্য একটি নির্দিষ্ট ভূখণ্ডও থাকতে হবে। ভূখণ্ড বলতে একটি রাষ্ট্রের স্থলভাগ, জলভাগ ও আকাশসীমাকে বোঝায়। রাষ্ট্রের ভূখণ্ড ছোটও হতে পারে আবার বড়ও হতে পারে। রাষ্ট্রের অপর একটি গুরুত্বপূর্ণ উপাদান হচ্ছে সরকার। রাষ্ট্রের সব কার্যাবলি সরকারের মাধ্যমে পরিচালিত হয়। আইন বিভাগ, শাসন বিভাগ ও বিচার বিভাগ নিয়ে সরকার গঠিত হয়। রাষ্ট্রের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ উপাদান হচ্ছে সার্বভৌমত্ব। এটি রাষ্ট্রের চরম, পরম ও সর্বোচ্চ ক্ষমতা। সার্বভৌম ক্ষমতাবলে একটি রাষ্ট্র অন্য রাষ্ট্রের খবরদারি ও প্রভাব থেকে মুক্ত থাকে। আইয়ান দ্বীপে রাষ্ট্র গঠনের অপরিহার্য এ চারটি উপাদানই বিদ্যমান থাকায় তাকে একটি রাষ্ট্র বলা যায়।

      (ঘ) আমি মনে করি উক্ত সংগঠন বা রাষ্ট্রের জন্য জনসমষ্টি, নির্দিষ্ট ভূখণ্ড, সরকার ও সার্বভৌমত্ব—এ চারটি উপাদানই অপরিহার্য।

      মানুষের জীবনযাপন প্রণালি একটি নির্দিষ্ট নিয়মে পরিচালনার জন্য রাষ্ট্রের প্রয়োজন। শুধু তাই নয়, মানব সমাজের শৃঙ্খলা, সুখ, সমৃদ্ধি, ন্যায়বিচার প্রভৃতি নিশ্চিত করার জন্য রাষ্ট্রের চেয়ে ভালো আর কোনো সংগঠন নেই। আর এ রাষ্ট্র গঠনের জন্য উপরোল্লিখিত চারটি উপাদানই অপরিহার্য।

      রাষ্ট্র গঠনের জন্য জনসমষ্টি অবশ্যই থাকতে হবে। কেননা জনসমষ্টি না থাকলে রাষ্ট্র অর্থহীন। জনমানববিহীন বিরানভূমিতে রাষ্ট্র গঠিত হতে পারে না। কারণ মানুষের জন্যই রাষ্ট্র। আবার জনসমষ্টি থাকলেও তাদের যদি একটি নির্দিষ্ট ভূখণ্ড না থাকে তাহলেও রাষ্ট্র গঠন সম্ভব নয়। কেননা নির্দিষ্ট ভূখণ্ড ছাড়া রাষ্ট্র চিহ্নিত করা সম্ভব নয়। নির্দিষ্ট ভূখণ্ড না থাকলে তারা যাযাবর জীবনযাপন করে। যাযাবররা কখনো রাষ্ট্র গঠন করতে পারে না। তবে রাষ্ট্র গঠনের জন্য নির্দিষ্ট ভূখণ্ডটি কত বড় হবে তার কোনো সুনির্দিষ্ট নিয়ম নেই। রাষ্ট্র গঠনের আরেকটি অপরিহার্য উপাদান হচ্ছে সরকার। সরকার ছাড়াও রাষ্ট্র গঠিত হতে পারে না। কেননা নির্দিষ্ট ভূখণ্ডে জনসমষ্টি থাকা সত্ত্বেও জনসমষ্টিকে একটি নিয়মের মধ্যে পরিচালনার জন্য যদি কোনো প্রতিষ্ঠান না থাকে, তাহলে তারা বিশৃঙ্খল হয়ে পড়বে। রাষ্ট্র গঠনের জন্য সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ উপাদান হচ্ছে সার্বভৌমত্ব। ওপরে উল্লিখিত তিনটি উপাদান থাকা সত্ত্বেও তাকে রাষ্ট্র বলা যায় না, যদি তার সার্বভৌমত্ব না থাকে। কারণ সার্বভৌম ক্ষমতা না থাকলে তার কোনো স্বাধীনতা থাকে না। আর স্বাধীনতা না থাকলে তাকে রাষ্ট্র বলা যায় না।

     ওপরের আলোচনার আলোকে বলা যায়, জনসমষ্টি, নির্দিষ্ট ভূখণ্ড, সরকার ও সার্বভৌমত্ব—এ চারটি উপাদানের যেকোনো একটি অনুপস্থিত থাকলে তাকে রাষ্ট্র বলা যায় না। সুতরাং রাষ্ট্র গঠনের জন্য এ চারটি উপাদানই অপরিহার্য বা আবশ্যক।


মন্তব্য