kalerkantho

মঙ্গলবার । ৬ ডিসেম্বর ২০১৬। ২২ অগ্রহায়ণ ১৪২৩। ৫ রবিউল আউয়াল ১৪৩৮।


জেএসসি প্রস্তুতি : বাংলাদেশ ও বিশ্বপরিচয়

অনুধাবনমূলক প্রশ্ন

তাহেরা খানম, সহকারী শিক্ষক মিরপুর সরকারি উচ্চ বিদ্যালয় মিরপুর, ঢাকা   

৭ অক্টোবর, ২০১৬ ০০:০০



জেএসসি প্রস্তুতি : বাংলাদেশ ও বিশ্বপরিচয়

দ্বিতীয় অধ্যায় : বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধ

১। মুক্তিযুদ্ধের সময় নিয়মিত বাহিনী গঠিত হয়েছিল কিভাবে?

উত্তর : মুক্তিযুদ্ধের সময় ইস্ট বেঙ্গল রেজিমেন্টের ইউনিটগুলোর বাঙালি সৈনিকদের নিয়ে নিয়মিত বাহিনী গঠিত হয়েছিল।

সরকারিভাবে নিয়মিত বাহিনীর নামকরণ করা হয়েছিল এমএফ (মুক্তিফৌজ)। মুক্তিযুদ্ধকালে বাংলাদেশ সরকার নিয়মিত বাহিনী হিসেবে সেনাবাহিনী, বিমান ও নৌবাহিনী গড়ে তোলে। এসব বাহিনী একযোগে পাকিস্তানি হানাদার বাহিনীর বিরুদ্ধে যুদ্ধ করে।

২। মুক্তিযুদ্ধের সময় অনিয়মিত বাহিনী গঠিত হয়েছিল কিভাবে?

উত্তর : মুক্তিযুদ্ধের সময় ছাত্র, যুবক, শ্রমিক, কৃষক এবং সব পর্যায়ের মুক্তিযোদ্ধাদের নিয়ে বিভিন্ন সেক্টরের অধীনে অনিয়মিত বাহিনী গঠিত হয়েছিল।

অনিয়মিত বাহিনীর সরকারি নাম ছিল ‘গণবাহিনী’ বা এফএফ (ফ্রিডম ফাইটার বা মুক্তিযোদ্ধা)। এ বাহিনীর সদস্যদের নিজ নিজ এলাকায় গেরিলা পদ্ধতিতে যুদ্ধ করার জন্য পাঠানো হতো। এ ছাড়া ছাত্রলীগের বাছাইকৃত কর্মীদের নিয়ে গঠিত হয় মুজিব বাহিনী। কমিউনিস্ট পার্টি ন্যাপ (মোজাফফর), ন্যাপ (ভাসানী) ও ছাত্র ইউনিয়নের আলাদা গেরিলা দল ছিল।

৩। মুক্তিযুদ্ধের সময় আঞ্চলিক বাহিনী গঠিত হয়েছিল কিভাবে?

উত্তর : মুক্তিযুদ্ধের সময় সেক্টর এলাকার বাইরে আঞ্চলিক পর্যায়ে কিছুসংখ্যক বাহিনী গড়ে ওঠে, যা আঞ্চলিক বাহিনী নামে পরিচিত।

আঞ্চলিক বাহিনীর মধ্যে উল্লেখযোগ্য হচ্ছে—কাদেরিয়া বাহিনী (টাঙ্গাইল), আফসার ব্যাটালিয়ন (ভালুকা, ময়মনসিংহ), বাতেন বাহিনী (টাঙ্গাইল), হেমায়েত বাহিনী (গোপালগঞ্জ, বরিশাল), হালিম বাহিনী (মানিকগঞ্জ), আকবর বাহিনী (মাগুরা), লতিফ মীর্জা বাহিনী (সিরাজগঞ্জ, পাবনা) ও জিয়া বাহিনী (সুন্দরবন)। এ ছাড়া ছিল ঢাকার গেরিলা দল, যারা ঢাকা শহরের বড় বড় স্থাপনা, বিদ্যুৎকেন্দ্র, হোটেল শেরাটন (বর্তমানে রূপসী বাংলা), ব্যাংক ও টেলিভিশন ভবনে বোমা বিস্ফোরণ ঘটায়।

৪। মুক্তিযুদ্ধের সময় সেক্টর গঠিত হয়েছিল কিভাবে?

উত্তর : মুক্তিযুদ্ধের সময় যুদ্ধ পরিচালনার সুবিধার্থে সমগ্র বাংলাদেশকে ১১টি সেক্টরে ভাগ করা হয়েছিল।

কয়েকটি জেলা নিয়ে এক একটি সেক্টর গঠিত হয়েছিল। ১১টি সেক্টরে ১১ জন সেক্টর কমান্ডার নিযুক্ত করা হয়। প্রত্যেক সেক্টর বেশ কয়েকটি সাব-সেক্টরে বিভক্ত ছিল।

৫। অপারেশন জ্যাকপট কী?

উত্তর : বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের সময় নৌপথে পরিচালিত একটি বিশেষ অভিযানের নাম অপারেশন জ্যাকপট।

এ অভিযানে শুধু এক দিনে চট্টগ্রাম বন্দরে ১০টি এবং মংলা বন্দরে ৫০টি জাহাজ ধ্বংস করে মুক্তিযোদ্ধা নৌ-কমান্ডোরা সারা পৃথিবীতে সাড়া ফেলে দেন। এ অভিযান স্বাধীনতাযুদ্ধে বাঙালিদের সফলতার জন্য একটি মাইলফলক ছিল।

৬। মুক্তিযুদ্ধে বিরোধী শক্তির ভূমিকা কেমন ছিল?

উত্তর : মুক্তিযুদ্ধে বিরোধী শক্তি পাকিস্তানিদের গুপ্তচর ও সহযোগী হিসেবে কাজ করেছিল।

তখনকার হিসাবে বাংলাদেশের সাড়ে সাত কোটি মানুষের প্রায় সবাই মুক্তিযুদ্ধের পক্ষে ছিল। তবে এ দেশের মানুষের খুব ক্ষুুদ্র একটি অংশ আমাদের মুক্তিযুদ্ধের বিরোধিতা ও দেশবাসীর স্বার্থের সঙ্গে বিশ্বাসঘাতকতা করে পাকিস্তানি বাহিনীর সহযোগী হয়। পাকিস্তানের অখণ্ডতার নামে ও ধর্মের দোহাই দিয়ে এই স্বাধীনতাবিরোধীরা পাকিস্তানি সৈন্যদের সঙ্গে মিলে হত্যা, লুট, অগ্নিকাণ্ড, নারী নির্যাতনসহ সারা দেশে ত্রাসের রাজত্ব কায়েম করে। মুক্তিযোদ্ধা, মুক্তিকামী বাঙালি ও প্রগতিশীল বাঙালিদের খুঁজে বের করে তাদের তালিকা তারা পাকিস্তানি বাহিনীর হাতে তুলে দেয়। তাদের অত্যাচার কখনো কখনো পাকিস্তানি বাহিনীর অত্যাচারকেও ছাড়িয়ে যেত।

৭। শান্তি কমিটি কী?

উত্তর : মুক্তিযুদ্ধের সময় পাকিস্তানি সেনাবাহিনীর বেশ কয়েকটি সহযোগী সংগঠন গড়ে উঠেছিল, যার মধ্যে শান্তি কমিটি অন্যতম।

৯ এপ্রিল ১৯৭১, ১৪০ সদস্যবিশিষ্ট ঢাকা নাগরিক শান্তি কমিটি গঠিত হয়। এ কমিটির সদস্যদের মধ্যে ছিল মুক্তিযুদ্ধবিরোধী জামায়াতে ইসলামী, নেজামে ইসলামী, পিডিপি ও মুসলিম লীগ দলের নেতারা। মধ্য এপ্রিলে গঠিত কেন্দ্রীয় শান্তি কমিটির কার্যক্রম জেলা, থানা, এমনকি কোথাও কোথাও ইউনিয়ন ও ওয়ার্ড পর্যন্ত প্রসারিত হয়। মূলত এরাই পাকিস্তানি বাহিনীকে পথ চিনিয়ে প্রত্যন্ত অঞ্চলে নিয়ে যায়।

৮। রাজাকার বলতে কাদের বোঝানো হয়?

উত্তর : রাজাকার হচ্ছে মুক্তিযুদ্ধের সময় উগ্র-ধর্মান্ধ রাজনৈতিক দলগুলোর প্রত্যক্ষ সহায়তায় গড়ে ওঠা একটি দল।

মুক্তিযুদ্ধের সময় উগ্র-ধর্মান্ধ রাজনৈতিক দলগুলোর প্রত্যক্ষ সহায়তা ও তত্ত্বাবধানে রাজাকার বাহিনী গড়ে ওঠে। জামায়াত নেতা মওলানা এ কে এম ইউসুফ ১৯৭১ সালের মে মাসে খুলনায় সর্বপ্রথম রাজাকার বাহিনী গঠন করেন। ধীরে ধীরে অন্যান্য জায়গায়ও রাজাকার বাহিনী গঠিত হয়। ইসলামী ছাত্র সংঘ ও অন্যান্য উগ্র-ধর্মভিত্তিক দলের সদস্যরা ছাড়াও দাগি আসামি ও বেকার যুবকরা রাজাকার বাহিনীতে যোগ দেয়। রাজাকাররা এ দেশে গণহত্যাসহ সাধারণ মানুষের ওপর অনেক অত্যাচার চালায়।

৯। আলবদর কারা?

উত্তর : আলবদর হচ্ছে মুক্তিযুদ্ধের সময় জামায়াতে ইসলামী ছাত্র সংগঠন ইসলামী ছাত্র সংঘের ছাত্রদের নিয়ে গড়ে ওঠা একটি বাহিনী।

আলবদররা ছিল সাক্ষাৎ যমদূত। জামায়াতে ইসলামী ছাত্র সংগঠন ইসলামী ছাত্র সংঘের ছাত্রদের নিয়ে এ বাহিনী গড়ে উঠে। ১৯৭১ সালের ডিসেম্বর মাসের প্রথম দিকে পাকিস্তানি বাহিনী বুদ্ধিজীবী অপহরণ, নির্যাতন ও হত্যার জন্য যে পরিকল্পনা করে তা বাস্তবায়ন করে এই আলবদররা।

১০। আলশামস কারা?

উত্তর : আলশামস মুক্তিযুদ্ধের সময় গড়ে ওঠা আলবদরের মতোই আরেকটি সংগঠন।

মুসলিম লীগ ও অন্যান্য সাম্প্রদায়িক রাজনৈতিক দলের ছাত্র সংগঠনগুলো সম্মিলিতভাবে আলশামস বাহিনী গঠন করে। এ বাহিনীও মুক্তিযুদ্ধের চরম বিরোধিতা করে এবং এ দেশের বহু সাধারণ মানুষকে হত্যা ও নির্যাতন করে।

১১। ডা. মালিক মন্ত্রিসভা কী?

উত্তর : পাকিস্তান সরকার ডা. আব্দুল মোতালিব মালিককে গভর্নর নিযুক্ত করলে তাঁর নেতৃত্বে যে মন্ত্রিসভা গঠিত হয় তাই ডা. মালিক মন্ত্রিসভা নামে পরিচিত।

পাকিস্তান সরকার বহির্বিশ্বকে বিভ্রান্ত করতে গভর্নর জেনারেল টিক্কা খানকে সরিয়ে তাঁর জায়গায় বেসামরিক ব্যক্তি ডা. আব্দুল মোতালিব মালিককে গভর্নর নিযুক্ত করে। তাঁর নেতৃত্বে ১৭ সেপ্টেম্বর মুক্তিযুদ্ধের বিরোধিতাকারী তথাকথিত বেসামরিক সরকার গঠিত হয়। ১০ সদস্যবিশিষ্ট মালিক মন্ত্রিসভা সামরিক জান্তার পক্ষ নিয়ে বাঙালির মুক্তিযুদ্ধের বিরুদ্ধে অবতীর্ণ হয় এবং বিভিন্ন বক্তৃতা-বিবৃতি ও নির্দেশের মাধ্যমে স্বাধীনতাবিরোধী কর্মকাণ্ড অব্যাহত রাখে। ১৪ ডিসেম্বর এ সরকার পদত্যাগ করতে বাধ্য হয়।

১২। মুক্তিযুদ্ধের সময় প্রবাসী বাঙালিদের ভূমিকা কেমন ছিল?

উত্তর : মুক্তিযুদ্ধের সময় বিশ্বের বিভিন্ন দেশে বসবাসকারী বাঙালিরা বাংলাদেশে গণহত্যার প্রতিবাদে ও মুক্তিযুদ্ধের সমর্থনে একত্রিত হয়।

এ সময় যুক্তরাজ্যকে কেন্দ্র করে সমগ্র ইউরোপ প্রবাসীরা আন্দোলন চালায়। যুক্তরাষ্ট্র, জাপান, সুইডেন, ফ্রান্স, কানাডা ও ইন্দোনেশিয়ার বাঙালিরাও সোচ্চার হয়ে ওঠে। গণহত্যার প্রতিবাদে তারা সভা-সমাবেশ আয়োজন করে, মুক্তিযুদ্ধের পক্ষে জনমত গঠন ও অর্থ সংগ্রহ করে। কেউ কেউ ভারতে গিয়ে যুদ্ধেও অংশ নেয়। যাঁরা এ সময় জীবন ও চাকরির মায়া ত্যাগ করে বাংলাদেশের পক্ষে যোগ দেন, তাঁদের মধ্যে সুইডেন, সুইজারল্যান্ড, যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য, ইরাক, ফিলিপাইন, আর্জেন্টিনা, ভারত ও হংকং দূতাবাসের বাঙালি কর্মকর্তারা উল্লেখযোগ্য।

১৩। মুক্তিযুদ্ধের সময় বহির্বিশ্বে বাংলাদেশ সরকারের মিশনগুলোর ভূমিকা তুলে ধরো।

উত্তর : মুক্তিযুদ্ধের সময় বহির্বিশ্বে বাংলাদেশ সরকারের মিশনগুলোর ভূমিকা ছিল খুবই গুরুত্বপূর্ণ।

মুক্তিযুদ্ধের প্রথম দিকেই মুজিবনগর সরকার দিল্লি ও কলকাতায় বাংলাদেশের দুটি মিশন স্থাপন করে। কলকাতায়ই প্রথম বাংলাদেশ মিশন স্থাপিত হয়। এ ছাড়া মুজিবনগর সরকার ওয়াশিংটন, নিউ ইয়র্ক ও লন্ডনে বাংলাদেশ মিশন স্থাপন করে। এসব মিশন বাংলাদেশের পক্ষে মিছিল, সমাবেশ, অনুষ্ঠান, পার্লামেন্ট সদস্যদের সমর্থন আদায়, বিশ্ববিদ্যালয়সহ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে জনমত গড়ে তোলার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখে।

১৪। বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধে বহির্বিশ্বের ভূমিকা তুলে ধরো।

উত্তর : বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধে বহির্বিশ্বের কয়েকটি দেশ বিভিন্নভাবে সহযোগিতা করেছিল। আবার কয়েকটি দেশ এর বিরোধিতাও করে।

বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধে পৃথিবীর বৃহৎ কয়েকটি দেশে যেমন—যুক্তরাষ্ট্র, তত্কালীন সোভিয়েত ইউনিয়ন, চীন এবং প্রতিবেশী ভারত বিভিন্নভাবে যুক্ত হয়ে পড়ে। এসব দেশের মধ্যে ভারত ও সোভিয়েত ইউনিয়ন সরাসরি আমাদের মুক্তিযুদ্ধের পক্ষে ছিল। অন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্র ও চীন ছিল পাকিস্তানের পক্ষে।

১৫। বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধে ভারতের ভূমিকা কেমন ছিল?

উত্তর : বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধে ভারত বিভিন্নভাবে সহযোগিতা করে।

ভারত সরকার ২৫ মার্চ থেকে সংঘটিত পাকিস্তানি বাহিনীর গণহত্যার নিন্দা করে। গণহত্যার হাতে থেকে বাঁচতে সীমান্ত পেরিয়ে আসা প্রায় এক কোটি শরণার্থীকে ভারত আশ্রয় দেয় এবং তাদের ভরণপোষণের দায়িত্ব নেয়। ভারতের মাটিতে এপ্রিলের শেষ দিকে বাঙালি যুবকদের সশস্ত্র ট্রেনিং দেওয়া শুরু হয়, যা নভেম্বর মাস পর্যন্ত চলে। পাশাপাশি কলকাতায় প্রবাসী বাংলাদেশ সরকার পরিচালনা ও স্বাধীন বাংলা বেতার কেন্দ্র নামে এই সরকারকে বেতার কেন্দ্র স্থাপনে ভারত সহায়তা করে। এ ছাড়া ভারতের তত্কালীন প্রধানমন্ত্রী ইন্দিরা গান্ধীসহ বিভিন্ন মন্ত্রী, নেতা ও কর্মকর্তারা বিদেশ সফর করে বাংলাদেশের পক্ষে বিশ্বজনমত গঠনে ভূমিকা রাখেন। ভারতীয় সৈন্যরাও বাঙালি মুক্তিবাহিনীর সঙ্গে যৌথভাবে যুদ্ধে অংশগ্রহণ করে।

১৬। বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধে সোভিয়েত ইউনিয়নের ভূমিকা কেমন ছিল?

উত্তর : বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের পক্ষে তত্কালীন সোভিয়েত ইউনিয়নের ভূমিকা ছিল অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

সোভিয়েত ইউনিয়ন প্রথম থেকে শেষ পর্যন্ত বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের পক্ষে ভূমিকা রেখেছিল। এপ্রিলের গুরুতেই সোভিয়েত প্রেসিডেন্ট বাংলাদেশে গণহত্যা বন্ধ করার জন্য প্র্রেসিডেন্ট ইয়াহিয়াকে চিঠি দেন। ৩ ডিসেম্বর চূড়ান্ত যুদ্ধ শুরু হলে সোভিয়েত ইউনিয়ন যুদ্ধবিরতি বিলম্বিত করার সিদ্ধান্ত গ্রহণ করে। উদ্দেশ্য ছিল যেন যৌথ বাহিনী সামরিক বিজয়ের জন্য প্রয়োজনীয় সময় ও সুযোগ পায়। এ বাহিনীর ঢাকা দখল করার আগমুহূর্ত পর্যন্ত যেকোনো প্রকারে যুদ্ধবিরতির পদক্ষেপকে ঠেকিয়ে রাখাই নিরাপত্তা পরিষদে সোভিয়েতের ভেটো দানের উদ্দেশ্য ছিল। তাদের এ উদ্দেশ্য সফল হয়।


মন্তব্য