kalerkantho

শনিবার । ৩ ডিসেম্বর ২০১৬। ১৯ অগ্রহায়ণ ১৪২৩। ২ রবিউল আউয়াল ১৪৩৮।


এইচএসসি : যুক্তিবিদ্যা দ্বিতীয় পত্র

সৃজনশীল প্রশ্ন

মো. আব্দুল কুদ্দুস, প্রভাষক ঢাকা রেসিডেনসিয়াল মডেল কলেজ মোহাম্মদপুর, ঢাকা   

৫ অক্টোবর, ২০১৬ ০০:০০



দ্বিতীয় অধ্যায়

যৌক্তিক বিভাগ

 

উদ্দীপক

সাইফুল ও আসাদ দুজন জাম খাচ্ছে। সাইফুল বলল, জামগুলো খুব মজা।

দেখতে যেমন কালো, বিচিগুলোও ছোট। অন্যদিকে আসাদ বলল, কলেজ মাঠের পূর্ব পাশে দাঁড়ানো এই জামগাছটি ধীরে ধীরে বড় হচ্ছে, ডালপালা অনেক, পাতাও প্রচুর। তারা উভয়ে এভাবে জাম ও জামগাছকে বিভাজন করল।

ক. যৌক্তিক বিভাগ কী?

খ. যৌক্তিক বিভাগকে কেন মানসিক বিভাগ বলে?

গ. উদ্দীপকের বিবরণটি যে প্রসঙ্গে এসেছে তার প্রকৃতি ব্যাখ্যা করো।

ঘ. সাইফুল ও আসাদের ক্ষেত্রে কি যৌক্তিক বিভাগের একই অনুপপত্তি ঘটেছে?

 

উত্তর :

ক. কোনো একটি নিয়ম বা সূত্র অনুসারে একটি জাতি বা শ্রেণিকে তার অন্তর্ভুক্ত বিভিন্ন উপজাতি বা উপশ্রেণিতে বিভক্ত করার মানসিক প্রক্রিয়াকে যৌক্তিক বিভাগ বলে।

খ. যৌক্তিক বিভাগকে মানসিক প্রক্রিয়া বলা হয়, কারণ যে শ্রেণি বা জাতিকে বিভাজন করা হয়, তাকে বস্তুগতভাবে আমাদের সামনে উপস্থিত থাকার প্রয়োজন হয় না এবং তা সম্ভবও নয়। বরং আমরা বিষয়টিকে স্পষ্ট করার জন্য এবং জ্ঞান লাভের উদ্দেশ্যে একই সময় একটি নীতির ভিত্তিতে একাধিক শ্রেণিতে ভাগ করি। যেমন—সমগ্র প্রাণী জাতিকে মেরুদণ্ডের ভিত্তিতে মেরুদণ্ডী ও অমেরুদণ্ডী প্রাণীতে ভাগ করা।

গ. উদ্দীপকের জামের প্রকার ও জামগাছের বিবরণ থেকে বোঝা যায়—এখানে যৌক্তিক বিভাগের প্রসঙ্গ এসেছে। নিচে যৌক্তিক বিভাগের প্রকৃতি ব্যাখ্যা করা হলো।

(১) যৌক্তিক বিভাগ যুক্তিবিদ্যার গুরুত্বপূর্ণ একটি আলোচনা। যৌক্তিক বিভাগ পদের ব্যক্তর্থের ভিত্তিতে পদের বিশ্লেষণ। অর্থাৎ পদের পরিমাণ বা সংখ্যাগত দিকটিকে স্পষ্ট করার জন্যই যৌক্তিক বিভাগ। অবশ্যই যে পদটিকে বিভাজন করা হয়, সেটিকে শ্রেণিবাচক পদ হতে হয়।

(২) যৌক্তিক বিভাগ একটি মানসিক প্রক্রিয়া। অর্থাৎ যে জাতি বা শ্রেণিকে বিভাজন করা হয়, তার অনুপস্থিতিতে মনে মনে সেটিকে ভাগ করা যায়। তা ছাড়া যৌক্তিক বিভাগে একই সময় একটি বিশেষ নীতির ভিত্তিতে ভাগ করা হয়। যেমন—মানুষকে সততার ভিত্তিতে ভাগ করলে সৎ মানুষ ও অসৎ মানুষ এই দুই উপশ্রেণি পাওয়া যায়।

(৩) যৌক্তিক বিভাগের সঙ্গে তিনটি জিনিস রয়েছে—বিভাজ্য শ্রেণি বা বিভক্তমূল, বিভাজক উপশ্রেণি বা বিভক্ত উপজাতি ও সহবিভাগ। যে শ্রেণি বা জাতিকে বিভক্ত করা হয়, তাকে বলে বিভক্তমূল, বিভক্ত করার পর যে উপশ্রেণিগুলো তৈরি হয়, তাকে বলে বিভাজক উপশ্রেণি এবং যে প্রক্রিয়ায় এ কাজটি সম্পন্ন হয়, তাকে বলে সহবিভাগ।

(৪) যৌক্তিক বিভাগের সঙ্গে আরো দুটি বিষয় জড়িত—অঙ্গগত বিভাগ ও গুণগত বিভাগ। এগুলো দেখতে যৌক্তিক বিভাগের মতো মনে হলেও প্রকৃতপক্ষে এগুলো যৌক্তিক বিভাগের নিয়ম লঙ্ঘনজনিত অনুপপত্তি। উদ্দীপকের বিবরণটিতে আমরা এ ধরনের অনুপপত্তি দেখতে পাই।

ঘ. উদ্দীপকে নির্দেশিত সাইফুল ও আসাদের বিভাজনের ক্ষেত্রে একই ধরনের অনুপপত্তি ঘটেনি। বরং সাইফুলের ক্ষেত্রে গুণগত বিভাগ ও আসাদের ক্ষেত্রে অঙ্গগত বিভাগ অনুপপত্তি ঘটেছে। নিচে ব্যাখ্যা করা হলো।

প্রথমত সাইফুল সম্পর্কে বলা হয়েছে—তার জামগুলো স্বাদ, রং ও আকারের দিক থেকে উত্কৃষ্ট। এখানে সে জামকে রং, স্বাদ ও আকারের ভিত্তিতে ভাগ করে। যে বিভাগে কোনো বিশিষ্ট ব্যক্তি বা বস্তুকে তার বিভিন্ন গুণাবলিতে বিভক্ত করা হয় তাকে গুণগত বিভাগ বলে। সে যেহেতু জামকে স্বাদ, রং প্রভৃতিতে ভাগ করে, তাই এটি গুণগত বিভাগ। যৌক্তিক বিভাগের প্রথম নিয়ম অনুযায়ী বিভাজ্য পদটি শ্রেণিবাচক পদ হতে হবে। আবার পঞ্চম নিয়মে বলা হয়েছে, বিভাজ্য শ্রেণির নাম বিভক্ত উপশ্রেণির প্রতিটির সঙ্গে যুক্ত হবে। এখানে জাম একটি বিশেষ ফলের নাম, এটি শ্রেণিবাচক পদ নয় আর এর বিভিন্ন গুণের নাম উল্লেখ থাকায় প্রতিটির সঙ্গে গুণের নাম যোগ করলে প্রকৃতপক্ষে এখানে কোনো বিভাজনই হয় না। এ জন্য এখানে প্রথম ও পঞ্চম নিয়ম লঙ্ঘনজনিত অনুপপত্তি ঘটেছে।

আবার আসাদ জামগাছ সম্পর্কে এর ডালপালা, পাতা, আকার প্রভৃতিকে নির্দেশ করেছে। এখানে জামগাছকে যেভাবে বিভিন্ন অংশে বিভক্ত করা হয়েছে, সেটি অঙ্গগত বিভাগের অন্তর্ভুক্ত। যে বিভাগে বিশেষ ব্যক্তি বা বস্তুকে তার বিভিন্ন অংশে বিভক্ত করা হয়, তাকে অঙ্গগত বিভাগ বলে। এ ধরনের অনুপপত্তিও প্রথম ও পঞ্চম নিয়ম লঙ্ঘনের ফলে সৃষ্টি হয়।

তবে মূল কথা হলো একই ধরনের নিয়ম লঙ্ঘনের ফলে সৃষ্ট হলেও দুটি অনুপপত্তি সম্পূর্ণ দুই ধরনের। যৌক্তিক বিভাগের ক্ষেত্রে এসব বিষয় সতর্কতার সঙ্গে খেয়াল করতে হয়।


মন্তব্য