kalerkantho

রবিবার । ১১ ডিসেম্বর ২০১৬। ২৭ অগ্রহায়ণ ১৪২৩। ১০ রবিউল আউয়াল ১৪৩৮।


নবম ও দশম শ্রেণি : অর্থনীতি

সৃজনশীল প্রশ্ন

তাহেরা খানম, সহকারী শিক্ষক মিরপুর সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়, মিরপুর, ঢাকা   

২ অক্টোবর, ২০১৬ ০০:০০



       প্রথম অধ্যায় : অর্থনীতির পরিচয়

 

উদ্দীপকটি পড়ে নিচের প্রশ্নগুলোর উত্তর দাও :

রফিক ইউরোপের একটি দেশে পড়াশোনা করতে যায়। সে লক্ষ করে সে দেশের অধিকাংশ সম্পদ ও উত্পাদনের উপাদানের ওপর রাষ্ট্রের মালিকানা প্রতিষ্ঠিত।

অধিকাংশ শিল্পকারখানা ও উত্পাদন প্রতিষ্ঠানের মালিক সরকার এবং সেগুলো সরকারি নির্দেশে পরিচালিত হয়। কোন কোন দ্রব্য, কী পরিমাণে, কিভাবে এবং কার জন্য উত্পাদিত হবে, তা সরকার নির্ধারণ করে।

(ক) কোন জিনিসকে কেন্দ্র করে অর্থনীতি গড়ে ওঠে?

(খ) অর্থনীতিতে অভাব বলতে কী বোঝায়?

(গ) রফিক যে দেশে পড়াশোনা করতে যায় সে দেশে কোন ধরনের অর্থব্যবস্থা বিদ্যমান? ব্যাখ্যা করো।

(ঘ) উক্ত অর্থব্যবস্থা কি একটি কল্যাণমূলক অর্থব্যবস্থা? তোমার মতের সপক্ষে যুক্তি দাও।

 

উত্তর :

(ক) উত্তর : সম্পদকে কেন্দ্র করে অর্থনীতি গড়ে ওঠে।

(খ) মানুষ যা চায় তার সব কিছু পায় না। অর্থনীতিতে এই না পাওয়াকেই বলা হয় অভাব। মানুষের জীবনে অভাবের শেষ নেই। উদাহরণস্বরূপ তুমি একজন শিক্ষার্থী। ধরো, তোমার কাছে এক হাজার টাকা আছে। তোমার শার্ট, প্যান্ট ও ভালো জুতা দরকার। কিন্তু তোমার আছে মাত্র এক হাজার টাকা। তোমার প্রয়োজনের তুলনায় এই টাকার পরিমাণ অনেক কম। অর্থনীতিতে এটাকেই অভাব বলা হয়।

(গ) রফিক যে দেশে পড়াশোনা করতে যায় সে দেশে সমাজতান্ত্রিক অর্থব্যবস্থা বিদ্যমান।

যে অর্থব্যবস্থায় উত্পাদন, বণ্টন, বিনিময়, ভোগ প্রভৃতি সরকারের নির্দেশে পরিচালিত ও নিয়ন্ত্রিত হয়, তাকে সমাজতান্ত্রিক অর্থব্যবস্থা বলে। এ অর্থব্যবস্থায় সমাজের অধিকাংশ সম্পদ ও উত্পাদনের উপাদানের ওপর রাষ্ট্রের মালিকানা প্রতিষ্ঠিত থাকে, অধিকাংশ শিল্পকারখানা ও উত্পাদন প্রতিষ্ঠানের মালিক সরকার এবং সেগুলো সরকারি নির্দেশে পরিচালিত হয়ে থাকে। কোন কোন দ্রব্য, কী পরিমাণে, কিভাবে এবং কার জন্য উত্পাদিত হবে, তা সরকার নির্ধারণ করে দেয়।

উদ্দীপকে বলা হয়েছে রফিক যে দেশে যায় সে দেশের অর্থনীতিতে সমাজের অধিকাংশ সম্পদ ও উত্পাদনের উপাদানের ওপর রাষ্ট্রের মালিকানা প্রতিষ্ঠিত। সমাজতান্ত্রিক অর্থনীতিতেও অধিকাংশ সম্পদ (জমি, কলকারখানা, খনি ইত্যাদি) এবং উত্পাদনের উপাদানগুলোর মালিক হলো সরকার। অর্থাৎ সম্পদের ওপর রাষ্ট্রীয় মালিকানা বজায় থাকে। এ অর্থব্যবস্থায় সরকার দেশের উত্পাদন, বণ্টনসহ অন্য সব কাজ করে থাকে। কেন্দ্র বা সরকার কেন্দ্রীয়ভাবে সব পরিকল্পনা করে থাকে। সমাজতান্ত্রিক অর্থব্যবস্থায় অধিকাংশ ক্ষেত্রে ভোক্তারা সরকার নির্ধারিত উত্পাদিত দ্রব্যাদি ভোগ করে থাকে। কোনো ভোক্তা ইচ্ছাকৃত অর্থ ব্যয় করে কোনো কিছু ভোগ করতে পারে না। উদ্দীপকে বর্ণিত অর্থব্যবস্থার সঙ্গে এর ঘনিষ্ঠ মিল লক্ষ করা যায়। সুতরাং আমরা বলতে পারি, রফিক যে দেশে পড়াশোনা করতে যায় সে দেশে সমাজতান্ত্রিক অর্থব্যবস্থা বিদ্যমান।

 

(ঘ) আমি মনে করি উক্ত অর্থব্যবস্থা বা সমাজতান্ত্রিক অর্থব্যবস্থা একটি কল্যাণমূলক অর্থব্যবস্থা।

যে অর্থব্যবস্থা মানুষের কল্যাণ সাধন করে অর্থাৎ যে অর্থব্যবস্থা মানুষের অভাব-অনটন দূর করে, ধনী-দরিদ্রের ব্যবধান কমায়, দেশ ও জাতির অর্থনৈতিক উন্নতি সাধন করে, তাকেই কল্যাণমূলক অর্থব্যবস্থা বলা হয়।

উদ্দীপকে লক্ষ করা যায়, রফিক যে দেশে পড়াশোনা করতে যায়, সে দেশের অর্থনৈতিক ব্যবস্থা সরকারের নিয়ন্ত্রণাধীন, যা সমাজতান্ত্রিক অর্থব্যবস্থার বৈশিষ্ট্য। এ অর্থনৈতিক ব্যবস্থায় রাষ্ট্রের সব নাগরিক যাতে অর্থনৈতিক ক্ষেত্রে সমান সুযোগ-সুবিধা ভোগ করতে পারে এ উদ্দেশ্যে অর্থনৈতিক ব্যবস্থা সরকার পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণ করে। অর্থাৎ সমাজতান্ত্রিক অর্থব্যবস্থার লক্ষই জনগণের কল্যাণ সাধন করা। এ অর্থব্যবস্থার মূল লক্ষ্য হচ্ছে রাষ্ট্রের কোনো বিশেষ শ্রেণি যেন অর্থনৈতিকভাবে বেশি ক্ষমতাশালী হয়ে উঠতে না পারে। কারণ বিশেষ শ্রেণি ক্ষমতাশালী হয়ে উঠলে আরেকটি অবহেলিত ও বৈষম্যপূর্ণ শ্রেণির উদ্ভব হবে। ফলে রাষ্ট্রের কোনো কোনো নাগরিক সুখে, স্বাচ্ছন্দ্যে, ভোগ-বিলাসে মত্ত থাকবে এবং আরেকটি শ্রেণির জীবন হবে দুঃখ ভরাক্রান্ত, যা মোটেই কাম্য নয়। সুতরাং দেখা যাচ্ছে রাষ্ট্রের সব নাগরিককে সমানভাবে সুখে-শান্তিতে রাখার জন্য এবং সবার কল্যাণ সাধনের জন্য সমাজতান্ত্রিক অর্থব্যবস্থার বিকল্প নেই। তবে এ অর্থব্যবস্থার লক্ষ্য জনগণের কল্যাণ সাধন হলেও কোনো কোনো ক্ষেত্রে এর নেতিবাচক প্রভাবও লক্ষ করা যায়। এ অর্থব্যবস্থায় অধিকাংশ ক্ষেত্রে সরকারি উদ্যোগে উত্পাদন পরিচালিত হওয়ায় সেখানে বহুসংখ্যক বেসরকারি উদ্যোক্তার অবাধ প্রতিযোগিতা থাকে না। যে কারণে এখানে ব্যক্তিগত উদ্যোগে কোনো শিল্পপ্রতিষ্ঠান গড়ে ওঠে না। ফলে দেশের অর্থনৈতিক উন্নয়ন কিছুটা বাধাগ্রস্ত হয়।

ওপরের আলোচনার পরিপ্রেক্ষিতে আমরা বলতে পারি, সমাজতান্ত্রিক অর্থব্যবস্থার কিছুটা নেতিবাচক দিক থাকলেও সামগ্রিক বিচারে এটি একটি কল্যাণমূলক অর্থব্যবস্থা।


মন্তব্য