kalerkantho

শনিবার । ৩ ডিসেম্বর ২০১৬। ১৯ অগ্রহায়ণ ১৪২৩। ২ রবিউল আউয়াল ১৪৩৮।


ষষ্ঠ ও সপ্তম শ্রেণি বাংলাদেশ ও বিশ্বপরিচয়

সৃজনশীল প্রশ্ন

তাহেরা খানম, সহকারী শিক্ষক, মিরপুর সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়, মিরপুর, ঢাকা   

৩০ সেপ্টেম্বর, ২০১৬ ০০:০০



ষষ্ঠ শ্রেণি

(অধ্যায়-৭)

উদ্দীপকটি পড়ে নিচের প্রশ্নগুলোর উত্তর দাও :

মাসুমের বয়স ১০ বছর। সে চতুর্থ শ্রেণিতে পড়ে।

বছরের মাঝামাঝি সময়ে তার বাবা তাকে পড়ালেখা বাদ দিয়ে একটি কারখানায় কাজ করতে পাঠান। মাসুমের ইচ্ছা না থাকলেও পরিবারের চাপে তাকে কারখানায় কাজ করতে হয়। ফলে তার পড়ালেখায় বিঘ্ন ঘটে।

(ক) জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদে শিশু অধিকার সনদ পাস হয় কত খ্রিস্টাব্দে?

(খ) মানবসম্পদ বলতে কী বোঝো?

(গ) মাসুমের বাবা জাতিসংঘ শিশু অধিকার সনদের কোন কোন ধারা লঙ্ঘন করেছেন? ব্যাখ্যা করো।

(ঘ) মাসুমের পড়ালেখা চালিয়ে যাওয়ার ব্যাপারে পরিবার, সমাজ ও রাষ্ট্রের ভূমিকা কী হওয়া উচিত বলে তুমি মনে করো।

উত্তর : (ক) জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদে শিশু অধিকার সনদ পাস হয় ১৯৮৯ খ্রিস্টাব্দে।

(খ) দক্ষ মানুষকেই মানবসম্পদ বলা হয়।

 অদক্ষ মানুষ সমাজ ও রাষ্ট্রের কোনো কাজে আসে না। অন্যদিকে দক্ষ মানুষ যেমন ব্যক্তিগতভাবে সফল হয়, তেমনি রাষ্ট্রের অর্থনৈতিক কার্যক্রমকেও গতিশীল করতে পারে। দক্ষ মানুষ রাষ্ট্রের অর্থনৈতিক সম্পদে পরিণত হয়। দক্ষ মানুষ তার দক্ষতা দিয়ে সম্পদ আহরণ বা উৎপাদন করতে পারে। তারা জাতীয় অর্থনীতিতে অবদান রাখতে পারে। সুতরাং বলা যায়, জনগণ যখন দেশের সম্পদে পরিণত হয়, তখন তাকে মানবসম্পদ বলা হয়।

(গ) মাসুমের বাবা জাতিসংঘ শিশু অধিকার সনদের মৌলিক অধিকার শিক্ষা ও শিশুশ্রম সম্পর্কিত ধারা দুটি লঙ্ঘন করেছেন।

জাতিসংঘ শিশু অধিকার সনদে বলা হয়েছে, শিশুরা যেন সময়মতো খাদ্য, বস্ত্র, বাসস্থান, শিক্ষা ও চিকিৎসার সুযোগ পায়, তা নিশ্চিত করতে হবে, যা মানবাধিকার বা মৌলিক অধিকারের আইন। উক্ত সনদে আরো বলা হয়েছে, অর্থনৈতিক শোষণ এবং যেকোনো ঝুঁকিপূর্ণ কাজ থেকে শিশুদের বিরত রাখতে হবে।

 

উদ্দীপকে মাসুমকে তার বাবা স্কুলে পড়ালেখা বাদ দিয়ে কারখানায় কাজ করতে পাঠান। এখানে মাসুমের বাবা জাতিসংঘের শিশু অধিকার সনদ অনুসারে শিশুর মৌলিক অধিকার লঙ্ঘন করেছেন। কেননা জাতিসংঘের শিশু অধিকার সনদে প্রতিটি শিশুর শিক্ষা নিশ্চিত করার ব্যাপারে রাষ্ট্রকে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে, যা থেকে মাসুম বঞ্চিত হয়েছে। উদ্দীপকে লক্ষ করা যায়, মাসুমের বয়স মাত্র ১০ বছর। জাতিসংঘের শিশু সনদ অনুসারে ১৮ বছরের নিচে বয়স হলে তাকে শিশু বলা হয়। সে হিসাবে মাসুম একটি শিশু। এ বয়সে তাকে কাজে পাঠিয়ে তার বাবা শিশুশ্রম আইন লঙ্ঘন করেছেন। কেননা এ বয়সে একটি শিশুকে কারখানায় কাজ করতে দেওয়া খুবই ঝুঁকিপূর্ণ। সুতরাং বলা যায়, মাসুমের বাবা জাতিসংঘ শিশু অধিকার সনদের মৌলিক অধিকার শিক্ষা ও শিশুশ্রম সম্পর্কিত ধারা দুটি লঙ্ঘন করেছেন।

(ঘ) মাসুমের পড়ালেখা চালিয়ে যাওয়ার ব্যাপারে পরিবার, সমাজ ও রাষ্ট্রের অনেক গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে বলে আমি মনে করি।

আজকের শিশু আগামী দিনের ভবিষ্যৎ। অর্থাৎ শিশুদের দৈহিক ও মানসিক বিকাশ এবং তাদের যথাযথ শিক্ষা প্রদানের মাধ্যমে দক্ষ জনশক্তিতে পরিণত করার ওপরই একটি জাতির ভবিষ্যৎ নির্ভর করে। কিন্তু শিশুদের যদি তাদের মৌলিক অধিকার থেকে বঞ্চিত করা হয় কিংবা তার ভবিষ্যৎ জীবন গঠনের স্বাভাবিক চলার পথে বাধা সৃষ্টি করা হয়, তাহলে সেই শিশুরা কোনো দিন দক্ষ জনশক্তিতে পরিণত হতে পারে না। শিশুদের অধিকার রক্ষায় এবং তাদের সুন্দর ভবিষ্যৎ গড়ার ক্ষেত্রে পরিবার, সমাজ ও রাষ্ট্রের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে।

উদ্দীপকে মাসুম একটি দরিদ্র পরিবারের সন্তান। পরিবারের আর্থিক জোগান দিতে তার বাবা তাকে পড়ালেখা বাদ দিয়ে কারখানায় কাজ করতে পাঠান। এ ক্ষেত্রে মাসুমের বাবা তার সন্তানের প্রতি যথাযথ দায়িত্ব পালন করেননি। এই বয়সে শিশুদের কাজে লাগানো যে অন্যায় তা তিনি হয়তো উপলব্ধি করতে পারেননি। অন্যদিকে শিশুদের শিক্ষা যে তাদের ভবিষ্যৎ গড়ার ক্ষেত্রে এবং পরিবারের সার্বিক উন্নয়নে কতটা গুরুত্বপূর্ণ সে ব্যাপারেও তিনি সচেতন ছিলেন না। মাসুমের প্রতি এমন অন্যায়ের জন্য সমাজ ও রাষ্ট্র সমভাবে দায়ী। কেননা মাসুমকে যখন স্কুল থেকে নিয়ে কাজে নিযুক্ত করা হয়, তখন সমাজের মানুষ যদি তার বাবাকে ভালোভাবে বোঝাত তাহলে হয়তো তার বাবা এমন কাজ করতে পারতেন না। অন্যদিকে রাষ্ট্র যদি মাসুমের পড়ালেখার সব খরচ বহন করত এবং তার পরিবারের দরিদ্রতা বিমোচনে ভূমিকা রাখত, তাহলে তার বাবা তার প্রতি এমন অন্যায় কাজ করতেন না।

অতএব আমরা বলতে পারি, মাসুমের মতো শিশুদের অধিকার রক্ষায় এবং তাদের ভবিষ্যৎ জীবন সুন্দরভাবে গড়ে তোলার ক্ষেত্রে পরিবার, সমাজ ও রাষ্ট্রের গুরুত্ব অপরিসীম।

সপ্তম শ্রেণি

(অধ্যায়-১১)

দক্ষিণ এশিয়ার একটি দেশের সঙ্গে বাংলাদেশের বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক রয়েছে। দেশটিতে রয়েছে উল্লেখযোগ্য স্থাপত্য, যার মধ্যে রয়েছে তাজমহল, লালকেল্লা, কুতুব মিনার প্রভৃতি। দেশটির সঙ্গে বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক বজায় থাকলে বাংলাদেশ বিভিন্নভাবে লাভবান হবে।

(ক) এশিয়া মহাদেশে মোট কয়টি দেশ রয়েছে?

(খ) চীনের সীমানা উল্লেখ করো।

(গ) উদ্দীপকে বাংলাদেশের কোন বন্ধুপ্রতিম দেশকে ইঙ্গিত করা হয়েছে? ব্যাখ্যা করো।

(ঘ) ‘দেশটির সাথে বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক বজায় থাকলে বাংলাদেশ বিভিন্নভাবে লাভবান হবে। ’ উক্তিটির সঙ্গে তুমি কি একমত? তোমার মতামত বিশ্লেষণ করো।

উত্তর : (ক) এশিয়া মহাদেশে মোট ২৭টি দেশ রয়েছে।

(খ) চীন পূর্ব-এশিয়ার একটি দেশ। এর আয়তন প্রায় ৯৫ লাখ ৯৭ হাজার বর্গকিলোমিটার। ভৌগোলিকভাবে ভারত ও রাশিয়ার মধ্যখানে এর অবস্থান। এর পূর্বে প্রশান্ত মহাসাগর, পশ্চিম ও উত্তর দিকে রাশিয়া, মঙ্গোলিয়া ও ভারতের কিছু অংশ এবং দক্ষিণে হিমালয় পর্বতমালা অবস্থিত।

(গ) উদ্দীপকে বাংলাদেশের বন্ধুপ্রতিম দেশ ভারতকে ইঙ্গিত করা হয়েছে।

ভারত দক্ষিণ এশিয়ার একটি বৃহৎ ও শক্তিশালী দেশ। এর আয়তন প্রায় ৩২ লাখ ৮৭ হাজার বর্গকিলোমিটার এবং জনসংখ্যা প্রায় ১২০ কোটি। দেশটির অধিকাংশ লোক কৃষিজীবী। ধান, গম, বার্লি, যব, কফি, চা ভারতের প্রধান কৃষিজ সম্পদ। তবে প্রাচীনকাল থেকে ভারত বস্ত্রশিল্পের জন্য সারা পৃথিবীতে বিখ্যাত ছিল। বহু জাতি, সম্প্রদায় ও ভাষাগোষ্ঠীর দেশ ভারত। এটি পৃথিবীর অন্যতম প্রাচীন ও সভ্যতাসমৃদ্ধ দেশ।

উদ্দীপকে বলা হয়েছে, দক্ষিণ এশিয়ার একটি দেশের সঙ্গে বাংলাদেশের বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক রয়েছে। আমরা জানি, ভারত বাংলাদেশের প্রতিবেশী রাষ্ট্র এবং দেশটির সঙ্গে বাংলাদেশের বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক রয়েছে। উদ্দীপকে আরো বলা হয়েছে, দেশটিতে রয়েছে উল্লেখযোগ্য স্থাপত্য, যার মধ্যে রয়েছে তাজমহল, লালকেলা, কুতুব মিনার প্রভৃতি। আমরা জানি, এ স্থাপত্যগুলো ভারতে অবস্থিত। সুতরাং বলা যায়, উদ্দীপকে ইঙ্গিতকৃত দেশটি দ্বারা ভারতকে বোঝানো হয়েছে।

(ঘ) ‘দেশটির সাথে বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক বজায় থাকলে বাংলাদেশ বিভিন্নভাবে লাভবান হবে। ’ উক্তিটির সঙ্গে আমি একমত।

ভারত  দক্ষিণ এশিয়ার একটি বৃহৎ ও শক্তিশালী রাষ্ট্র।   দেশটির আনাচকানাচে ছড়িয়ে ছিটিয়ে রয়েছে প্রাচীন সভ্যতা ও সংস্কৃতির বহু নিদর্শন, যেমন—স্থাপত্য, ভাস্কর্য, চিত্রকলা প্রভৃতি। এ দেশ কৃষি, শিল্প-বাণিজ্য, প্রযুক্তি প্রভৃতি ক্ষেত্রে বাংলাদেশের চেয়ে অনেক উন্নত। এ দেশে ধান, গম, বার্লি, যব, কফি, চা প্রভৃতি খাদ্যশস্য প্রচুর পরিমাণে উৎপাদিত হয়, যেগুলো বাংলাদেশের মানুষের প্রধান খাদ্য। প্রাচীনকাল থেকেই ভারত বস্ত্রশিল্পের জন্য বিখ্যাত। বর্তমানে ইস্পাত, সিমেন্ট, যন্ত্রপাতি, রাসায়নিক দ্রব্য, সার, এমনকি জাহাজ ও গাড়ি তৈরিতেও ভারত অনেক এগিয়ে গেছে। ভারতের সঙ্গে বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক বজায় রাখলে বাংলাদেশ ভারতের কাছ থেকে কৃষি ও শিল্পক্ষেত্রে অনেক সহায়তা পেতে পারে।

অতএব বলা যায়, ভারতের সঙ্গে বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক বজায় রাখলে বাংলাদেশ বহু দিক দিয়ে লাভবান হতে পারে।


মন্তব্য