kalerkantho

সোমবার । ৫ ডিসেম্বর ২০১৬। ২১ অগ্রহায়ণ ১৪২৩। ৪ রবিউল আউয়াল ১৪৩৮।


একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি : অর্থনীতি দ্বিতীয় পত্র

অনুধাবনমূলক প্রশ্ন

মো. নিজাম খান, সহযোগী অধ্যাপক আযম খান সরকারি কমার্স কলেজ খুলনা   

২০ সেপ্টেম্বর, ২০১৬ ০০:০০



তৃতীয় অধ্যায়

 

১।    প্রশ্ন : শিল্পের ম্যানুফ্যাকচারিং খাতের ব্যাখ্যা দাও?

     উত্তর : নিচে শিল্পের ম্যানুফ্যাকচারিং খাতের ব্যাখ্যা দেওয়া হলো—

     ক) বৃহৎ শিল্প : পাট শিল্প, বস্ত্র শিল্প, সার শিল্প, চিনি শিল্প, সিমেন্ট শিল্প, কাগজ শিল্প, লৌহ ও ইস্পাত শিল্প, জাহাজ নির্মাণ শিল্প প্রভৃতি।

     খ) মাঝারি শিল্প : দেশের প্রধান প্রধান মাঝারি শিল্প হলো তৈরি পোশাক শিল্প, প্লাস্টিক নাইলন শিল্প, প্রসাধনী শিল্প এবং অন্যান্য ভোগ্যপণ্য শিল্প।

     গ) ক্ষুদ্র শিল্প : সাবন শিল্প, দিয়াশলাই শিল্প, কাচ শিল্প, পাটজাত দ্রব্যের শিল্প, কাঠ শিল্প, যানবাহন সার্ভিসিং ও মেরামত শিল্প, ক্ষুদ্র যন্ত্রাংশ তৈরি শিল্প, প্রসাধনী শিল্প ইত্যাদি।

 

২।   প্রশ্ন : ক্ষুদ্রায়তন শিল্প বলতে কী বোঝায়?

     উত্তর : যেসব শিল্পপ্রতিষ্ঠান স্বল্প মূলধন, কম শ্রমিক ও ছোটখাটো যন্ত্রপাতি নিয়ে কোনো দ্রব্য উত্পাদন করে তাদের ক্ষুদ্রায়তন শিল্প বলে। এ ধরনের শিল্প তুলনামূলক কম পুঁজি ও বেশি শ্রমিক নিয়োগ করে অর্থাৎ এগুলো অংশীদারি বা সমবায়ভিত্তিক মালিকানায় পরিচালিত হতে পারে। এ শিল্প ম্যানুফ্যাকচারিং ও সেবা উভয় খাতেই থাকতে পারে। বাংলাদেশের উল্লেখযোগ্য ক্ষুদ্র শিল্পের মধ্যে খাদ্য প্রক্রিয়াকরণ শিল্প, ধাতব শিল্প, যানবাহন সার্ভিসিং ও মেরামত শিল্প, হোসিয়ারি শিল্প, কাচ শিল্প, সাবান ও দিয়াশলাই শিল্প, স্টেশনারি দ্রব্য শিল্প, গুটিপোকার চাষ ও রেশম শিল্প ইত্যাদি উল্লেখযোগ্য।

৩।   প্রশ্ন : কুটির শিল্প বলতে কী বোঝায়?

     উত্তর : কুটির বা গৃহে পারিবারিক ভিত্তিতে স্বল্প মূলধন এবং সহজলভ্য কাঁচামাল ও ছোটখাটো সাধারণ যন্ত্রপাতির সাহায্যে যে শিল্প পরিচালিত হয়, তাকে কুটির শিল্প বলে।

     সাধারণত এ শিল্পে পরিবারের লোকজনের পুঁজি ও শ্রম ব্যবহার হয়। এ শিল্প কুটির বা গৃহেই গড়ে ওঠে এবং পারিবারিক পরিবেশে পরিচালিত হয়। হস্তচালিত তাঁতশিল্প, মৃিশল্প, বাঁশ ও বেত শিল্প, নারিকেল ছোবড়া শিল্প, চরকা শিল্প, অলংকার শিল্প, রেশম শিল্প, দই ও মিষ্টি শিল্প ইত্যাদি হলো বাংলাদেশের উল্লেখযোগ্য কুটির শিল্প।

 

৪।   প্রশ্ন : বাংলাদেশের রপ্তানিমুখী শিল্পের বৈশিষ্ট্যগুলো লেখো।

     উত্তর : বাংলাদেশের রপ্তানিমুখী শিল্পের বৈশিষ্ট্যগুলো হলো—

     ক) রপ্তানিমুখী শিল্পে উত্পাদিত পণ্য কেবল বিদেশে রপ্তানি করা হয়।

     খ) এ শিল্প বিদেশের বাজারে বিক্রির জন্য উত্পাদন করা হয়। এ জন্য এই শিল্পের উত্পন্ন দ্রব্যের বাজার অপেক্ষাকৃত বিস্তৃত হয়।

     গ) এ শিল্প দেশি-বিদেশি কাঁচামাল, যন্ত্রপাতি ও প্রযুক্তির ওপর নির্ভর করে গড়ে ওঠে।

     ঘ) কেবল বৈদেশিক মুদ্রা অর্জনের জন্য এ শিল্প স্থাপিত হয়।

 

৫।   প্রশ্ন : আমদানি বিকল্প শিল্পের বৈশিষ্ট্যগুলো কী?

     উত্তর : আমদানি বিকল্প শিল্পে কতগুলো লক্ষণীয় দিক বা বৈশিষ্ট্য রয়েছে। যেমন—

     ক) আমদানি বিকল্প শিল্পে কেবল আমদানীকৃত দ্রব্যের মতো অথবা তার নিকট বিকল্প দ্রব্য উত্পাদন করা হয়।

     খ) এ শিল্পে যত দূর সম্ভব দেশীয় কাঁচামাল, নিজস্ব প্রযুক্তি ও শ্রমঘন উত্পাদনব্যবস্থা ব্যবহার করা হয়, যাতে এ শিল্প স্থাপনের জন্য বিদেশের ওপর নির্ভরশীল হতে না হয়।

     গ) প্রয়োজনে এ শিল্প সরকার প্রদত্ত সংরক্ষণ সুবিধা পেয়ে থাকে।

 

৬।   প্রশ্ন : অগ্রাধিকার শিল্প কী? ব্যাখ্যা করো।

     উত্তর : অগ্রাধিকার শিল্প বলতে সেসব উদীয়মান শিল্পকে বোঝায়, যেসব শিল্প প্রবৃদ্ধি অর্জন, কর্মসংস্থান সৃষ্টি, রপ্তানি আয় বৃদ্ধিসহ দারিদ্র্য বিমোচনে উল্লেখযোগ্য ভূমিকা রাখে। এ শিল্পের জন্য এর সম্ভাবনাকে কাজে লাগিয়ে প্রয়োজনীয় পৃষ্ঠাপোষকতা প্রদানের মাধ্যমে পরিপূর্ণ বিকাশের জন্য সরকার কর্তৃক একটি নির্দিষ্ট সময় পর্যন্ত অগ্রাধিকারমূলক নীতি সমর্থন জোগানোর প্রয়োজন হয়। এ খাতের সংখ্যা ৩১টি।

 

৭।    প্রশ্ন : শিল্পোন্নয়নে ppp বলতে কী বোঝায়?

     উত্তর : দেশের ভৌত অবকাঠামোগত উন্নয়নের লক্ষ্যে যৌথভাবে সরকারি ও বেসরকারি অর্থায়নে গৃহীত দীর্ঘমেয়াদি কৌশলগত ও লক্ষ্যভিত্তিক কার্যসম্পর্ক গড়ে তোলাকে সরকারি-বেসরকারি অংশীদারিত্ব বলা হয়।

     এর মাধ্যমে চুক্তিভিত্তিক সরকারি-বেসরকারি অংশগ্রহণে কোনো প্রকল্প নির্দিষ্ট সময়ে সম্পন্ন করার একটি সময়োপযোগী কৌশল ও প্রক্রিয়া। ইদানীং খুব বেশি করে পিপিপির অধীনে প্রকল্প গ্রহণ ও বাস্তবায়নের কাজ উন্নত ও উন্নয়নশীল সব দেশেই এগিয়ে চলছে।

 

৮।    প্রশ্ন : আমদানি বিকল্প শিল্প কিভাবে একটি দেশের স্বয়ংসম্পূর্ণতা অর্জনে ভূমিকা রাখে?

     উত্তর : বাংলাদেশ এখনো বহুলাংশে বিদেশের ওপর নির্ভরশীল। বিশেষত শিল্প খাত দুর্বল বলে প্রয়োজনীয় শিল্পজাত দ্রব্যগুলো এখানো বিদেশ থেকেই আমদানি করতে হয়। দেশে আমদানি বিকল্প শিল্প ব্যবস্থা গড়ে উঠলে এ ধরনের পরনির্ভরশীলতা দূরীভূত হবে। তা ছাড়া আমদানি বিকল্প শিল্প ব্যবস্থা চালু হলে দেশের পুঁজিবাজারও শক্তিশালী হয়ে উঠবে। এভাবে আদমানি বিকল্প শিল্পনীতি অনুসরণ করে দেশকে অর্থনৈতিকভাবে স্বয়ংসম্পূর্ণ ও স্বনির্ভর করে তোলা যাবে।


মন্তব্য