kalerkantho

শুক্রবার । ৯ ডিসেম্বর ২০১৬। ২৫ অগ্রহায়ণ ১৪২৩। ৮ রবিউল আউয়াল ১৪৩৮।


নবম ও দশম শ্রেণি : রসায়ন

সৃজনশীল প্রশ্ন

মো. আব্দুল মোতালেব, সহকারী অধ্যাপক বিএএফ শাহীন কলেজ কুর্মিটোলা, ঢাকা   

১৮ সেপ্টেম্বর, ২০১৬ ০০:০০



চিত্র দেখে নিচের প্রশ্নগুলোর উত্তর দাও :

ক. ভর সংখ্যা কী?

খ. 12MG  ও  20CA এর যোজ্যতা একই কেন, ব্যাখ্যা করো।

গ. চিত্র-১ অনুসারে পরমাণু মতবাদ বর্ণনা করো।

ঘ. উদ্দীপকের মডেল দুটির মধ্যে কোনটি অধিক সফল? ব্যাখ্যা করো।

উত্তর :

ক. কোনো মৌলের পরমাণুর প্রোটন ও নিউট্রনের মোট সংখ্যাকে ওই মৌলের ভর সংখ্যা বা নিউক্লিয়ন সংখ্যা বলে।

খ. কোনো মৌলের পরমাণু অন্য মৌলের পরমাণুর সঙ্গে বন্ধন গঠনকালে যে সংখ্যক ইলেকট্রন ত্যাগ বা গ্রহণ বা শেয়ার করে তাকে ওই মৌলের যোজনী বলে।

ইলেকট্রন বিন্যাস থেকে দেখা যায় 12MG  ও  20CA উভয়ের সর্বশেষ কক্ষপথে দুটি করে ইলেকট্রন আছে। সর্বশেষ কক্ষপথে মাত্র দুটি ইলেকট্রন থাকায় এরা বন্ধন গঠনকালে সহজেই দুটি ইলেকট্রন ত্যাগ করার মাধ্যমে বন্ধন গঠন করে।

তাই 12MG  ও  20CA এর যোজনী অভিন্ন এবং এদের যোজনী হবে ২।

গ. উদ্দীপকের ১ নম্বর চিত্রটি বোর পরমাণু মতবাদের স্বীকার্যসমূহ বর্ণনা করা হলো

১। পরমাণুর নিউক্লিয়াসকে কেন্দ্র করে বৃত্তাকার পথে ইলেকট্রনসমূহ ঘুরতে থাকে।

২। নিউক্লিয়াসের চারদিকে বৃত্তাকার কতগুলো স্থির কক্ষপথ আছে, যাতে অবস্থান নিয়ে ইলেকট্রনসমূহ ঘুরতে থাকে। এগুলোকে শক্তিস্তর বা অরবিট বলা হয়। শক্তিস্তরসমূহকে কল্পিত সংখ্যা n এর মান অনুসারে K,L,M,N দ্বারা প্রকাশ করা হয়। প্রথম শক্তিস্তরকে n = 2 (L শক্তিস্তর), ২য় শক্তিস্তরকে n = 1(K শক্তিস্তর)—এভাবে n এর মান 3,4,5 ইত্যাদি পূর্ণ সংখ্যা মানে বৃদ্ধি পেতে থাকে এবং শক্তিস্তরসমূহকে যথাক্রমে M,N,O দ্বারা প্রকাশ করা হয়। এটি নির্দিষ্ট শক্তিস্তরে অবস্থানকালে ইলেকট্রনসমূহ শক্তি শোষণ অথবা বিকিরণ করে না।

৩। যখন কোনো ইলেকট্রন একটি নিম্নতর কক্ষপথ বা শক্তিস্তর যেমন n = 1 থেকে উচ্চতর কক্ষপথ n = 2 তে স্থানান্তরিত হয়, তখন নির্দিষ্ট পরিমাণ শক্তি শোষণ করে। আবার যখন কখনো উচ্চতর শক্তিস্তর যেমন n = 2 থেকে নিম্নতর কক্ষপথ n = 1 এ স্থানান্তরিত হয়, তখন শক্তি বিকিরণ করে।

ঘ. উদ্দীপক মতে চিত্র-২ হচ্ছে পরমাণুর গঠন সম্পর্কিত রাদারফোর্ডের মতবাদ, যেখানে পরমাণুর নিউক্লিয়াস সম্পর্কে একটি গুরুত্বপূর্ণ সুস্পষ্ট ধারণা প্রদান করে এবং এর বাইরে ইলেকট্রনের অস্তিত্বের ধারণা দেন। তিনিই প্রথম সৌরজগতের সঙ্গে পরমাণুর গঠনের একটা তুলনা করেন। গ্রহগুলো তড়িৎ নিরপেক্ষ। কিন্তু ইলেকট্রন ঋণাত্মক আধানবিশিষ্ট। ম্যাক্সওয়েলের তড়িৎ চুম্বকীয় তত্ত্ব অনুযায়ী কোনো চার্জযুক্ত কণা বৃত্তাকার পথে ঘূর্ণায়মান থাকলে তা ক্রমাগত শক্তি বিকিরণ করে এবং ক্রমাগত ক্ষুদ্রতম ব্যাসার্ধের পথে পরিভ্রমণ করে অবশেষে কেন্দ্রে পতিত হয়। ফলে এ মডেল পরমাণুর গঠন ব্যাখ্যায় ততখানি কার্যকর থাকে না। কিন্তু চিত্র-১ হচ্ছে মূলত নিলস বোর প্রদত্ত মডেল, যেখানে তিনি প্রস্তাব করেন যে নিউক্লিয়াসের চারদিকে ইলেকট্রন কতকগুলো অনুমোদিত বৃত্তাকার কক্ষপথে ঘূর্ণায়মান থাকে। এ কক্ষপথসমূহে অবস্থানকালে কোনো ইলেকট্রন শক্তি শোষণ বা বিকিরণ কিছুই করে না। ইলেকট্রন একটি নির্দিষ্ট পরিমাণ শক্তি শোষণ করে লাফ দিয়ে ওপরের স্তরসমূহে গমন করে।

আবার নির্দিষ্ট পরিমাণ শক্তি বিকিরণ করে। ফলে পরমাণুর গঠন ব্যাখ্যায় রাদারফোর্ডের মতবাদের ত্রুটিগুলো বোর সংশোধন করেন।

সুতরাং পরমাণুতে ইলেকট্রনের অবস্থান নির্ণয়ে রাদারফোর্ডের মডেল অপেক্ষা বোর মডেল অধিক

সফল।

 


মন্তব্য