kalerkantho

সোমবার । ৫ ডিসেম্বর ২০১৬। ২১ অগ্রহায়ণ ১৪২৩। ৪ রবিউল আউয়াল ১৪৩৮।


জেএসসি : বাংলা প্রথম পত্র

সৃজনশীল প্রশ্ন

লুৎফা বেগম, সিনিয়র শিক্ষক, বিএএফ শাহীন কলেজ, কুর্মিটোলা, ঢাকা   

১১ সেপ্টেম্বর, ২০১৬ ০০:০০



জেএসসি : বাংলা প্রথম পত্র

গদ্য : বাংলা নববর্ষ

শামসুজ্জামান খান

 

উদ্দীপকটি পড়ে নিচের প্রশ্নগুলোর উত্তর দাও :

রাশা ও তন্বী দুই বান্ধবী। আজ তাদের খুব আনন্দের দিন, কারণ আজ নববর্ষ।

তারা দুজনে লাল পাড় সাদা শাড়ি পরে চলে যায় রমনার বটমূলে। সেখানে অনেক মানুষের ভিড়। ছেলে, মেয়ে, শিশু, বুড়ো সবাই সেজেছে নতুন সাজে। সেখানে রাশার খালাতো বোন নাওমির সঙ্গে দেখা। রাশা খালা-খালুর সবার খোঁজ পেল নাওমির কাছ থেকে। ছোট খালাতো বোনের জন্য কিনে দিল নানা খেলনা। নিজের বাড়ির জন্য কিনে নিল কুলা, ঝুড়ি, হাঁড়ি-পাতিল ইত্যাদি। তন্বী মনের আনন্দে গেয়ে উঠল :

তাপস নিঃশ্বাস বায়ে, মুমূর্ষুরে দাও উড়ায়ে,

বৎসরের আবর্জনা দূর হয়ে যাক

মুছে যাক গ্লানি, ঘুচে যাক জরা

অগ্নিস্নানে শুচি হোক ধরা।

 

(ক) রাজধানী ঢাকার নববর্ষ উৎসবের দ্বিতীয় প্রধান আকর্ষণ কী?

উত্তর : রাজধানী ঢাকার নববর্ষ উৎসবের দ্বিতীয় প্রধান আকর্ষণ হলো ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের চারুকলা অনুষদের ছাত্রছাত্রীদের বর্ণাঢ্য মঙ্গল শোভাযাত্রা।

(খ) ‘পুণ্যাহ’ কী বুঝিয়ে লেখো।

উত্তর : ‘পুণ্যাহ’ হলো পুণ্যের জন্য আয়োজিত অনুষ্ঠান।

শামসুজ্জামান খান রচিত ‘বাংলা নববর্ষ’ প্রবন্ধে পুণ্যাহ সম্পর্কে লেখক বলেছেন যে বাংলা সন চালু হওয়ার পর নববর্ষ উদ্যাপনে যুক্ত নানা আনুষ্ঠানিকতার মধ্যে ছিল পুণ্যাহ অনুষ্ঠান। নবাব ও জমিদারেরা এই অনুষ্ঠান চালু করেন। পয়লা বৈশাখে প্রজারা নবাব বা জমিদার বাড়িতে আমন্ত্রিত হতেন, তাদের মিষ্টি মুখও করানো হতো। পান-সুপারিরও আয়োজন থাকত। তবে তার মূল উদ্দেশ্য ছিল খাজনা আদায়। মুর্শিদাবাদের নবাবেরা এ অনুষ্ঠান করতেন। বাংলার জমিদাররাও করতেন এ অনুষ্ঠান। জমিদারি উঠে যাওয়ায় এ অনুষ্ঠান এখন লুপ্ত হয়েছে।

(গ) তন্বীর গানে বাংলা নববর্ষের কোন দিকটি ফুটে উঠেছে? ব্যাখ্যা করো।

উত্তর : তন্বীর গানে বাংলা নববর্ষের সব মানুষের জন্য সুখ-সমৃদ্ধি ও কল্যাণ কামনার দিকটি ফুটে উঠেছে।

উদ্দীপকের তন্বী পয়লা বৈশাখে রমনার বটমূলে গিয়ে মনের আনন্দে যে গান গেয়ে ওঠে, তার মূলভাব ছিল  বৈশাখী ঝড় যেন তপস্বীর নিঃশ্বাসের সঙ্গে পুরনো বছরের আবর্জনা, গ্লানি, জরা দূর করে মানুষের জন্য সুখ-শান্তি-সমৃদ্ধি ও কল্যাণ বয়ে আনে।

‘বাংলা নববর্ষ’ প্রবন্ধেও একই ভাব প্রকাশ পেয়েছে মাঙ্গলিক অনুষ্ঠান পালনের মধ্য দিয়ে। ‘আমানি’ নববর্ষের একটি প্রাচীন মাঙ্গলিক অনুষ্ঠান। এটি প্রধানত কৃষকদের পারিবারিক অনুষ্ঠান। চৈত্র মাসের শেষ দিনের সন্ধ্যারাতে গৃহকর্ত্রী এক হাঁড়ি পানিতে স্বল্প পরিমাণ অপক্ব চাল ছেড়ে দিয়ে সারা রাত ভিজতে দেন এবং তার মধ্যে একটি কচি আমের পাতা যুক্ত ডাল বসিয়ে রাখেন। পয়লা বৈশাখের সূর্য ওঠার আগে ঘর ঝাড়ু দিয়ে গৃহকর্ত্রী সেই হাঁড়ির পানি সারা ঘরে ছিটিয়ে দেন। পরে সেই ভেজা চাল সবাইকে খেতে দিয়ে আমের ডালের কচি পাতা হাঁড়ির পানিতে ভিজিয়ে বাড়ির সবার গায়ে ছিটিয়ে দেন। তাঁদের বিশ্বাস, এতে বাড়ির সবার কল্যাণ হবে। নতুন বছর হবে সুখ, শান্তি ও সমৃদ্ধির।

‘বাংলা নববর্ষ’ প্রবন্ধের উপর্যুক্ত বক্তব্যই উদ্দীপকের তন্বীর গানে ফুটে উঠেছে।

(ঘ) উদ্দীপকে ‘বাংলা নববর্ষ’ প্রবন্ধের মূল সুরটিই যেন ফুটে উঠেছে’—উক্তিটি মূল্যায়ন করো।

উত্তর : উদ্দীপকে ‘বাংলা নববর্ষ’ প্রবন্ধের মূল সুর সব মানুষের জন্য কল্যাণ কামনার দিকটিই কেবল প্রকাশ পেয়েছে।

উদ্দীপকের রাশা-তন্বীসহ রমনার বটমূলে নানা মানুষের ভিড়, মেলায় নানান খেলনা—তৈজসপত্রের বিবরণ একটা উৎসবমুখর পরিবেশের সৃষ্টি করেছে বলে তন্বী মনের আনন্দে গান গেয়ে ওঠে মানুষের কল্যাণ কামনায়।

উদ্দীপকে ‘বাংলা নববর্ষ’ প্রবন্ধের উপর্যুক্ত মূল সুরটি প্রকাশমান হলেও পাশাপাশি বাঙালির জাতীয় সংস্কৃতির একটি গুরুত্বপূর্ণ উৎসব বাংলা নববর্ষ উৎসবের ইতিহাস সম্পর্কে একটি ধারণাও ব্যক্ত হয়েছে।

আজকের বাংলাদেশ যে স্বাধীন হতে পেরেছে, তার পেছনে নববর্ষের প্রেরণাও সক্রিয় ছিল। কারণ, পাকিস্তানিরা বাঙালির প্রাণের উৎসব নববর্ষ উদ্যাপনে বাধা দিয়েছিল এবং এর প্রতিবাদে রুখে দাঁড়িয়েছিল তারা। এ প্রবন্ধে বাংলা সন প্রচলনের কথা আলোচিত হয়েছে। এ নিয়ে মতান্তর থাকলেও ধরে নেওয়া হয় সম্রাট আকবরের সময় এ সনের গণনা আরম্ভ হয়। পরে জমিদার ও নবাবেরা নববর্ষে পুণ্যাহ অনুষ্ঠানের আয়োজন করতেন। নববর্ষে হালখাতা, বৈশাখী মেলা, ঘোড়দৌড়, বিভিন্ন লোকমেলার আয়োজন করে সাধারণ মানুষ এ উৎসবকে প্রাণে ধারণ করেছে। বাঙালি গৃহিণীরাও আমানিসহ নানা ব্রত-অনুষ্ঠানের মাধ্যমে বছরের প্রথম দিনটি উদ্যাপন করে থাকে। পাহাড়ি অবাঙালি জনগোষ্ঠীও বৈশাখী অনুষ্ঠানের মাধ্যমে নিজেদের মতো করে তারা নববর্ষ উদ্যাপন করে। সূচনার পর থেকে এই নববর্ষ পালনে নানা মাত্রা সংযোজিত হয়েছে। তবে এ উৎসবকে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের পরিবার বিশেষ গুরুত্ব দিয়ে পালন করায় সে আয়োজন দেশময় ছড়িয়ে পড়ে। ভাষা আন্দোলনের পর থেকে আমরাও নববর্ষ উৎসব ব্যাপকভাবে পালন আরম্ভ করি এবং এখন এই উৎসব বাঙালির জীবনে এক গৌরবময় অধ্যায়ে পরিণত হয়েছে।

উপর্যুক্ত বক্তব্যের পরিপ্রেক্ষিতে এটাই প্রতীয়মাণ হয় যে, নববর্ষে মানুষের কল্যাণ কামনা ছাড়াও প্রবন্ধের ওই দিকগুলো আলোচিত হয়েছে, যা উদ্দীপকে অনুপস্থিত।


মন্তব্য