kalerkantho

রবিবার । ১১ ডিসেম্বর ২০১৬। ২৭ অগ্রহায়ণ ১৪২৩। ১০ রবিউল আউয়াল ১৪৩৮।


জেএসসি : বাংলা প্রথম ও দ্বিতীয় পত্র

পাঠ প্রস্তুতি

লুৎফা বেগম,সিনিয়র শিক্ষক, বিএএফ শাহীন কলেজ, কুর্মিটোলা, ঢাকা   

১০ সেপ্টেম্বর, ২০১৬ ০০:০০



জেএসসি : বাংলা প্রথম ও দ্বিতীয় পত্র

প্রথম পত্র (সৃজনশীল প্রশ্ন)

শিল্পকলার নানা দিক

মুস্তাফা মনোয়ার

 

উদ্দীপকগুলো পড়ে নিচের প্রশ্নগুলোর উত্তর দাও :

১। রাইসা জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের চারুকলা ইনস্টিটিউটে ভর্তি হয়েছেন।

নবীনবরণ শেষে তিনি বান্ধবীদের সঙ্গে ক্যাম্পাসে ঘুরতে ঘুরতে এলেন কেন্দ্রীয় লাইব্রেরির সামনে। সেখানে দেখেন এক হাতে বন্দুক ধরে এক পায়ের ওপর দাঁড়িয়ে আছে বিশাল আকারের এক ভাস্কর্য। নাম সংশপ্তক। নিশ্চিত মৃত্যু জেনেও যে সম্মুখপানে এগিয়ে যায়, তাকেই বলে সংশপ্তক। একাত্তরের মুক্তিযোদ্ধাদের বীরত্বের কথা স্মরণ করে এ ভাস্কর্য বানানো হয়েছে। মনটা ভরে গেল রাইসার।

 

ক) শিল্পকলার মূল সত্যটি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের গানের কোন কথাগুলোতে প্রকাশ পেয়েছে?

উত্তর : শিল্পকলার মূল সত্যটি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের গানের ‘আনন্দধারা বহিছে ভুবনে’ এই কথাগুলোতে প্রকাশ পেয়েছে।

 

খ) সুন্দরকে চেনার জন্য লেখক উপমা হিসেবে কী এনেছেন?

উত্তর : সুন্দরকে চেনার জন্য লেখক উপমা হিসেবে ফুলকে এনেছেন। ‘শিল্পকলার নানা দিক’ রচনার লেখক মুস্তাফা মনোয়ার বলেছেন, নিয়ম না জানলেও সুন্দরকে চেনা যায়। উপমা হিসেবে এ ক্ষেত্রে তিনি ফুলকে এনেছেন। আমরা ফুলকে সুন্দর বলি। পৃথিবীর সব ফুলই একই নিয়ম মানে। এই নিয়মটি হলো, একই বিন্দু থেকে সব পাপড়ি বিন্দুর মতো চারদিকে ছড়িয়ে থাকবে। কিন্তু এক নিয়ম মেনেই অনেক রকম ফুল স্বাধীনভাবে ফুটে ওঠে। এই নিয়মটি লুকিয়ে থাকে, নিজেকে প্রকাশ করে না, সুন্দরের সঙ্গে মিলেমিশে একটা বন্ধন সৃষ্টি করে। তাই নিয়ম না জেনেও ফুলকে আমরা সুন্দর বলে থাকি।

 

গ) ক্যাম্পাসে রাইসা শিল্পকলার কোন দিকটি দেখেছেন? এর বর্ণনা দাও।

উত্তর : ক্যাম্পাসে রাইসা শিল্পকলার ভাস্কর্যের দিকটি দেখেছেন।

উদ্দীপকের রাইসা জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্যাম্পাসে এক হাতে বন্দুক ধরে এক পায়ের ওপর দাঁড়ানো ও সংশপ্তক নামের যে বিশাল আকারের মূর্তিটি দেখেন, তা শিল্পকলার ভাস্কর্যের দিককে নির্দেশ করে।

এ সম্পর্কে ‘শিল্পকলার নানা দিক’ রচনায় বলা হয়েছে চিত্রকলা, ভাস্কর্য, স্থাপত্য, সংগীত, নৃত্য ও কবিতা ইত্যাদি সব কিছুর মধ্য দিয়েই সুন্দরকে প্রকাশ করা যায়। সব শিল্পকলার মধ্যে কতকগুলো মূলবস্তু থাকে, যেমন—বিন্দু, রেখা, রং, আকার, গতি বা ছন্দ, আলো-ছায়া, গাঢ়-হালকার সম্পর্ক ইত্যাদি। এসবের মিলনেই হয় ছবি বা ভাস্কর্য। ভাস্কর্য হলো নরম মাটি দিয়ে কোনো কিছুর রূপ দেওয়া বা শক্ত পাথর কেটে কোনো গড়ন বানানো। বিশেষ এক ধরনের ছাঁচ বানিয়ে গলিত মেটাল ঢেলে এই গড়ন বানানো হয়। এ ধরনের কাজকেই বলা হয় ভাস্কর্য। আমাদের দেশে পোড়ামাটির ভাস্কর্য একসময় খুব প্রসিদ্ধ ছিল। উদ্দীপকের রাইসার দেখা ভাস্কর্যটি ও শিল্পকলার নানা দিক রচনার উপরিউক্ত বক্তব্যকে সমর্থন করে।

 

ঘ) ‘রাইসার দেখা দিকটিই শিল্পকলার প্রধান দিক’—মন্তব্যটির যথার্থতা যাচাই করো।

উত্তর : রাইসার দেখা ভাস্কর্যটি ‘শিল্পকলার নানা দিক’-এর প্রধান দিক নয়, একটি মাত্র দিক।

কারণ উদ্দীপকের রাইসা জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে শিল্পকলার নানা দিকের মধ্যে কেবল ভাস্কর্যশিল্পের রূপটিই পর্যবেক্ষণ করেছেন।

এ ছাড়া ‘শিল্পকলার নানা দিক’ প্রবন্ধে লেখক বিভিন্ন মাধ্যমের কথা বলেছেন, যার মাধ্যমে সুন্দরকে প্রকাশ করা যায়। এই মাধ্যমগুলো হলো সংগীত, নৃত্য, কবিতা, অভিনয়কলা, চলচ্চিত্র ও চিত্রকলা ইত্যাদি। যেমন—ছবি আঁকা। এর মানে হলো দেখা ও শোনা। ছোটরা প্রকৃতি, মা-বাবা, ভাই-বোন মিলিয়ে একটি সমাজকে দেখে। প্রতিদিনের দেখা বিষয়বস্তু রং, গড়ন ও আকৃতি শিশুমনের কল্পনার সঙ্গে মিলেমিশে যায়। নানা রকম গল্প, কবিতা, ছাড়া শুনেও শিশুমনে ছবি তৈরি হয়। এসব দেখা-অদেখা বস্তু মিলিয়ে শিশুরা ছবি আঁকে কল্পনা-বাস্তব মিলিয়ে। আর আছে মাধ্যম অর্থাৎ কোন মাধ্যমে শিল্প সৃষ্টি হয়েছে। চিত্রকলার মাধ্যম হলো কালি-কলম, জল রং, তেল মিশ্রিত রং ইত্যাদি। ছোটদের জন্য জল রং ব্যবহার করা সহজ হয়। বাংলাদেশে পুরাকালে জল রং দিয়েই ছবি আঁকতেন শিল্পীরা। পুরাতন পুঁথিতে তালপাতার আঁকা ছবির বহু নিদর্শন আছে। বর্তমানে জল রং অত্যন্ত প্রিয় হলেও এখন তালপাতায় কেউ ছবি আঁকে না, কাগজে আঁকে।

‘শিল্পকলার নানা দিক’ রচনার উপরিউক্ত বক্তব্য থেকে এটাই প্রতীয়মান হয় যে রাইসার দেখা ‘সংশপ্তক’ নামের মূর্তিটি শিল্পকলার বিভিন্ন মাধ্যমের মাত্র একটি দিককেই নির্দেশ করেছে, যার নাম ভাস্কর্য।

 

২। নন্দলাল বসু তাঁর ‘শিল্পকলা’ গ্রন্থে বলেছেন, ‘যে সৃষ্টির মধ্যে মানুষের প্রয়োজন সাধন অপেক্ষা অহেতুক আনন্দ বেশি, যাহাতে মানুষের জৈব অপেক্ষা আত্মিক ও মানসিক আনন্দ সৃষ্টি বেশি, তাহাকে আমরা ললিতকলা বলিয়া আখ্যায়িত করিতে পারি। আবার যাহাকে আমরা ললিতকলা বলি, তাহাও আরেক দিক হইতে কারুকলা শ্রেণিভুক্ত হইতে পারে। স্থাপত্যবিদ্যাপ্রসূত সুরম্য প্রাসাদকে যখন মানুষের বসবাস-উপযোগী করিয়া দেখি, তখন তাহা কারুশিল্প। আবার উহাকে যখন রূপময় অসীম সৌন্দর্য সৃষ্টি হিসেবে দেখি, তখন তাহা চারুকলা। ’

 

(ক) শিল্পকলা সম্পর্কে কোন প্রশ্নের উত্তর দেওয়া কঠিন হয়ে পড়ে?

উত্তর : শিল্পকলার সঠিক অর্থ কী আর শিল্পকলার গুণাগুণ কী—শিল্পকলা সম্পর্কে এই প্রশ্ন যদি কেউ করে, তাহলে উত্তর দেওয়া কঠিন হয়ে পড়ে।

 

(খ) শিল্পকলাচর্চা সবার জন্য অপরিহার্য কেন?

উত্তর : একটি দেশ ও দেশের মানুষকে জানার জন্য শিল্পকলাচর্চা সবার জন্য অপরিহার্য। ‘শিল্পকলার নানা দিক’ প্রবন্ধে লেখক মুস্তাফা মনোয়ার সুন্দরের ধারণা ব্যক্ত করেছেন। চিত্রকলা, ভাস্কর্য, স্থাপত্য, সংগীত, নৃত্য, কবিতা ইত্যাদির মধ্য দিয়েই সুন্দরকে প্রকাশ করা যায়। সুন্দরবোধ মানুষকে পরিশীলিত করে, মানুষের মনকে তৃপ্ত করে। সবচেয়ে বড় কথা, একটি দেশ ও দেশের মানুষকে জানা যায় শিল্পকলাচর্চার ধরন দেখে। সুন্দরের সৃষ্টিতে সবারই চেষ্টা করা উচিত বলে লেখক উপরিউক্ত মন্তব্যটি করেছেন।

 

(গ) উদ্দীপকের ‘ললিতকলা’ বলতে ‘শিল্পকলার নানা দিক’ প্রবন্ধের যে বিষয়টিকে নির্দেশ করা হয়েছে, তা ব্যাখ্যা করো।

উত্তর : উদ্দীপকের ললিতকলা বলতে ‘শিল্পকলার নানা দিক’ প্রবন্ধের যে বিষয়টিকে নির্দেশ করা হয়েছে তা হলো মানসিক আনন্দপ্রাপ্তির বিষয়।

উদ্দীপকের নন্দলাল বসু তাঁর ‘শিল্পকলা’ গ্রন্থে বলেছেন, যেসব সৃষ্টিতে মানুষের প্রয়োজন অপেক্ষা মানসিক আনন্দ বেশি, তাই ললিতকলা।

এ বিষয়ে ‘শিল্পকলার নানা দিক’ প্রবন্ধের লেখকও একমত পোষণ করেন। তিনি বলেন, ‘আমাদের প্রাত্যহিক জীবনে ঘটিবাটি, বিছানাপত্র থেকে শুরু করে নানা রকম জিনিসের প্রয়োজন হয়। কিন্তু প্রয়োজন মিটলেই মানুষের মন পরিতৃপ্ত হয় না। মানুষের মন বলে, তাকে সুন্দর হতে হবে। তাই প্রয়োজনের জিনিস নকশিকাঁথাকে সুই আর রঙিন সুতা দিয়ে অপূর্ব সুন্দর করে সাজায় গাঁয়ের বধূরা। নকশিকাঁথা দেখলেই সুন্দর লাগে, তার প্রয়োজনের কথাটি তখন মনেই পড়ে না। প্রয়োজনের কাজ মিটলে শরীর তৃপ্ত হয়; আর প্রয়োজনের বাইরে যে সুন্দর, তা মনকে তৃপ্ত করে। অর্থাৎ উদ্দীপকের নন্দলাল বসুর বক্তব্য আর ‘শিল্পকলার নানা দিক’ প্রবন্ধের লেখকের বক্তব্য একই, যা মানসিক আনন্দ প্রদানের দিকটিকে অর্থাৎ ললিতকলাকে নির্দেশ করে।

 

(ঘ) চারু ও কারুকলার সমন্বিত রূপ শিল্পকলা—কথাটি ‘শিল্পকলার নানা দিক’ প্রবন্ধের আলোকে বিশ্লেষণ করো।

উত্তর : চারু ও কারুকলার সমন্বিত রূপ যে শিল্পকলা, তা আমরা প্রয়োজনের সামগ্রী হিসেবে নকশিকাঁথা, আবার সৌন্দর্যের সামগ্রী হিসেবে এটাকে বিবেচনা করলেই বুঝতে পারি।

উদ্দীপকের নন্দলাল বসু তাঁর ‘শিল্পকলা’ গ্রন্থে বলেছেন, স্থাপত্যবিদ্যাপ্রসূত সুরম্য প্রাসাদকে যখন মানুষ বসবাসের উপযোগী করে দেখে, তখন তা হয় কারুকলা বা কারুশিল্প। আবার ওটাকেই যখন রূপময় অসীম সৌন্দর্য সৃষ্টি হিসেবে দেখা হয়, তখন তা হয় চারুকলা।

‘শিল্পকলার নানা দিক’ প্রবন্ধের লেখকও এ বিষয়ে একমত পোষণ করেন। তিনি বলেছেন, সব সুন্দরের সৃষ্টির মধ্যে একটা রূপ আছে, আর তার নাম স্বাধীনতা, অপর নাম যা খুশি তাই করা। যে কাজ সবাইকে আনন্দ দেয়, খুশি করে, তাই সুন্দর। স্বার্থপর বা অসংগত আমির খুশি নয়, অনেক মনে খুশির বিস্তার করা আমি। আমাদের প্রাত্যহিক জীবনে ঘটিবাটি থেকে নানা জিনিসের প্রয়োজন হয়। শুধু প্রয়োজন মিটলে যা হয়, তা কারুকলার অন্তর্ভুক্ত। উদাহরণ হিসেবে  লেখক নকশিকাঁথার কথা বলেছেন। নকশিকাঁথা রাতে বিছানায় গায়ে দিয়ে শোয়ার জন্য একটি সামগ্রী, যা সুন্দর-অসুন্দর হওয়ার প্রয়োজন নেই। অর্থাৎ এর বাহ্যিক সৌন্দর্য উপেক্ষা করে যখন এটাকে কেবল প্রয়োজনের সামগ্রী হিসেবে বিবেচনা করা হয়, তখন তা কারুকলার পর্যায়ে পড়ে। আবার এই প্রয়োজনের জিনিসকেই সুই আর রঙিন সুতা দিয়ে অপূর্ব নকশা করে যখন গাঁয়ের বধূরা সাজায়, তখন এটাকে দেখলেই সুন্দর লাগে, জিনিসটির প্রয়োজনীয় কথা মনেই পড়ে না। প্রয়োজনের বাইরের এই সৌন্দর্য মানুষের মনকে পরিতৃপ্ত করে, এরই নাম চারুকলা। এ কারণেই সব জ্ঞানী মানুষ বলেন, সব সুন্দরই সরাসরি প্রয়োজনের বাইরে। আর সুন্দরকে জানার যে জ্ঞান, তার নাম নন্দনতত্ত্ব। নন্দনতত্ত্ব মানে সুন্দরকে বিশ্লেষণ করা, গভীরভাবে উপলব্ধি করা। প্রকৃতি জগতে সুন্দরের প্রকাশ ঘটে নানাভাবে। বিভিন্ন মাধ্যমে চলে সৃষ্টির এই প্রক্রিয়া।

‘শিল্পকলার নানা দিক’ প্রবন্ধের উপরিউক্ত বক্তব্য থেকে এটাই স্পষ্ট হয়—চারু ও কারুকলার সমন্বিত রূপই শিল্পকলা, যার উদাহরণ নকশিকাঁথা।

 

দ্বিতীয় পত্র (বহু নির্বাচনী প্রশ্ন)

১।       ধ্বনির অর্থপূর্ণ মিলনে কী হয়?

            ক. বর্ণ             খ. অর্থ                 

           গ. শব্দ             ঘ. বাক্য

            উত্তর :  গ 

২।       সাধুভাষা রীতি কেন বক্তৃতার উপযোগী নয়?

            ক. লেখায় ব্যবহৃত হয় বলে          

            খ. তৎসম শব্দবহুল বলে

            গ. আভিজাত্য ও গাম্ভীর্যপূর্ণ বলে

             ঘ. সর্বনাম ও ক্রিয়াপদ দীর্ঘ বলে

            উত্তর : ক

৩।      কোনটির সঙ্গে সাধারণত অর্থের সংশ্লিষ্টতা থাকে না?

            ক. বাক্য          খ. ধ্বনি          

             গ. শব্দ           ঘ. ভাষা

            উত্তর : খ

৪।       ক্, খ্, গ্, ঘ্, প্, স্—এই ধ্বনিগুলোকে প্রকৃষ্টভাবে শ্রুতিযোগ্য করে উচ্চারণ করতে হলে কোন স্বরধ্বনির আশ্রয় নিতে হয়?

            ক. অ   খ. ই              

           গ. গ     ঘ. ও

            উত্তর :  ক

৫।       স্বরবর্ণের পূর্ণরূপ শব্দের মধ্যে বসেছে নিচের কোন শব্দে?

            ক. ঋণ             খ. যাও           

           গ. এক             ঘ. আবহাওয়া

            উত্তর : ঘ

৬।      ‘হ’ ব্যঞ্জন বর্ণটির উচ্চারণ স্থান অনুসারে নাম কী?

            ক. কণ্ঠ্যবর্ণ     খ. তালব্য বর্ণ           

           গ. মূর্ধন্য বর্ণ    ঘ. কণ্ঠ্যেষ্ঠ বর্ণ

            উত্তর : ক


মন্তব্য