kalerkantho

রবিবার। ৪ ডিসেম্বর ২০১৬। ২০ অগ্রহায়ণ ১৪২৩। ৩ রবিউল আউয়াল ১৪৩৮।


একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি : যুক্তিবিদ্যা দ্বিতীয় পত্র

সৃজনশীল প্রশ্ন

আবদুল কুদ্দুস, প্রভাষক, রেসিডেনসিয়াল মডেল কলেজ, মোহাম্মদপুর, ঢাকা   

৮ সেপ্টেম্বর, ২০১৬ ০০:০০



প্রথম অধ্যায়

যৌক্তিক সংজ্ঞা

 

উদ্দীপক-১

দুই বন্ধু—মারুফ ও রেদওয়ান, ক্লাসে প্রতিদিন পড়া শিখে আসে। একদিন তারেক স্যার বাংলা ক্লাসে মারুফকে জিজ্ঞেস করেন, ‘ব্যাকরণ মানে কী?’ মারুফ জবাব দেয়, ‘ব্যাকরণ মানে বিশেষভাবে বিশেষণ।

’ তখন রেদওয়ান দাঁড়িয়ে বলল, ‘ব্যাকরণ মানে ভাষা শেখার বিভিন্ন নিয়মকানুন জানা ও নিয়মগুলো বিভিন্ন বাক্যে প্রয়োগ করার কৌশল জানা। সুন্দর ভাষায় কথা বলার জন্য ব্যাকরণ জানা প্রয়োজন। ’

ক) সংজ্ঞা মানে কী?

খ) বাহুল্য সংজ্ঞা কেন হয়?

গ) মারুফের সংজ্ঞায় কোন ধরনের অসংগতি ঘটেছে? ব্যাখ্যা করো।

ঘ) রেদওয়ানের কথাগুলো কি সংজ্ঞার অন্তর্ভুক্ত করা যায়? মন্তব্য দাও।

উত্তর

ক. কোনো পদের জাত্যর্থের সুস্পষ্ট বিবৃতিকে যৌক্তিক সংজ্ঞা বলে।

খ. বাহুল্য সংজ্ঞা যৌক্তিক সংজ্ঞার প্রথম নিয়ম লঙ্ঘনজনিত একটি অসংগতি। সংজ্ঞার প্রথম নিয়মটি হলো যে পদের সংজ্ঞা দিতে হবে সংজ্ঞায় সে পদের জাত্যর্থকে সুস্পষ্টভাবে উল্লেখ করতে হবে, জাত্যর্থের কমও নয় বেশিও নয়। বাহুল্য সংজ্ঞায় জাত্যর্থ ও তার অতিরিক্ত গুণ হিসেবে উপলক্ষণ উল্লেখ করা হয়। এ জন্যই একে বাহুল্য সংজ্ঞা বলে। যেমন—মানুষ বুদ্ধিবৃত্তিসম্পন্ন শিক্ষিত প্রাণী। এখানে ‘শিক্ষিত’ পদটি উপজাতিগত উপলক্ষণ।

গ. উদ্দীপকে মারুফ ব্যাকরণের যে সংজ্ঞা দেয় তা হলো—ব্যাকরণ মানে বিশেষভাবে বিশেষণ। এটি মূলত ব্যাকরণ শব্দের আক্ষরিক অর্থ। এখানে চক্রক সংজ্ঞা অসংগতি ঘটেছে।

সংজ্ঞার তৃতীয় নিয়ম লঙ্ঘনের কারণে চক্রক সংজ্ঞার অসংগতি ঘটে। তৃতীয় নিয়মটি হচ্ছে—যে পদের সংজ্ঞা দিতে হবে সংজ্ঞায় সে পদ বা তার কোনো সমার্থক পদ ব্যবহার করা যাবে না। এ নিয়মের ব্যতিক্রম করলে মূলত জাত্যর্থের প্রকাশ ঘটে না। জাত্যর্থ হলো আসন্নতম জাতি ও বিভেদক লক্ষণের সমন্বয়। সমার্থক শব্দে তা থাকে না। যেমন—ব্যাকরণ মানে বিশেষভাবে বিশেষণ, এখানে সমার্থক শব্দের মাধ্যমে শব্দটিকে স্পষ্ট করা হয়েছে, জাত্যর্থ উল্লেখ করা হয়নি।

সুতরাং আমরা বলতে পারি, মারুফের সংজ্ঞায় চক্রক সংজ্ঞাজনিত অসংগতি ঘটায় সংজ্ঞাটি যথার্থ সংজ্ঞা হয়নি।

ঘ. উদ্দীপকে রেদওয়ান ব্যাকরণ সম্পর্কে যে কথাগুলো বলেছে সেগুলোতে ব্যাকরণের সংজ্ঞায় আসেনি বরং ব্যাকরণ সম্পর্কে একটি বর্ণনা এসেছে। নিচে এর কারণ উল্লেখ করা হলো :

(১) সংজ্ঞায় কোনো পদের জাত্যর্থের সুস্পষ্ট বিবৃতি থাকে কিন্তু বর্ণনায় ওই পদ সম্পর্কে জাত্যর্থের বাইরে যেকোনো প্রাসঙ্গিক বিষয় থাকতে পারে। যেমনটি এখানে ব্যাকরণ সম্পর্কে জাত্যর্থ উল্লেখ না করে অন্যান্য প্রাসঙ্গিক বিষয় বর্ণনা করা হয়েছে। তাই রেদওয়ানের কথাগুলো সংজ্ঞার অন্তর্ভুক্ত নয়।

(২) এখানে ব্যাকরণ সম্পর্কিত কথাগুলো যৌক্তিক সংজ্ঞার পাঁচটি নিয়মের কোনোটির অন্তর্ভুক্ত করা সম্ভব নয়, তাই এগুলোকে সংজ্ঞা বলা যায় না। কারণ সংজ্ঞা হতে হলে নিয়মের অনুসরণ করতে হয়।

(৩) সংজ্ঞা হচ্ছে একটি সংক্ষিপ্ত প্রক্রিয়া। অথচ উদ্দীপকের কথাগুলো একাধিক বাক্যের সমন্বয়। সুতরাং এটি একটি বর্ণনা, সংজ্ঞা নয়।

(৪) সংজ্ঞায় আসন্নতম জাতি ও বিভেদক লক্ষণ থাকতে হয়, কিন্তু রেদওয়ানের কথায় সে ধরনের কোনো কিছুর উল্লেখ নেই। তাই একে সংজ্ঞা বলা যায় না।

সুতরাং আমরা বলতে পারি, রেদওয়ানের কথাগুলোতে সংজ্ঞার নিয়মের অনুসরণ হয়নি, তাই তাকে সংজ্ঞা বলা যায় না।


মন্তব্য