kalerkantho


এইচএসসি প্রস্তুতি : বাংলা দ্বিতীয় পত্র

গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন

মো. শহিদুল ইসলাম প্রভাষক ন্যাশনাল আইডিয়াল কলেজ খিলগাঁও, ঢাকা   

৩ এপ্রিল, ২০১৬ ০০:০০



এইচএসসি প্রস্তুতি : বাংলা দ্বিতীয় পত্র

ব্যাকরণ

 

১। বাংলা একাডেমির প্রমিত বাংলা বানানের পাঁচটি/ছয়টি নিয়ম উদাহরণসহ লেখো।

অথবা, আধুনিক বাংলা বানানের পাঁচটি নিয়ম উদাহরণসহ লেখো।

উত্তর : বাংলা বানানের নিয়ম :

১. সব অ-তৎসম শব্দে অর্থাৎ তদ্ভব, দেশি, বিদেশি ও মিশ্র শব্দে কেবল ই এবং উ-কার ব্যবহূত হবে। এমনকি জাতিবাচক ও স্ত্রীবাচক শব্দের ক্ষেত্রেও এ নিয়ম প্রযোজ্য হবে। যেমন—বাড়ি, শাড়ি, তরকারি, ইংরেজি, জাপানি, দিদি ইত্যাদি।

২. ‘আলি’ প্রত্যয়যুক্ত শব্দে ই-কার হবে। যেমন—মিতালি, বর্ণালি, সোনালি ইত্যাদি। তবে নাম বিশেষ্যের ক্ষেত্রে প্রত্যয় চলতে পারে।

৩. সর্বনাম, বিশেষণ ও ক্রিয়া বিশেষণ পদরূপে ‘কী’ শব্দটি ঈ-কার দিয়ে লেখা হবে। যেমন—কী করছ? কী পড়ো? অন্য সব ক্ষেত্রে অব্যয় পদরূপে ই-কার দিয়ে শব্দটি লেখা হবে। যেমন—সে কি এসেছিল? তুমিও কি যাবে?

৪. পদাশ্রিত নির্দেশকটিতে ই-কার হবে। যেমন—মেয়েটি, বইটি।

৫. তৎসম শব্দে ‘ক্ষ’ অপরিবর্তনীয়। যেমন—ক্ষেত, ক্ষীর, ক্ষুর ইত্যাদি। তবে অ-তৎসম শব্দে খুদ, খুর, খিদে ইত্যাদি লেখা চলবে।

২। নিচের উপসর্গযোগে যেকোনো ছয়টি শব্দ গঠন করো :

অ, অতি, অনু, অব, আ, পরি, প্র, সম।

উত্তর : অ + খ্যাতি = অখ্যাতি  

অতি + শয় = অতিশয়

অনু + তাপ = অনুতাপ

অব + দান = অবদান

আ + বাদ = আবাদ  

পরি + চয় = পরিচয়

প্র + ভাত = প্রভাত  

সম + কাল = সমকাল

৩। ছয়টি উপসর্গযোগে শব্দ গঠন করে বাক্যে প্রয়োগ দেখাও।

উত্তর : পরিণয়, প্রহার, সুবাস, অতিরিক্ত, পরাজয়, উৎসব।

পরি + ণয় = পরিণয় (তাদের পরিণয় শেষ পর্যন্ত ঘটেনি। )

প্র + হার = প্রহার (চোরকে প্রহার করে ছেড়ে দাও। )

সু + বাস = সুবাস (ফুলের সুবাস ভালো লাগে। )

অতি + রিক্ত = অতিরিক্ত (অতিরিক্ত কোনো কিছুই ভালো না। )

পরা + জয় = পরাজয় (পরাজয়ে ডরে না বীর। )

উৎ + সব = উৎসব (ঈদের উৎসবে সকলে মেতে আছে। )

৪। উপসর্গ কাকে বলে? বাংলা শব্দ গঠনে উপসর্গের ভূমিকা আলোচনা করো।

উত্তর : যেসব বর্ণ বা বর্ণসমষ্টি শব্দের পূর্বে বসে নতুন শব্দ গঠন করে, শব্দের অর্থের পরিবর্তন ঘটায় তাদের উপসর্গ বলে। যেমন—‘প্র’ একটি উপসর্গ, এটি ‘হার’ শব্দের পূর্বে যুক্ত হয়ে ‘প্রহার’ নতুন শব্দটি গঠিত হয়।

বাংলা শব্দ গঠনের ক্ষেত্রে উপসর্গ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। কেননা উপসর্গ যুক্ত হলে একটি শব্দ সম্পূর্ণ নতুন রূপ ধারণ করে এবং অর্থের পরিবর্তন ঘটায়, যা শব্দ গঠনের অন্য কোনো প্রক্রিয়ায় সম্ভব নয়। আবার উপসর্গ কখনো কখনো শব্দের অর্থের সংকোচন অথবা সম্প্রসারণ ঘটিয়ে থাকে।

৫। উপসর্গের অর্থবাচকতা নেই, কিন্তু অর্থদ্যোতকতা আছে—আলোচনা করো।

উত্তর : উপসর্গ নতুন শব্দ গঠনের একটি প্রক্রিয়া। যেসব বর্ণ বা বর্ণ সমষ্টি ধাতু বা শব্দের পূর্বে বসে নতুন শব্দ গঠন করে সেগুলোকে উপসর্গ বলে। উপসর্গ মূলত কতগুলো অব্যয়সূচক শব্দাংশ।

বাংলা ভাষায় প্র, পরা, পরি, নির ইত্যাদি উপসর্গের নিজস্ব কোনো অর্থ নেই। কিন্তু এগুলো নতুন শব্দ সৃষ্টি করে শব্দের বৈচিত্র্য বা পরিবর্তন ঘটাতে পারে। যেমন—‘উপ’ একটি উপসর্গ, ‘হার’ একটি মৌলিক শব্দ, যার অর্থ অলংকার বিশেষ। ‘হার’ শব্দের পূর্বে ‘উপ’ উপসর্গ যুক্ত হয়ে ‘উপহার’ শব্দটি গঠিত হয়, যা নতুন অর্থ প্রকাশ করে। এভাবে মৌলিক শব্দের পূর্বে বিভিন্ন উপসর্গ ব্যবহূত হয়ে একাধিক নতুন অর্থের দ্যোতনা সৃষ্টি করতে সক্ষম। যেমন—

আ + হার = আহার

বি + হার = বিহার

প্র + হার = প্রহার।

এখানে প্রতিটি উদাহরণেই মূল অর্থ ও নতুন অর্থের সঙ্গে পার্থক্য বিদ্যমান।

তাই বলা যায়, উপসর্গের নিজস্ব কোনো অর্থ নেই; কিন্তু অন্য শব্দের অর্থকে বদলে দিতে পারে। অর্থাৎ উপসর্গের অর্থবাচকতা নেই। কিন্তু অর্থদ্যোতকতা আছে।

 

ভাবসম্প্রসারণ

 

১। মিত্র সর্বত্রই সুলভ, মিত্রত্ব রক্ষা করাই কঠিন।

উত্তর : মূলভাব : সামাজিক জীব হিসেবে মানুষ একে অপরের সঙ্গে বন্ধুত্ব গড়ে তোলে। কিন্তু বন্ধুত্ব গড়া যত সহজ, তা রক্ষা করা তত কঠিন।

সম্প্রসারিত ভাব : মানুষ সামাজিক জীব, তাই চাইলেই একাকী বেঁচে থাকতে পারবে না। জীবনে প্রতিটি কাজেই কোনো না কোনোভাবে কারো সাহায্য-সহযোগিতা নিতে হবে।

বিভিন্ন কাজে বা ভাব বিনিময়ে তার একজন ভালো বন্ধু বা সঙ্গীও দরকার। কিন্তু বন্ধু পাওয়া সহজ, বন্ধুত্ব স্থায়ী রাখা খুবই কষ্টসাধ্য। কারণ মানুষ স্বভাবতই স্বার্থবুদ্ধিসম্পন্ন এবং আত্ম-অহমিকায় পূর্ণ। বন্ধুত্ব পেতে গেলে নিজেরও বন্ধভাবাপন্ন হতে হয়। আসলে আমরা পেতে যতটা ভালোবাসি, ততটা দিতে পারি না। একজনের কাছে পাওয়া বন্ধুত্বের প্রতিদান দিতে গেলেই স্বার্থে কিছুটা টান লাগে। স্বার্থ ত্যাগের ব্যাপারটায় আমরা একটু কার্পণ্যই করি। আর এই ত্যাগ দিতে পারি না বলেই বন্ধুত্বে ফাটল ধরে।

কারণ যিনি বন্ধুত্ব দেন তিনিও তার বিনিময়ে তা পেতে চান। না পেলেই তখন মিত্রত্বের সুতায় টান পড়ে। তাই মিত্র পাওয়া যত সহজ, মিত্রত্বকে টিকিয়ে রাখা তত কঠিন।

মন্তব্য : মানুষের জীবনে মিত্রত্ব একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। তাই মিত্রত্ব রক্ষায় সবাইকে সচেতন হওয়া উচিত।

২। আলো ও অন্ধকার পাশাপাশি অবস্থান করে।

উত্তর : মূলভাব : আলো ও অন্ধকার সম্পূর্ণ বিপরীত রূপের হলেও এই বৈপরীত্য প্রকৃতির একটি বিশেষ বৈশিষ্ট্য প্রকাশ করে। একটি আছে বলেই অন্যটির অস্তিত্ব কল্পনা করা সম্ভব হয়। কেবল তাই নয়, একটি অপরটিকে স্পষ্ট করে তোলে।

সম্প্রসারিত ভাব : অন্ধকার আছে বলেই আলোকে আমরা এমন স্পষ্ট করে পাই। আবার আলো আছে বলেই অন্ধকারের পরিচয় পাওয়া যায়। আঁধার না থাকলে যেমন আলোর স্বরূপ বোঝা যায় না, তেমনি আলোর অভাবে অন্ধকারেরও পরিচয় মেলে না।

আলো-আঁধারের এই পাশাপাশি অবস্থান প্রকৃতির সত্য বৈশিষ্ট্যের সঙ্গে জীবন-সত্যেরও একটি বিশেষ বৈশিষ্ট্য নির্দেশ করে।

তাহলো সুখ-দুঃখ, আশা-নৈরাশ্য, ভালো-মন্দ ইত্যাদি আলো-আঁধারের মতো জীবনে পাশাপাশি অবস্থান করে। এরই প্রেক্ষাপটে জীবনকে মূল্যায়ন করা যায়।

একটি ছাড়া অন্যটির অস্তিত্ব আমরা কল্পনা করতে পারি না।

মন্তব্য : সুখ-দুঃখ, আশা-নিরাশা, আলো-আঁধার ইত্যাদি পরস্পর বিপরীত হলেও একটির অভাবে অন্যটি মূল্যহীন হয়ে দাঁড়ায়।

এ জন্য পাশাপাশি অবস্থান করে এরা উভয়েরই গুরুত্ব নির্দেশ করে।

 

ই-মেইল

 

১। স্বাধীনতা দিবস উপলক্ষে সেমিনারে বন্ধুকে আমন্ত্রণ জানিয়ে একটি ই-মেইলের খসড়া তৈরি করো।

To : saiful...@yahoo.com

Cc : ......@gmail.com

Bcc : ......@hotmail.com

Subject : স্বাধীনতা দিবস উপলক্ষে সেমিনারে যোগদানের জন্য আমন্ত্রণ।

Text:

প্রিয় সাইফুল,

আন্তরিক শুভেচ্ছা ও ভালোবাসা নিও। তুমি জেনে খুশি হবে যে স্বাধীনতা দিবস উপলক্ষে আমাদের কলেজে একটি সেমিনারের আয়োজন করা হয়েছে। সেমিনারটিতে এলাকার অনেক গণ্যমান্য ব্যক্তি উপস্থিত থাকবেন। সেমিনার শেষে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানও পরিবেশিত হবে। উক্ত সেমিনারে যোগদানের মাধ্যমে তুমি উপকৃত হবে বলে আমি মনে করি। তাই তোমার উপস্থিতি আশা করছি।

 

সফিক

safiq...@hotmail.com

Attachment : অনুষ্ঠানের সময়সূচি

 

২। বিজয় দিবস উপলক্ষে আলোচনা সভায় একজন মুক্তিযোদ্ধাকে আমন্ত্রণ জানিয়ে একটি ই-মেইল খসড়া তৈরি করো।

To : abc d...@gmail.com

Cc : ..........@gmail.com

Bcc : .........@gmail.com

Subject : বিজয় দিবস উপলক্ষে আলোচনা সভায় আমন্ত্রণ।

Text :

জনাব,

আমাদের কলেজে মহান বিজয় দিবস উপলক্ষে ১৬ ডিসেম্বর সকাল ১০টায় এক আলোচনা সভার আয়োজন করা হয়েছে। সভায় এলাকার গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ ও সম্মানিত মুক্তিযোদ্ধারা উপস্থিত থাকবেন। মহান বিজয় দিবসের আনন্দ ভাগাভাগি করে নেওয়ার জন্য একজন মুক্তিযোদ্ধা হিসেবে উক্ত সভায় আপনার উপস্থিতি কামনা করছি।

১। ইভ টিজিং থেকে পরিত্রাণের জন্য গণসচেতনতা সৃষ্টির লক্ষ্যে পত্রিকায় প্রকাশের উপযোগী একটি পত্র লেখো।

১ মার্চ ২০১৬

বরাবর

সম্পাদক

দৈনিক ...........

ঢাকা।

জনাব,

আপনার বহুল প্রচারিত পত্রিকার ‘চিঠিপত্র’ বিভাগে প্রকাশের জন্য ‘ইভ টিজিং থেকে পরিত্রাণ চাই’ শিরোনামের চিঠিটি পাঠিয়েছি। সময়োপযোগী এ বিষয়ের গুরুত্ব বিবেচনা করে চিঠিটি পত্রিকায় প্রকাশের জন্য অনুরোধ করছি।

বিনীত,

তাহসীন

কুমিল্লা।

 

ইভ টিজিং থেকে পরিত্রাণ চাই

আমাদের দেশের জনসংখ্যার অর্ধেকই নারী। দেশের অগ্রগতি ও উন্নয়নে নারীসমাজের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে। কিন্তু বর্তমানে নারীসমাজ ইভ টিজিংয়ের শিকার। ইভ টিজিংয়ের কারণে অপমান সহ্য করতে না পেরে বহু কিশোরী-তরুণী আত্মহননের পথ বেছে নিয়েছে। এর প্রতিবাদ করতে গিয়ে বখাটেদের হাতে প্রাণ দিতে হয়েছে শিক্ষক, ভাই ও  অভিভাবকদের। সমাজে এই নাজুক চিত্র খুবই উদ্বেগজনক। এর থেকে উত্তরণের বিষয়টি খুবই জরুরি। গণসচেতনতা এ সমস্যার সমাধানে মুখ্য ভূমিকা পালন করতে পারে।

ইভ টিজিং এক ধরনের যৌন নির্যাতন। ইভ টিজিংয়ে ৬৫ থেকে ৭০ শতাংশ ঘটনা স্কুল-কলেজের ছাত্রীদের নিয়েই ঘটে থাকে। নারীরা ঘরে-বাইরে কর্মক্ষেত্রে উত্ত্যক্ত হচ্ছে। নারীকে লক্ষ করে অশালীন মন্তব্য, শিস দেওয়া, গান গাওয়া, অঙ্গভঙ্গি ইত্যাদির মাধ্যমে তাদের উত্ত্যক্ত করা হচ্ছে। ইন্টারনেট ও তথ্যপ্রযুক্তির অপব্যবহারের মাধ্যমেও নারীকে হয়রানি করা হচ্ছে।

ইভ টিজিং ছড়িয়ে পড়ার বহুবিধ কারণ রয়েছে। এ কারণগুলোর মধ্যে সামাজিক, সাংস্কৃতিক, পারিবারিক ও নৈতিক মূল্যবোধের অবক্ষয়, নারীর প্রতি শ্রদ্ধাশীল দৃষ্টিভঙ্গির অভাব, অপসংস্কৃতির অনুপ্রবেশ, অশ্লীল ছবির ছড়াছড়ি, কুরুচিপূর্ণ স্যাটেলাইট চ্যানেল, পারিবারিক অসচেতনতা, অসৎ সঙ্গ, মাদকাসক্তি, বেকারত্ব, অশিক্ষা-কুশিক্ষা এর জন্য দায়ী।

ইভ টিজিংয়ের প্রতিরোধে আমাদের এগিয়ে আসতে হবে। যুবকদের সংগঠিত করে সত্য ও ন্যায়ের পথে চলতে উদ্বুদ্ধ করতে হবে। ধর্ম ও নৈতিক শিক্ষার প্রসার ঘটিয়ে যুব সমাজকে সচেতন করতে হবে। কুরুচিপূর্ণ স্যাটেলাইট চ্যানেলগুলো দেখা বন্ধ করতে হবে। নারীর প্রতি ইতিবাচক দৃষ্টিভঙ্গি পোষণ করতে হবে। নারী-পুরুষ সমাজের তথা দেশের অপরিহার্য অংশ। নারী ইভ টিজিংমুক্ত হলেই আমরা সুন্দর জীবন, সুন্দর সমাজব্যবস্থা ফিরে পাব।

 

বিনীত

তাহসীন, কুমিল্লা।


মন্তব্য