kalerkantho


নবম ও দশম শ্রেণি পৌরনীতি ও নাগরিকতা

অনুধাবনমূলক প্রশ্ন

তাহেরা খানম,সহকারী শিক্ষক,ইসলামিয়া সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়, সূত্রাপুর, ঢাকা   

২ এপ্রিল, ২০১৬ ০০:০০



প্রথম অধ্যায় : পৌরনীতি ও নাগরিকতা

১। রাষ্ট্র সৃষ্টির ঐশী মতবাদ সম্পর্কে সংক্ষেপে লেখো।

উত্তর : ঐশী মতবাদ রাষ্ট্রের উত্পত্তি সম্পর্কে সবচেয়ে পুরনো মতবাদ। এ মতবাদে বলা হয়, বিধাতা বা স্রষ্টা স্বয়ং রাষ্ট্র সৃষ্টি করেছেন এবং রাষ্ট্রকে সুষ্ঠুভাবে পরিচালনার জন্য তিনি শাসক প্রেরণ করেছেন। শাসক তাঁর প্রতিনিধি এবং তিনি তাঁর কাজের জন্য একমাত্র স্রষ্টা বা বিধাতার নিকট দায়ী, জনগণের নিকট নন। শাসক যেহেতু স্রষ্টার নির্দেশে কাজ করেন, সেহেতু শাসকের আদেশ অমান্য করার অর্থ বিধাতার আদেশ অমান্য করা। এ মতবাদ অনুসারে শাসক একাধারে যেমন রাষ্ট্রপ্রধান এবং অন্যদিকে তিনিই আবার ধর্মীয় প্রধান।

২। রাষ্ট্র সৃষ্টির বল বা শক্তি প্রয়োগ মতবাদ সম্পর্কে সংক্ষেপে লেখো।

উত্তর : বল বা শক্তি প্রয়োগ মতবাদের মূল বক্তব্য হলো—বল বা শক্তি প্রয়োগের মাধ্যমে রাষ্ট্রের উত্পত্তি হয়েছে।

এ মতবাদ অনুসারে শক্তির জোরে রাষ্ট্র টিকে আছে। এ মতবাদে বলা হয়, সমাজের বলশালী ব্যক্তির যুদ্ধ-বিগ্রহ বা বল প্রয়োগের মাধ্যমে দুর্বলের ওপর নিজেদের আধিপত্য স্থাপনের মাধ্যমে রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠা করে এবং শাসনকার্য পরিচালনা করে। এ মতবাদে আরো বলা হয়, সৃষ্টির শুরু থেকে আজ পর্যন্ত এভাবেই যুদ্ধ-বিগ্রহের মাধ্যমে রাষ্ট্রের জন্ম হয়েছে।

৩। রাষ্ট্র সৃষ্টির সামাজিক চুক্তি মতবাদ সম্পর্কে সংক্ষেপে লেখো।

উত্তর : সামাজিক চুক্তি মতবাদের মূল কথা হলো—সমাজে বসবাকারী জনগণের পারস্পরিক চুক্তির ফলে রাষ্ট্রের জন্ম হয়েছে।

এ মতবাদ অনুযায়ী, রাষ্ট্র সৃষ্টির আগে মানুষ প্রকৃতির রাজ্যে বসবাস করত। তারা প্রকৃতির নিয়ম মেনে চলত এবং প্রাকৃতিক সুযোগ-সুবিধা ভোগ করত। কিন্তু প্রকৃতির রাজ্যে আইন অমান্য করলে শাস্তি দেওয়ার কোনো কর্তৃপক্ষ ছিল না। ফলে সামাজিক জীবনে অরাজকতা ও বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি হয়। মানুষ হয়ে ওঠে স্বার্থপর ও আত্মকেন্দ্রিক। দুর্বলের ওপর চলে সবলের অত্যাচার। এ কারণে মানুষের জীবন কষ্টকর ও দুর্বিষহ হয়ে ওঠে। এ ছাড়া প্রকৃতির রাজ্যে জনসংখ্যা বৃদ্ধি পাওয়ার ব্যক্তিগত সম্পত্তির আকাঙ্ক্ষা ও প্রয়োজনীয়তা দেখা দেয়। প্রকৃতির রাজ্যের এ অরাজকতাপূর্ণ অবস্থা থেকে মুক্ত পাওয়ার জন্য মানুষ নিজেদের মধ্যে চুক্তির মাধ্যমে রাষ্ট্র সৃষ্টি করে এবং নিরাপত্তার বিনিময়ে নিজেদের ওপর শাসন করার জন্য স্থায়ীভাবে শাসকের হাতে ক্ষমতা অর্পণ করে।

৪। রাষ্ট্র সৃষ্টির ঐতিহাসিক বা বিবর্তনমূলক মতবাদ সম্পর্কে লেখো।

উত্তর : ঐতিহাসিক বা বিবর্তনমূলক মতবাদ অনুসারে রাষ্ট্র বহু যুগের বিবর্তনের ফল। এ মতবাদের মূল বক্তব্য হলো—রাষ্ট্র কোনো একটি বিশেষ কারণে হঠাৎ করে সৃষ্টি হয়নি। দীর্ঘদিনের বিবর্তনের মাধ্যমে সমাজের বিভিন্ন স্তরে বিভিন্ন শক্তি ও উপাদান ধীরে ধীরে পরিবর্তিত হতে হতে রাষ্ট্রের উত্পত্তি হয়েছে। যেসব উপাদানের কার্যকারিতার ফলে রাষ্ট্রের উত্পত্তি হয়েছে, সেগুলো হলো—সংস্কৃতির বন্ধন, রক্তের বন্ধন, ধর্মের বন্ধন, যুদ্ধবিগ্রহ, অর্থনৈতিক ও রাজনৈতিক চেতনা ও কার্যকলাপ।

৫। রাষ্ট্র ও সরকারের মধ্যে দুটি পার্থক্য লেখো।

উত্তর : ১. জনসমষ্টি, ভূখণ্ড, সরকার ও সার্বভৌমত্ব—এই চারটি উপাদান নিয়ে রাষ্ট্র গঠিত হয়। সরকার উক্ত চারটি উপাদানের মধ্যে একটি অন্যতম উপাদান, যার মাধ্যমে রাষ্ট্র পরিচালিত হয়।


মন্তব্য