kalerkantho


নবম ও দশম শ্রেণি : পৌরনীতি ও নাগরিকতা

অনুধাবনমূলক প্রশ্ন

তাহেরা খানম, সহকারী শিক্ষক, ইসলামিয়া সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়, সূত্রাপুর, ঢাকা   

১ এপ্রিল, ২০১৬ ০০:০০



প্রথম অধ্যায়

পৌরনীতি ও নাগরিকতা

১। পরিবারের অর্থনৈতিক কাজ সংক্ষেপে লেখো।

উত্তর : পরিবার বহুবিধ অর্থনৈতিক কাজ সম্পাদন করে থাকে।

পরিবারের সদস্যদের খাদ্য, বস্ত্র, বাসস্থান, শিক্ষা, চিকিৎসা প্রভৃতি চাহিদা পূরণের দায়িত্ব পরিবারের। পরিবারের সদস্যরা বিভিন্নভাবে অর্থ উপার্জনের মাধ্যমে এসব চাহিদা মিটিয়ে থাকে। পরিবারকে কেন্দ্র করে কুটির শিল্প, মত্স্যচাষ, কৃষিকাজ, পশুপালন ইত্যাদি অর্থনৈতিক কার্য সম্পাদিত হয়।

২। পরিবারের রাজনৈতিক কাজগুলো সংক্ষেপে বুঝিয়ে লেখো।

উত্তর : পরিবার কিছু কিছু রাজনৈতিক কাজও সম্পাদন করে থাকে।

পরিবারে সাধারণত মা-বাবা কিংবা বড় ভাই-বোন অভিভাবকের ভূমিকা পালন করেন। আমরা ছোটরা তাঁদের আদেশ-নির্দেশ অনুসরণ বা মান্য করে চলি। তাঁরাও আমাদের অধিকার রক্ষায় কাজ করেন। তাঁরা বুদ্ধি, বিবেক ও আত্মসংযমের শিক্ষা দেন, যা আমাদের সুনাগরিক হতে সাহায্য করে। এভাবে পারিবারিক শিক্ষা ও নিয়ম মেনে চলার মাধ্যমে পরিবারেই শিশুর রাজনৈতিক শিক্ষা শুরু হয়। এ শিক্ষা পরবর্তীকালে রাষ্ট্রীয় জীবনে কাজে লাগে।

৩। পরিবার কিভাবে পরিবারের সদস্যদের মানসিক বিকাশকে সমৃদ্ধ করে?

উত্তর : পরিবার বিভিন্নভাবে পরিবারের সদস্যদের মানসিক বিকাশকে সমৃদ্ধ করে থাকে।

পরিবার মায়া-মমতা, স্নেহ-ভালোবাসা দিয়ে পরিবারের সদস্যদের মানসিক চাহিদা পূরণ করে। নিজের সুখ-দুঃখ, আনন্দ-বেদনা পরিবারের অন্যান্য সদস্যের সঙ্গে ভাগাভাগি করে প্রশান্তি লাভ করা যায়। যেমন—কোনো বিষয়ে মন খারাপ হলে মা-বাবা, ভাই-বোনদের সঙ্গে আলাপ-আলোচনা করে তার সমাধান করা যায়। এ ধরনের আলোচনা মানসিক শ্রান্তি-ক্লান্তি মুছে দিতে সাহায্য করে। তা ছাড়া পরিবার থেকে শিশু উদারতা, সহনশীলতা, সহমর্মিতা প্রভৃতি গুণের শিক্ষা লাভ করে, যা তাদের মানসিক দিককে সমৃদ্ধ করে।

৪। সমাজ বলতে কী বোঝো?

উত্তর : সমাজ বলতে একটি সংঘবদ্ধ জনগোষ্ঠীকে বোঝায়, যারা কোনো সাধারণ উদ্দেশ্য সাধনের জন্য একত্রিত হয়।

একদল লোক যখন সাধারণ উদ্দেশ্য সাধনের জন্য সংঘবদ্ধ হয়ে বসবাস করে, তখনই সমাজ গঠিত হয়। সমাজের এ ধারণাটি বিশ্লেষণ করলে এর প্রধান দুটি বৈশিষ্ট্য লক্ষ করা যায়। যথা—ক) বহুলোকের সংঘবদ্ধভাবে বসবাস এবং (খ) ওই সংঘবদ্ধতার পেছনে সাধারণ উদ্দেশ্য থাকে। তা ছাড়া সমাজের সদস্যদের মধ্যে আরো কিছু বৈশিষ্ট্য লক্ষ করা যায়—ঐক্য ও পারস্পরিক সহযোগিতা, নির্ভরশীলতা, ক্রিয়া-প্রতিক্রিয়া, সাদৃশ্য-বৈসাদৃশ্য ইত্যাদি।

৫। সমাজ গঠনের উদ্দেশ্য কী?

উত্তর : সমাজ গঠনের উদ্দেশ্য হচ্ছে মানুষের প্রয়োজন মেটানো।

সমাজের সঙ্গে মানুষের সম্পর্ক অবিচ্ছেদ্য। মানুষকে নিয়ে সমাজ গড়ে ওঠে। আর সমাজ মানুষের বহুমুখী প্রয়োজন মিটিয়ে উন্নত ও নিরাপদ সামাজিক জীবন দান করে। সমাজের মধ্যেই মানুষের মানবীয় গুণাবলি ও সামাজিক মূল্যবোধের বিকাশ ঘটে। সমাজকে সভ্য জীবনযাপনের আদর্শ স্থান মনে করে বলে মানুষ তার নিজের প্রয়োজনেই সমাজ গড়ে তোলে।

৬। রাষ্ট্র কী?

উত্তর : রাষ্ট্র একটি রাজনৈতিক প্রতিষ্ঠান।

বিশ্বের মানুষ কোনো না কোনো রাষ্ট্রে বসবাস করে। আমাদের এই পৃথিবীতে ছোট-বড় মিলিয়ে ২০৬টি রাষ্ট্র আছে। প্রতিটি রাষ্ট্রেরই আছে নির্দিষ্ট ভূখণ্ড ও জনসংখ্যা। এ ছাড়া রাষ্ট্র পরিচালনার জন্য আরো আছে সরকার ও রাষ্ট্র পরিচালনার সর্বোচ্চ ক্ষমতা অর্থাৎ সার্বভৌমত্ব। অর্থাৎ একটি নির্দিষ্ট ভূখণ্ডে জনসমষ্টি, সরকার ও সার্বভৌমত্ব থাকলে তাকে রাষ্ট্র বলা হয়।

৭। পৌরনীতির ভাষায় জনসমষ্টি কী?

উত্তর : পৌরনীতির ভাষায় জনসমষ্টি রাষ্ট্র গঠনের অপরিহার্য একটি উপাদান।

কোনো ভূখণ্ডে একটি জনগোষ্ঠী স্থায়ীভাবে বসবাস করলেই রাষ্ট্র  গঠিত হতে পারে। তবে একটি রাষ্ট্র গঠনের জন্য কী পরিমাণ জনসমষ্টি প্রয়োজন, এর কোনো সুনির্দিষ্ট নিয়ম নেই। যেমন—বাংলাদেশের জনসংখ্যা প্রায় ১৫ কোটি, ভারতের জনসংখ্যা প্রায় ১২১ কেটি (২০১১), ব্রুনাইয়ে প্রায় দুই লাখ। তবে রাষ্ট্রবিজ্ঞানীদের মতে, একটি রাষ্ট্রের সম্পদের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ জনসংখ্যা থাকা বাঞ্ছনীয়।

৮। রাষ্ট্র গঠনের জন্য নির্দিষ্ট ভূখণ্ডের প্রয়োজনীয়তা কতটুকু?

উত্তর : রাষ্ট্র গঠনের জন্য নির্দিষ্ট ভূখণ্ড থাকা আবশ্যক।

ভূখণ্ড বলতে একটি রাষ্ট্রের স্থলভাগ, জলভাগ ও আকাশসীমাকে বোঝায়। রাষ্ট্রের ভূখণ্ড ছোট বা বড় হতে পারে। যেমন—বাংলাদেশের ক্ষেত্রফল ১,৪৭,৫৭০ বর্গকিলোমিটার। গণচীন, ভারত, যুক্তরাষ্ট্র, কানাডা প্রভৃতি রাষ্ট্রের ক্ষেত্রফল বাংলাদেশের চেয়ে অনেক বড়। নির্দিষ্ট ভূখণ্ড ছাড়া রাষ্ট্র গঠিত হতে পারে না।

৯। সরকার কী?

উত্তর : সরকার রাষ্ট্রের একটি গুরুত্বপূর্ণ উপাদান।

সরকার ছাড়া রাষ্ট্র গঠিত হতে পারে না। রাষ্ট্রের সব কার্যাবলি সরকারের মাধ্যমে পরিচালিত হয়। সরকার গঠিত হয় তিনটি বিভাগ নিয়ে। যথা—আইন বিভাগ, শাসন বিভাগ ও বিচার বিভাগ। সব রাষ্ট্রের সরকারের গঠন একই রকম হলেও রাষ্ট্রভেদে সরকারের রূপ ভিন্ন ভিন্ন হয়ে থাকে। যেমন—বাংলাদেশে সংসদীয় সরকার, আবার যুক্তরাষ্ট্রে রাষ্ট্রপতি শাসিত সরকার। রাষ্ট্রের যাবতীয় শাসনকাজ সরকারই পরিচালনা করে থাকে।

১০। সার্বভৌমত্ব বলতে কী বোঝো?

উত্তর : সার্বভৌমত্ব রাষ্ট্র গঠনের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ও অত্যাবশ্যকীয় উপাদান।

সার্বভৌমত্ব রাষ্ট্রের চরম, পরম ও সর্বোচ্চ ক্ষমতা। এর দুটি দিক রয়েছে। যথা—অভ্যন্তরীণ ও বাহ্যিক সার্বভৌমত্ব। অভ্যন্তরীণ সার্বভৌমত্বের সাহায্যে রাষ্ট্র দেশের অভ্যন্তরে বিভিন্ন আদেশ-নির্দেশ জারির মাধ্যমে ব্যক্তি ও সংস্থার ওপর কর্তৃত্ব করে। অন্যদিকে বাহ্যিক সার্বভৌমত্বের মাধ্যমে রাষ্ট্র বহিঃশক্তির নিয়ন্ত্রণ থেকে দেশকে মুক্ত রাখে।

১১। রাষ্ট্রের উত্পত্তি কিভাবে হয়েছিল?

উত্তর : রাষ্ট্র কখন ও কিভাবে উত্পত্তি লাভ করেছে তা নিশ্চিত করে বলা কঠিন।

রাষ্ট্রবিজ্ঞানীরা অতীত ইতিহাস ও রাজনৈতিক ঘটনা প্রবাহ পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে রাষ্ট্রের উত্পত্তি সম্পর্কে কতগুলো মতবাদ প্রদান করেছেন। তন্মধ্যে উল্লেখযোগ্য মতবাদ হলো— ১. ঐশী মতবাদ ২. বল বা শক্তি প্রয়োগ মতবাদ ৩. সামাজিক চুক্তি মতবাদ ও ৪. ঐতিহাসিক বা বিবর্তনমূলক মতবাদ। ঐশী মতবাদ অনুসারে বিধাতা বা স্রষ্টা স্বয়ং রাষ্ট্র সৃষ্টি করেছেন। বল প্রয়োগ মতবাদ অনুসারে বল বা শক্তি প্রয়োগের মাধ্যমে রাষ্ট্রের উত্পত্তি হয়েছে। সামাজিক চুক্তি মতবাদের মূলকথা হলো—সমাজে বসবাসকারী জনগণের পারস্পরিক চুক্তির ফলে রাষ্ট্রের জন্ম জয়েছে। এবং বিবর্তনমূলক মতবাদ অনুসারে দীর্ঘদিনের বিবর্তনের মাধ্যমে সমাজের বিভিন্ন স্তরে বিভিন্ন শক্তি ও উপাদান ধীরে ধীরে পরিবর্তিত হতে হতে রাষ্ট্রের উত্পত্তি হয়েছে।


মন্তব্য