kalerkantho


নবম ও দশম শ্রেণি : পৌরনীতি ও নাগরিকতা

অনুধাবনমূলক প্রশ্ন

তাহেরা খানম, সহকারী শিক্ষক,ইসলামিয়া সরকারি উচ্চ,বিদ্যালয়, ঢাকা   

৩১ মার্চ, ২০১৬ ০০:০০



১। পৌরনীতি ও নাগরিকতা বিষয়টি নাগরিকদের কী ধরনের বিষয় নিয়ে আলোচনা করে?

উত্তর : পৌরনীতি ও নাগরিকতা নাগরিকদের অতীত, বর্তমান ও ভবিষ্যতের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ বিষয় নিয়ে আলোচনা করে।

যেমন—অতীতে নাগরিকতা কিভাবে নির্ণয় করা হতো, নাগরিকের অধিকার ও কর্তব্য কেমন ছিল, বর্তমানে নাগরিকের মর্যাদা কিরূপ—এসবের ওপর ভিত্তি করে ‘পৌরনীতি ও নাগরিকতা’ বিষয়টি ভবিষত্ নাগরিক জীবনের দিকনির্দেশনা প্রদান করে।

২। পরিবার কাকে বলে?

উত্তর : সমাজ স্বীকৃত বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হয়ে স্বামী-স্ত্রীর একত্রে বসবাস করাকে পরিবার বলে।

বৈবাহিক সম্পর্কের ভিত্তিতে এক বা একাধিক পুরুষ ও মহিলা, তাদের সন্তানাদি, পিতামাতা ও অন্যান্য পরিজন নিয়ে যে সংগঠন গড়ে ওঠে তাকে পরিবার বলে। ম্যাকাইভারের মতে, সন্তান জন্মদান ও লালনপালনের জন্য সংগঠিত ক্ষুদ্র বর্গকে পরিবার বলে। আমাদের দেশে সাধারণত মা-বাবা, ভাই-বোন, চাচা-চাচি ও দাদা-দাদির সমন্বয়ে পরিবার গড়ে ওঠে। তবে শুধু একজন মহিলা বা একজন পুরুষকে পরিবার বলা হয় না। মূলত পরিবার হলো স্নেহ, মায়া, মমতা, ভালোবাসার বন্ধনে আবদ্ধ হয়ে গঠিত ক্ষুদ্র সামাজিক প্রতিষ্ঠান।

৩।

বংশ গণনার ভিত্তিতে আমাদের দেশে পরিবার কী কী ধরনের হয়ে থাকে? বুঝিয়ে লেখো।

উত্তর : বংশ গণনার ভিত্তিতে আমাদের দেশে পরিবার পিতৃতান্ত্রিক ও মাতৃতান্ত্রিক এই দুই ধরনের হয়ে থাকে।

পিতৃতান্ত্রিক পরিবারে সন্তানরা পিতার বংশপরিচয়ে পরিচিত হয় এবং পিতা পরিবারে নেতৃত্ব দেন। আমাদের দেশের অধিকাংশ পরিবার এ ধরনের। অন্যদিকে মাতৃতান্ত্রিক পরিবারে মায়ের বংশপরিচয়ে সন্তানরা পরিচিত হয় এবং মা পরিবারে নেতৃত্ব দেন। যেমন—আমাদের দেশে গারোদের মধ্যে এ ধরনের পরিবার লক্ষ করা যায়।

৪। গঠন ও কাঠামোর ভিত্তিতে পরিবার কী কী ধরনের হয়ে থাকে। বুঝিয়ে লেখো।

উত্তর : গঠন ও কাঠামোর ভিত্তিতে পরিবার দুই ধরনের হয়ে থাকে। যথা—একক ও যৌথ পরিবার।

একক পরিবার মা-বাবা ও ভাই-বোন নিয়ে গঠিত হয়। এ ধরনের পরিবার ছোট হয়ে থাকে। যৌথ পরিবারে মা-বাবা, দাদা-দাদি, চাচা-চাচি ও অন্যান্য পরিজন একত্রে বাস করে। যৌথ পরিবার বড় পরিবার। বাংলাদেশে উভয় ধরনের পরিবার রয়েছে। তবে বর্তমানে একক পরিবারের সংখ্যা বাড়ছে। মূলত যৌথ পরিবার কয়েকটি একক পরিবারের সমষ্টি।

৫। বৈবাহিক সূত্রের ভিত্তিতে পরিবার কী কী ধরনের হয়ে থাকে? বুঝিয়ে লেখো।

উত্তর : বৈবাহিক সূত্রের ভিত্তিতে তিন ধরনের পরিবার লক্ষ করা যায়। যথা—একপত্নীক, বহুপত্নীক ও বহুপতি পরিবার।

একপত্নীক পরিবারে একজন স্বামীর একজন স্ত্রী থাকে এবং বহুপত্নীক পরিবারে একজন স্বামীর একাধিক স্ত্রী থাকে। আমাদের সমাজের অধিকাংশ পরিবার একপত্নীক, তবে বহুপত্নীক পরিবারও কদাচিত্ দেখা যায়। বহুপতি পরিবারে একজন স্ত্রীর একাধিক স্বামী থাকে। বাংলাদেশে এ ধরনের পরিবার দেখা যায় না।

৬। পরিবারের যেকোনো একটি কাজ সংক্ষেপে বুঝিয়ে লেখো।

উত্তর : পরিবারের একটি গুরুত্বপূর্ণ কাজ হচ্ছে জৈবিক কাজ।

আমাদের মা-বাবা বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হওয়ার ফলেই আমরা জন্মগ্রহণ করেছি এবং তাদের দ্বারা লালিত-পালিত হচ্ছি। অতএব, সন্তান জন্মদান ও লালন-পালন করা পরিবারের অন্যতম কাজ। পরিবারের এ ধরনের কাজকে জৈবিক কাজ বলা হয়।


মন্তব্য