kalerkantho

মঙ্গলবার । ১৭ জানুয়ারি ২০১৭ । ৪ মাঘ ১৪২৩। ১৮ রবিউস সানি ১৪৩৮।


নবম ও দশম শ্রেণি : পৌরনীতি ও নাগরিকতা

অনুধাবনমূলক প্রশ্ন

তাহেরা খানম, সহকারী শিক্ষক, ইসলামিয়া সরকারি উচ্চ, বিদ্যালয়, ঢাকা   

৩০ মার্চ, ২০১৬ ০০:০০



পৌরনীতি ও নাগরিকতা

 

১।   পৌরনীতি কী?

     উত্তর : পৌরনীতি হচ্ছে নাগরিকতাবিষয়ক বিজ্ঞান।

     পৌরনীতির ইংরেজি প্রতিশব্দ সিভিকস (Civics)। সিভিকস শব্দটি দুটি ল্যাটিন শব্দ সিভিস (Civis) ও সিভিটাস (Civitas) থেকে এসেছে। সিভিকস শব্দের অর্থ নাগরিক (Citizen) আর সিভিটাস শব্দের অর্থ নগর রাষ্ট্র (City State)। অর্থাৎ রাষ্ট্র ও নাগরিকতার সঙ্গে জড়িত সব বিষয় যে বিদ্যায় আলোচিত হয় তাকে পৌরনীতি বলা হয়।

২।   নাগরিকতা বলতে কী বোঝো?

     উত্তর : রাষ্ট্র প্রদত্ত নাগরিকের মর‌্যাদাকে নাগরিকতা বলা হয়।

     পৌরনীতি ও নাগরিকতা একে অপরের অবিচ্ছেদ্য অংশ। পৌরনীতি ও নাগরিকতার বিষয়বস্তু একই। ব্রিটিশ রাষ্ট্রবিজ্ঞানী ই এম হোয়াইট যথার্থই বলেছেন, ‘পৌরনীতি হলো জ্ঞানের সেই মূল্যবান শাখা, যা নাগরিকতার অতীত, বর্তমান ও ভবিষৎ এবং স্থানীয়, জাতীয় ও আন্তর্জাতিক পর‌্যায়ে মানবতার সঙ্গে জড়িত সব বিষয় নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করে। ’ অর্থাৎ একটি রাষ্ট্রে বসবাসরত নাগরিককে যে সুযোগ-সুবিধা প্রদান করা হয়, তাকেই নাগরিকতা বলা হয়।

৩।   প্রাচীন গ্রিসের নগর রাষ্ট্রের ধারণা দাও।

     উত্তর : প্রাচীন গ্রিসে ছোট ছোট অঞ্চল নিয়ে ছোট ছোট রাষ্ট্র গড়ে উঠত, যাকে বলা হতো নগর রাষ্ট্র।

     প্রাচীন গ্রিসে নাগরিক ও নগর রাষ্ট্র ছিল অবিচ্ছেদ্য। সেখানে যারা নগর রাষ্ট্রীয় কাজে সরাসরি অংশগ্রহণ করত, তাদের নাগরিক বলা হতো। দাস, মহিলা ও বিদেশিদের নাগরিকের মর‌্যাদা ছিল না। অর্থাৎ প্রাচীন গ্রিসের নগর রাষ্ট্রে বসবাসরত সবাই নাগরিক হিসেবে গণ্য হতো না। রাষ্ট্রীয় কাজে জড়িত একটি বিশেষ শ্রেণি নাগরিক হিসেবে বিবেচিত

হতো।

৪।   পৌরনীতির বিষয়বস্তু কী?

     উত্তর : পৌরনীতির বিষয়বস্তু হচ্ছে নাগরিকতার সঙ্গে জড়িত বিভিন্ন বিষয়।

     বিষয়বস্তুর দৃষ্টিতে পৌরনীতিকে দুটি অর্থে আলোচনা করা যায়। যথা : ব্যাপক অর্থে পৌরনীতি নাগরিকতার সঙ্গে জড়িত সব বিষয় নিয়ে আলোচনা করে। যেমন—অধিকার ও কর্তব্য, সামাজিক ও রাজনৈতিক প্রাতিষ্ঠানিক, নাগরিকতার স্থানীয়, জাতীয় ও আন্তর্জাতিক বিষয়, নাগরিকতার অতীত, বর্তমান ও ভবিষ্যৎ। সংকীর্ণ অর্থে নাগরিকের অধিকার ও কর্তব্য নিয়ে আলোচনাই পৌরনীতির বিষয়বস্তু।

৫।   নাগরিকের অধিকার ও কর্তব্য কী?

     উত্তর : রাষ্ট্রে বসবাসরত নাগরিকের ওই রাষ্ট্রের কাছে কিছু অধিকার থাকে এবং রাষ্ট্রের প্রতিও তার কিছু দায়িত্ব থাকে, যেগুলোকে নাগরিকের অধিকার ও কর্তব্য বলা হয়।

     রাষ্ট্রের নাগরিক হিসেবে আমরা যেমন রাষ্ট্র প্রদত্ত সামাজিক, রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক ও মৌলিক অধিকার ভোগ করি, তেমনি আমাদেরকেও রাষ্ট্রের প্রতি দায়িত্ব ও কর্তব্য পালন করতে হয়। যেমন—রাষ্ট্রের প্রতি আনুগত্য প্রকাশ, আইন মান্য করা, সঠিক সময়ে কর প্রদান করা, সন্তানদের শিক্ষিত করা, রাষ্ট্রের সেবা করা, সততার সঙ্গে ভোটদান ইত্যাদি।

৬।   নাগরিককে কেন্দ্র করে স্থানীয় ও জাতীয় পর‌্যায়ে কী ধরনের প্রতিষ্ঠান গড়ে ওঠে?

     উত্তর : নাগরিককে কেন্দ্র করে স্থানীয় ও জাতীয় পর‌্যায়ে বিভিন্ন ধরনের প্রতিষ্ঠান গড়ে ওঠে।

     আমরা যেখানে বাস করি, সেখানে আমাদেরকে কেন্দ্র করে গড়ে ওঠে স্থানীয় বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান। যেমন—ইউনিয়ন পরিষদ, পৌরসভা, সিটি করপোরেশন ইত্যাদি। ঠিক তেমনি নাগরিককে কেন্দ্র করে ওঠে জাতীয় পর‌্যায়ে আইন বিভাগ, শাসন বিভাগ ও বিচার বিভাগ।

৭।   নাগরিককে কেন্দ্র করে জাতীয় ও আন্তর্জাতিক পর‌্যায়ে কী কী ধরনের প্রতিষ্ঠান গড়ে ওঠে?

     উত্তর : নাগরিককে কেন্দ্র করে জাতীয় ও আন্তর্জাতিক পর‌্যায়ে বিভিন্ন ধরনের প্রতিষ্ঠান গড়ে ওঠে।

     নাগরিককে কেন্দ্র করে জাতীয় পর‌্যায়ে আইন বিভাগ, শাসন বিভাগ, বিচার বিভাগ প্রভৃতি প্রতিষ্ঠান গড়ে ওঠে। অনুরূপভাবে আন্তর্জাতিক পর‌্যায়ে কমনওয়েলথ, জাতিসংঘ ইত্যাদি প্রতিষ্ঠান গড়ে ওঠে। জাতীয় ও আন্তর্জাতিক পর‌্যায়ের এসব প্রতিষ্ঠান নাগরিকদের বিভিন্ন সুবিধা ও সেবা প্রদান করে থাকে।


মন্তব্য