kalerkantho

শুক্রবার । ২০ জানুয়ারি ২০১৭ । ৭ মাঘ ১৪২৩। ২১ রবিউস সানি ১৪৩৮।


পঞ্চম শ্রেণি : বাংলা

রচনা

লুত্ফা বেগম, সিনিয়র শিক্ষক, বিএএফ শাহীন কলেজ, কুর্মিটোলা, ঢাকা   

২৬ মার্চ, ২০১৬ ০০:০০



বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধ

ভূমিকা : ১৯৭১ সালে আমরা স্বাধীনতা অর্জন করি। ১৯৭১ সালের ১৬ ডিসেম্বর আমাদের জাতীয় জীবনের এক গুরুত্বপূর্ণ দিন।

এ দিন আমরা দেশকে পুরোপুরি শত্রুমুক্ত করে বিজয় অর্জন করি। এই বিজয় অর্জনের জন্য দেশবাসীকে এক রক্তক্ষয়ী যুদ্ধের মুখোমুখি হতে হয়েছে।

 

ঐতিহাসিক পটভূমি

পাকিস্তানি শাসকগোষ্ঠী এক রাষ্ট্রের নামে বাংলায় তাদের রাজত্ব কায়েম করেছিল।

১৯৪৮ সাল থেকে বাঙালিদের প্রতি বিমাতাসুলভ আচরণের কারণে এ দেশের ছাত্রসমাজ ও বুদ্ধিজীবী সম্প্রদায়ের মধ্যে পশ্চিমা শাসকদের ওপর অসন্তোষ ধূমায়িত হতে থাকে। উর্দু ভাষাকে এ দেশের মানুষের ওপর চাপিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করেছিল।

তাই মায়ের ভাষা বাংলাকে রক্ষার তাগিদ থেকেই বাংলাদেশের স্বাধীনতাসংগ্রামের বীজ

বপন হয়।

৭ মার্চের ভাষণ ও মুক্তিযুদ্ধ

ভাষা আন্দোলনের ধারায় ১৯৭১ সালের ৭ মার্চ বঙ্গবন্ধু ঘোষণা করেন, ‘এবারের সংগ্রাম, স্বাধীনতার সংগ্রাম। ’ এরপর ২৬ মার্চ বঙ্গবন্ধু আবার স্বাধীনতার ঘোষণা দিলে শুরু হয় মুক্তিযুদ্ধ।

 

মুক্তিযুদ্ধের কাল

১৯৭১ সালের ২৫ মার্চ থেকে ১৬ ডিসেম্বর পর্যন্ত সময়কে বলা হয় মুক্তিযুদ্ধের কাল।

সশস্ত্র আন্দোলন ও মুক্তিযুদ্ধ : ২৫ মার্চ রাতে পাকিস্তানিদের অত্যাচারে গোটা বাংলাদেশে সংগ্রামের আগুন জ্বলে ওঠে। বাংলার শ্রমজীবী মানুষ থেকে শুরু করে ছাত্র-জনতা মুক্তিবাহিনী গড়ে তুলে সামরিক বাহিনীর সঙ্গে একাত্মতা ঘোষণা করে। দেশের অনেক মানুষ নিরুপায় হয়ে ভারতের পশ্চিমবঙ্গে আশ্রয় গ্রহণ করে। সেখানে গড়ে ওঠে ত্রাণশিবির ও মুক্তিযোদ্ধাদের প্রশিক্ষণকেন্দ্র।

পাকিস্তানি সেনাদের বিরুদ্ধে জলে-স্থলে, অন্তরীক্ষে মুক্তিযোদ্ধারা সর্বাত্মক যুদ্ধে পরাজিত করে শত্রুসেনাদের।

অবশেষে ৩০ লাখ শহীদের রক্তের বিনিময়ে ১৯৭১ সালে বাঙালি ছিনিয়ে আনে বহু কাঙ্ক্ষিত স্বাধীনতার সূর্য।

 

পাকিস্তানি শাসকগোষ্ঠীর চক্রান্ত

যুদ্ধের ৯ মাস ধরে পাকিস্তানি সেনারা দেশীয় রাজাকার, আলবদর ও আলশাম্স বাহিনীর সহায়তায় পরিকল্পিতভাবে হত্যা করে এ দেশের আলোকিত, মেধাবী ও বরেণ্য ব্যক্তিদের।

 

মুক্তিযুদ্ধে আত্মদানকারীদের

কয়েকজন

সশস্ত্র যুদ্ধে শহীদ হয়ে বীরশ্রেষ্ঠ খেতাবে ভূষিত হয়েছেন রুহুল আমিন, নূর মোহাম্মদ শেখ, মুন্সী আবদুর রউফসহ সাত ব্যক্তি। আর দেশের ভেতরে অবরুদ্ধ জীবন যাপন করতে করতে প্রাণ দিয়েছেন কৃষক, মজুর, ছাত্র, সাংবাদিক, সরকারি-বেসরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীরা। লাখ লাখ নারী-পুরুষ ও শিশুর রক্তে ভেজা আমাদের এই স্বাধীনতা।

মুক্তিযুদ্ধের চেতনার স্বরূপ : মুক্তিযুদ্ধের চেতনা বাঙালিকে শোষণ ও অত্যাচার থেকে মুক্তি দিয়েছে। ধর্মীয় কুসংস্কারের ঊর্ধ্বে উঠে হাজার বছরের বাঙালি পরিচয়কে প্রধান বিবেচনা করে হিন্দু, মুসলিম, বৌদ্ধ, খ্রিস্টান একই পতাকা তলে সমবেত হয়েছে। এই একতা দেশ গঠনে বাঙালিকে নতুন প্রেরণা দান করেছে।

উপসংহার

বাংলাদেশ আজ মুক্ত। এই অর্জন খুব সহজে ঘটেনি। লাখো প্রাণের বিনিময়ে আমরা দেশমাতৃকাকে মুক্ত করেছি।

বীরের পূত-পবিত্র রক্তস্রোত আর মাতার অশ্রুধারায় যে স্বাধীন রাষ্ট্র হিসেবে বাংলাদেশের আত্মপ্রকাশ ঘটেছে, সেই দেশকে রক্ষার দায়িত্ব আজ সবার ওপর পড়েছে।


মন্তব্য