kalerkantho


ভাব সম্প্রসারণ

এইচএসসি প্রস্তুতি : বাংলা দ্বিতীয় পত্র

মো. শহিদুল ইসলাম, প্রভাষক, ন্যাশনাল আইডিয়াল কলেজ, খিলগাঁও, ঢাকা   

২৪ মার্চ, ২০১৬ ০০:০০



মঙ্গল করিবার শক্তিই ধন,

বিলাস ধন নহে

মূলভাব : মানবতার কল্যাণে নিজের সঞ্চিত সম্পদ ও জীবন উৎসর্গ করার মহত্ত্বই ধন। বিলাসের স্রোতে গা ভাসানোর জন্য সঞ্চিত ধন পাহাড় সমান হলেও তাকে ধন বলা যায় না।

সম্প্রসারিত ভাব : মানুষ অর্থ উপার্জন করে, কারণ সম্পদ মানবজীবনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। মানুষ মনে করে অর্থ উপার্জনই বড় কথা, কেমনভাবে সেটি ব্যয় হলো সেটা বড় কথা নয়। কিন্তু অর্থ-সম্পদের সুষ্ঠু ও সুষম ব্যবহারই একটি সমাজের কিংবা জাতির যথার্থ কল্যাণ বয়ে আনতে পারে। ধন-সম্পদ যেহেতু ব্যক্তিগত শ্রমের ফসল, সে জন্য তা ব্যয় করার ক্ষেত্রে ব্যক্তিগত প্রয়োজন প্রাধান্য পেতে পারে। কেউ ধন-সম্পদ উপার্জন করে কিন্তু তাতে তাদের মৌলিক চাহিদাটুকু মেটে না। অনেকে তাদের উপার্জিত অর্থ ব্যয় করে নানা প্রকার বিলাস-ব্যাসনের পেছনে। ভাগ্যাহত নর-নারীর অধিকারকে গলাটিপে হত্যা করে গড়ে তোলা ধন প্রকৃত অর্থে ধন নয়। ধন-সম্পদের সার্থকতা নির্ভর করে এর সদ্ব্যবহারের ওপর। ধনের মালিক যদি মানুষের মঙ্গল বিধানের জন্য তার ধনকে কাজে না লাগায়, তবে সেটা হবে বিলাসের নিমিত্তমাত্র।

ধনবানের বোঝা উচিত যে এ সম্পদ তার একার ভোগের জন্য নয়, সমগ্র মানুষের কল্যাণের জন্য। যে অর্থ মানুষের মঙ্গলের ক্ষেত্রে ব্যয় হয় না, সেই ধন অভিশপ্ত। অন্যদিকে একজন মানুষের ধন-সম্পদ কম থাকলেও তার সে ধন যদি জনগণের কল্যাণে ব্যয় করার ইচ্ছা প্রকাশ করে এবং ব্যয় করে সেটাই হবে তার প্রকৃত ধন—সে ধন জাতীয় শক্তির উৎস, মানবকল্যাণের এক অমূল্য সম্পদ। প্রাচীন ঋষিরা অর্থকে গোময় বা গোবরের সঙ্গে তুলনা করতেন। অর্থকেও যদি এক জায়গায় স্তূপীকৃত অবস্থায় রাখা হয়, তাতে মঙ্গলময় কোনো কাজ হয় না বরং তা পরিবেশকে নষ্ট করে। সেটি কখনো ধন হিসেবে আখ্যা পেতে পারে না। যে ধন সুষমভাবে সবার উপকারে আসে তা-ই প্রকৃত ধন।

মন্তব্য : ঐশ্বর্যের সমারোহের মধ্যে বিলাসিতায় গা ভাসিয়ে দিলে ঐশ্বর্যের প্রদর্শনী হয় সত্য, কিন্তু তাতে ধন-সম্পদের মর্যাদা প্রমাণিত হয় না। ধন-সম্পদকে বিলাসিতায় অপব্যয় না করে পরোপকারে নিয়োজিত করলে তার অর্জন ও ব্যয়ের সার্থকতা প্রমাণিত হয়।


মন্তব্য