kalerkantho

শনিবার । ২১ জানুয়ারি ২০১৭ । ৮ মাঘ ১৪২৩। ২২ রবিউস সানি ১৪৩৮।


পাঠ প্রস্তুতি

পঞ্চম শ্রেণি : বাংলা

লুত্ফা বেগম, সিনিয়র শিক্ষক, বিএএফ শাহীন কলেজ, কুর্মিটোলা, ঢাকা   

২১ মার্চ, ২০১৬ ০০:০০



ফেব্রুয়ারির গান

 

১। কবিতাটির মূলভাব লেখো।

উত্তর : লুত্ফর রহমান রিটন রচিত ‘ফেব্রুয়ারির গান’ কবিতায় বাংলা ভাষার প্রতি মমতা আর শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা প্রকাশ পেয়েছে। ১৯৫২ সালের একুশে ফেব্রুয়ারি বাঙালি জাতির জীবনে একটি স্মরণীয় দিন। মাতৃভাষা বাংলাকে রাষ্ট্র ভাষা করার দাবিতে ছাত্রসমাজ এই দিনে আন্দোলন শুরু করে। তখন ছাত্রদের মিছিলে পাকিস্তানি সরকার গুলি চালায়। সেই গুলিতে শহীদ হন সালাম, বরকত, শফিক, জব্বার ও নাম না জানা আরো অনেকে। আর বাংলা ভাষা পায় রাষ্ট্রভাষার মর্যাদা ও স্বীকৃতি।

 

২। শব্দগুলো পাঠ থেকে খুঁজে বের করো। অর্থ বলো।

মুগ্ধ—বিমোহিত, আনন্দিত।

ঊর্মি—নদী ও সাগরের ঢেউ।

ঊর্মিমালা—ঢেউসমূহ, ঢেউগুলো।

স্রোতস্বিনী—নদী।

সমুদ্দুর—সমুদ্র, সাগর।

বাহার—সৌন্দর্য।

স্বর্ণলতা—সোনালি রঙের বুনোলতা।

প্রতিধ্বনি—বাতাসের ধাক্কায় ধ্বনির পুনরায় ফিরে আসাকে প্রতিধ্বনি বলে।

 

৩। ঘরের ভেতরের শব্দগুলো খালি জায়গায় বসিয়ে বাক্য তৈরি করো।

সমুদ্দুর, মুগ্ধ, বাহার, প্রতিধ্বনি, মন ভোলানো, স্রোতস্বিনী

ক. বাংলার সৌন্দর্য দেখে আমি মুগ্ধ।

খ. গ্রীষ্মকালে ফলের বাহার দেখা যায়।

গ. সাত সমুদ্দুর তেরো নদী পার হওয়া চাট্টিখানি ব্যাপার না।

ঘ. স্রোতস্বিনীতে ভেসে চলেছে পাল তোলা নৌকা।

ঙ. রংধনুর মন ভোলানো রঙে আকাশ রঙিন হয়েছে।

চ. সব মানুষের কণ্ঠে একই প্রতিধ্বনি।

 

৪। প্রশ্নগুলোর উত্তর লেখো :

ক. কবি এই কবিতায় কত ধরনের সুরের কথা বলেছেন?

উত্তর : কবি লুত্ফর রহমান রিটন ‘ফেব্রুয়ারির গান’ কবিতায় পাঁচ ধরনের সুরের কথা বলেছেন।

এই সুরগুলো হচ্ছে—পাখির গানের সুর, সাগর-নদীর ঊর্মি ভোলানো সুর।

প্রকৃতিতে পাহাড়-ঝরনার সুরের বাহার গাছের গান ও প্রজাপতির ছন্দের সুরের কথা বলা হয়েছে।

খ. পাতা আর স্বর্ণলতা কিসে মুগ্ধ হচ্ছে?

উত্তর : ‘ফেব্রুয়ারির গান’ কবিতায় গাছের গানে পাতা আর স্বর্ণলতা মুগ্ধ হচ্ছে।

গ) প্রজাপতি ফুলের সাথে কিভাবে কথা বলে?

উত্তর : প্রজাপতি ফুলের সাথে ছন্দের সুরে কথা বলে।

ঘ) আমরা কোন ভাষায় মনের কথা বলি?

উত্তর : আমরা আমাদের মায়ের ভাষা বাংলায় মনের কথা বলি।

ঙ) ‘শহীদ ছেলের দান’ হিসেবে আমরা কী পেয়েছি?

উত্তর : ‘শহীদ ছেলের দান’ হিসেবে আমরা আমাদের মাতৃভাষা বাংলাকে রাষ্ট্রভাষা হিসেবে পেয়েছি।

 

৫। সঠিক উত্তর দাও :

ক) মনের কথা কিভাবে বলব?

 ১. মায়ের ভাষায়  

 ২. বাবার ভাষায়

 ৩. দাদার ভাষায়  

 ৪. মামার ভাষায়

খ) পাখির গানে সবার প্রাণ কেমন হয়?

 ১. বিরক্ত        ২. মুগ্ধ

 ৩. রাগ          ৪. খুশি

গ) নদীর অপর নাম কী?

 ১. স্রোতস্বিনী ২. পুকুর

 ৩. সমুদ্র         ৪. খুশি

ঘ) ফুলের সাথে কে কথা বলে?

 ১. প্রজাপতি ২. হরিণ

 ৩. মানুষ         ৪. পাখি

ঙ) ফেব্রুয়ারির গান কাদের রক্তে লেখা?

 ১. ভাইয়ের ২. মামার

 ৩. বাবার        ৪. মানুষের

উত্তর : ক. ১, খ. ২, গ. ১, ঘ. ১, ঙ. ১

 

৬। একুশে ফেব্রুয়ারি সম্বন্ধে একটি অনুচ্ছেদ রচনা করো।

উত্তর : আমাদের মাতৃভাষা বাংলার অস্তিত্বকে টিকিয়ে রাখার জন্য যে রক্তক্ষয়ী সংগ্রাম হয়েছিল, তারই স্মৃতিবিজড়িত তারিখ মহান একুশে ফেব্রুয়ারি। ১৯৫২ সালের এ দিনটিতে বাংলার দামাল ছেলেরা ১৪৪ ধারা ভঙ্গ করে মিছিল বের করলে পুলিশ বাহিনী মিছিলের ওপর গুলি চালায়। সেই গুলিতে মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন সালাম, বরকত, জব্বার, শফিউর, রফিকসহ নাম না জানা আরো অনেকে। এই হত্যার প্রতিবাদে সারা দেশে বিক্ষোভের আগুন দাবানলের মতো ছড়িয়ে পড়ে। আন্দোলন কোনোভাবেই বন্ধ করতে না পেরে পাকিস্তানি শাসকগোষ্ঠী বাাঙালিদের দাবি মেনে নিতে বাধ্য হয়। বাংলা রাষ্ট্রভাষার মর্যাদা লাভ করে। সেই থেকে একুশে ফেব্রুয়ারি এ দেশের ইতিহাসে চিহ্নিত হয়েছে আপসহীন সংগ্রাম ও জাতীয় ঐক্যের প্রতীক হিসেবে। বাঙালি জাতি কোনো দিন এ দিনটির স্মৃতি ভুলতে পারবে না। তাই তো প্রতিবছর একুশে ফেব্রুয়ারি আমরা সমস্বরে গেয়ে উঠি ‘আমার ভাইয়ের রক্তে রাঙানো একুশে ফেব্রুয়ারি, আমি কি ভুলিতে পারি। ’


মন্তব্য