kalerkantho


এইচএসসি : ফিন্যান্স, ব্যাংকিং ও বীমা

সৃজনশীল প্রশ্ন

মো. মাজেদুল হক খান,প্রভাষক,রাজউক উত্তরা মডেল কলেজ,উত্তরা, ঢাকা   

১৯ মার্চ, ২০১৬ ০০:০০



কেন্দ্রীয় ব্যাংক

উদ্দীপকটি পড়ে নিচের প্রশ্নগুলোর উত্তর দাও :

ঋণের আধিক্য ও স্বল্পতা উভয়ই দেশের অর্থনীতির জন্য ক্ষতিকর। তাই বাংলাদেশের কেন্দ্রীয় ব্যাংক মুদ্রাবাজারে ঋণ প্রবাহ নিয়ন্ত্রণ করতে চায়। এ উদ্দেশ্যে ব্যাংকটি মুদ্রাবাজারে পূর্বের তুলনায় অধিক পরিমাণে আকর্ষণীয় হারে সরকারি বন্ড ও সিকিউরিটিজ বিক্রয় করার সিদ্ধান্ত নেয়।

ক. নিকাশ ঘর কী?      

খ. কেন্দ্রীয় ব্যাংককে মুদ্রাবাজারের অভিভাবক বলা হয় কেন? ব্যাখ্যা করো।       

গ. উদ্দীপকে উল্লিখিত কেন্দ্রীয় ব্যাংক ঋণ নিয়ন্ত্রণের কোন সংখ্যাত্মক পদ্ধতি গ্রহণ করেছে? বর্ণনা করো।            

ঘ. ঋণ প্রবাহে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের সিদ্ধান্তের প্রভাব উদ্দীপকের আলোকে বিশ্লেষণ করো।    

উত্তর :

ক. নিকাশ ঘর হলো কেন্দ্রীয় ব্যাংকের এমন একটি ব্যবস্থা, যেখানে ব্যাংকিং লেনদেন থেকে উদ্ভূত আন্তঃব্যাংকিং দেনা-পাওনা নিষ্পত্তি করা হয়।

খ. কেন্দ্রীয় ব্যাংক যেকোনো দেশের একক ও সর্বপ্রধান ব্যাংকিং প্রতিষ্ঠান, যা মুদ্রাবাজারে অভিভাবক হিসেবে এর পরিচালনা, নিয়ন্ত্রণ ও নেতৃত্ব প্রদান করে। মুদ্রার পরিমাণ ও ঋণের যথাযথ মূল্যায়নের মাধ্যমে মুদ্রা ও ঋণের বাজার নিয়ন্ত্রণ করে দেশের মুদ্রাবাজার ও মূল্যস্তর স্থিতিশীল রাখে। এ ছাড়া মুদ্রাবাজারের সদস্য ব্যাংক ও অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানকে সুষ্ঠুভাবে গড়ে ওঠা এবং পরিচালনাসংক্রান্ত বিষয়ে আদেশ-নির্দেশ ও পরামর্শ দিয়ে থাকে। তাদের আর্থিক সংকটের সময়ও কেন্দ্রীয় ব্যাংক অর্থের সংস্থান করে। ওপরের আলোচনা থেকে স্পষ্ট বলা যায় যে মুদ্রাবাজারে একচ্ছত্র অধিপতি ও মুরব্বি হলো কেন্দ্রীয় ব্যাংক।

গ. উদ্দীপকে কেন্দ্রীয় ব্যাংক ঋণ নিয়ন্ত্রণে যে সংখ্যাত্মক পদ্ধতি গ্রহণ করেছে তা হলো খোলাবাজার নীতি।

খোলাবাজার নীতি হলো কেন্দ্রীয় ব্যাকের এমন এক ধরনের ঋণ নিয়ন্ত্রণ পদ্ধতি যে নীতির আওতায় কেন্দ্রীয় ব্যাংক মুদ্রাবাজারের মুদ্রাস্ফীতি ও মুদ্রাসংকোচনজনিত চাপ নিয়ন্ত্রণের উদ্দেশ্যে খোলাবাজারে বিনিময় বিল, বিভিন্ন ধরনের বেসরকারি বন্ড, সিকিউরিটিজ ক্রয়-বিক্রয় করে থাকে।

উদ্দীপকে উল্লিখিত পরিস্থিতিতে দেখা যায়, মুদ্রাবাজারে ঋণ প্রবাহ বৃদ্ধি পেয়েছে। তাই বাংলাদেশ ব্যাংক ঋণ নিয়ন্ত্রণের উদ্দেশ্যে খোলাবাজারে আকর্ষণীয় হারে পূর্বের তুলনায় অধিক পরিমাণে সরকারি বন্ড ও বিভিন্ন ধরনের সিকিউরিটিজ বিক্রয় করার সিদ্ধান্ত নেয়।

সুতরাং ওপরোক্ত আলোচনা থেকে বলা যায়, বাংলাদেশ ব্যাংক ঋণ নিয়ন্ত্রণে খোলাবাজার নীতি গ্রহণ করেছে।

 

ঘ. ঋণ প্রবাহ নিয়ন্ত্রণে কেন্দ্রীয় ব্যাংক বিভিন্ন ধরনের প্রথম শ্রেণির বিনিময় বিল ও সিকিউরিটিজ ক্রয়-বিক্রয় করে থাকে। কেন্দ্রীয় ব্যাংকের এ কাজটি খোলাবাজার নীতির আওতাভুক্ত।

উদ্দীপকে ঋণ প্রবাহ নিয়ন্ত্রণ কেন্দ্রীয় ব্যাংক সরকারি বন্ড ও সিকিউরিটিজ বিক্রয় করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। এর ফলে বাজারে ঋণের পরিমাণ ও অর্থ সরবরাহ হ্রাস পাবে। কেননা কেন্দ্রীয় ব্যাংক কর্তৃক আকর্ষণীয় হারে সিকিউরিটিজ বিক্রয় করার ফলে বাণিজ্যিক ব্যাংকে যারা বিভিন্ন হিসাবের মাধ্যমে অর্থ জমা রেখেছে, তারা অধিক সুদ পাওয়ার আশায় বাণিজ্যিক ব্যাংকের জমাকৃত অর্থ উত্তোলন করে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের সিকিউরিটিজসমূহ ক্রয় করবে। এর ফলে বাণিজ্যিক ব্যাংকের আমানতকৃত তহবিলের পরিমাণ হ্রাস পাবে। ফলে বাণিজ্যিক ব্যাংক পূর্বের তুলনায় মুদ্রাবাজারে অধিক পরিমাণে ঋণ দিতে পারবে না। এতে ঋণের পরিমাণ কাম্যস্তরে থাকবে। তবে এ নীতির আওতায় বাজারে ঋণ সরবরাহ অধিক মাত্রায় হ্রাস পেলে মুদ্রাসংকোচন হতে পারে। ফলে বিনিয়োগ বাধাগ্রস্ত হতে পারে। তাই কেন্দ্রীয় ব্যাংক দেশের সার্বিক অর্থনৈতিক অবস্থা বিবেচনায় ঋণের পরিমাণ কাম্যস্তরে থাকলে তা দেশের অর্থনীতিকে ভারসাম্যপূর্ণ করে তোলে। পরিশেষে বলা যায় উদ্দীপকের উল্লিখিত পরিস্থিতিতে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের সিদ্ধান্তের প্রভাবে বাজারে ঋণের পরিমাণ হ্রাস পাবে।


মন্তব্য