kalerkantho


অষ্টম শ্রেণি : বাংলা প্রথম পত্র

লুত্ফা বেগম,সিনিয়র শিক্ষক,বিএএফ শাহীন কলেজ,কুর্মিটোলা, ঢাকা   

১৮ মার্চ, ২০১৬ ০০:০০



সৃজনশীল প্রশ্ন

কিশোর কাজি

উদ্দীপকটি পড়ে নিচের প্রশ্নগুলোর উত্তর দাও :

নবাব সিরাজদ্দৌলা ইংরেজদের বিরুদ্ধে যুদ্ধের দায়িত্ব দেন সেনাপতি মীর জাফর আলী খানকে। নবাব তাঁর ওপর আস্থা রাখেন।

এই সুযোগে মীর জাফর ইস্ট ইন্ডিয়া কম্পানির সঙ্গে হাত মিলিয়ে যুদ্ধক্ষেত্রে নিজেদের সৈন্যদের নিষ্ক্রিয় হয়ে দাঁড়িয়ে থাকার আদেশ দেন। কিন্তু সৈন্যরা তাঁর আদেশ অমান্য করে যুদ্ধ চালিয়ে গেলেও পতন হয় নবাবের। পলাশীর আম্রকাননে প্রায় ২০০ বছরের জন্য অস্তমিত হয়ে যায় বাংলার স্বাধীনতার লাল সূর্য। এর পর থেকেই ইতিহাসে ঘৃণিত নাম মীর জাফর।

ক. ‘কিশোর কাজি’ গল্পের উত্স কী?

উত্তর : ‘কিশোর কাজি’ গল্পের উত্স আরব্য উপন্যাস।

খ. নাজিমের স্ত্রী কখন জলপাই খাবার ব্যাপারে আর অমত করল না?

উত্তর : নাজিম যখন নতুন জলপাই কিনে কলসি ভরে রাখার প্রতিশ্রুতি দিল, তখন তার স্ত্রী আর জলপাই খাবার ব্যাপারে অমত করল না।

গল্পের বণিক আলী কোজাই মক্কায় হজ করতে যাওয়ার সময় তার সঞ্চিত অর্থগুলো একটা কলসিতে রেখে তা জলপাই দিয়ে পূর্ণ করে বিশ্বস্ত বন্ধু নাজিমের কাছে আমানত রেখে যায়। একদিন নাজিমের স্ত্রী খেতে বসে তার জলপাই খাওয়ার ইচ্ছার কথা প্রকাশ করলে নাজিম সেই কলসি থেকে জলপাই নিতে বলে। তার স্ত্রী পরের আমানতে হাত দিতে নিষেধ করলে নাজিম নতুন জলপাই কিনে কলসিটি ভরে রাখার প্রতিশ্রুতি দিলে তার স্ত্রী আর অমত করল না।

গ. উদ্দীপকটিতে ‘কিশোর কাজি’ গল্পের নাজিম চরিত্রের যে দিকটি প্রকাশ পেয়েছে, তা ব্যাখ্যা করো।

উত্তর : উদ্দীপকটিতে ‘কিশোর কাজি’ গল্পের নাজিম চরিত্রের বিশ্বাসঘাতকতার দিকটি প্রকাশ পেয়েছে।

আলী কোজাই বিশ্বাস করে তার সঞ্চিত সব অর্থ কলসিতে রেখে ওপরে জলপাই দিয়ে ঢেকে বন্ধু নাজিমের কাছে রেখে যায়। নাজিম কলসিটি জলপাইয়ে পরিপূর্ণ জেনে দুই বছর পরে একদিন তার স্ত্রী জলপাই খাবার ইচ্ছা প্রকাশ করলে ভাঁড়ার ঘর থেকে কলসিটি বের করে এনে দেখে যে সব জলপাই পচে গেছে। নিচে ভালো থাকতে পারে ভেবে সে কলসি উপুড় করে দেখে রাশি রাশি সোনার মোহর। লোভ সামলাতে না পেরে নাজিম সব মোহর তার সিন্দুকে তুলে রেখে বাজার থেকে এক ঝুড়ি টাটকা জলপাই কিনে কলসিতে ভরে রাখে। আলী কোজাই মক্কা থেকে ফিরে কলসিটি বাড়ি নিয়ে দেখে মোহরের বদলে শুধু টাটকা জলপাই। নাজিমকে সে কথা জানিয়ে মোহর ফেরত চাইলে সে মোহরের কথা অস্বীকার করে বন্ধুর প্রতি বিশ্বাসঘাতকতা করে।

উদ্দীপকের মীর জাফরও নবাবের বিশ্বাস ও সরলতার সুযোগ নিয়ে ইস্ট ইন্ডিয়া কম্পানির সঙ্গে হাত মেলায়। তার বিশ্বাসঘাতকতার কারণে প্রায় ২০০ বছরের জন্য বাংলার স্বাধীনতার সূর্য অস্তমিত হয়। উদ্দীপকের মীর জাফরকে নবাব যেমন বিশ্বাস করেছিলেন, গল্পের আলী কোজাইও তেমনি বন্ধু নাজিমকে বিশ্বাস করেছিল। কিন্তু উভয় ক্ষেত্রেই লোভে পড়ে দুজনেই বিশ্বাসঘাতকতা করেছে।

ঘ. “উদ্দীপকটি ‘কিশোর কাজি’ গল্পের মূল উপজীব্য নয়। ” মন্তব্যটির যথার্থতা যাচাই করো।

উত্তর : ‘কিশোর কাজি’ গল্পের মূল উপজীব্য একজন কিশোরের কাজি সেজে বিচারকাজ পরিচালনা করে প্রকৃত মালিককে তার সোনার মোহর ফিরিয়ে দেওয়া।

আলী কোজাই নাজিমের কাছে জলপাইয়ের কথা বলে কলসিতে যে মোহর রেখে গিয়েছিল নাজিম তা আত্মসাত্ করে। মক্কা থেকে ফিরে বন্ধুর কাছ থেকে কলসি বাড়িতে নিয়ে আলী প্রকৃত ঘটনা বুঝতে পেরে বন্ধু নাজিমের কাছে মোহর দাবি করলে নাজিম জানায় যে আলী তার কাছে জলপাইয়ের কলসি রেখেছিল, যা সে ফেরত দিয়েছে। এক রাতে খলিফা হারুন-অর-রশিদ ছদ্মবেশে বেড়াতে বেরিয়ে দেখলেন কয়েকজন বালক মিলে আলী কোজাই ও নাজিমের বিচারের খেলা খেলছে। খলিফা দেখলেন যে একজন কিশোর কাজি সেজে অত্যন্ত সুন্দরভাবে বিচারকাজ পরিচালনা করে আলীকে তার মোহর ফেরত দিল। বিচার দেখে খলিফা বিস্মিত হলেন এবং পরদিন সেই বালকদের তাঁর দরবারে বিচারকার্যে বসালেন। কিশোর কাজি বিচারকের আসনে বসে এক বালককে জলপাই ব্যবসায়ী সাজিয়ে জানতে চায়—জলপাই যত্নে রাখলে কত দিন ভালো থাকে আর কলসির জলপাইগুলো কত দিন আগের। বালক ব্যবসায়ী জলপাই পরীক্ষার ভান করে জানায় যে জলপাইগুলো মাত্র মাসখানেক আগের। এ ঘটনা থেকেই নাজিমের মিথ্যাচারিতা ধরা পড়ে এবং নাজিম তার দোষ স্বীকার করে আলীকে মোহরগুলো  ফিরিয়ে দেয়।

উপর্যুক্ত আলোচনা থেকে এটা স্পষ্ট—কিশোর কাজি গল্পের মূল উপজীব্য কিশোরের কাজি সেজে বিচারকার্য পরিচালনা, আলীর মোহর আত্মসাত্ করে বিশ্বাস ভঙ্গ করা নয়।


মন্তব্য