kalerkantho

সোমবার । ৫ ডিসেম্বর ২০১৬। ২১ অগ্রহায়ণ ১৪২৩। ৪ রবিউল আউয়াল ১৪৩৮।


পাঠ প্রস্তুতি

পঞ্চম শ্রেণি : প্রাথমিক বিজ্ঞান

দিলারা ইয়াছমীন, সহকারী শিক্ষক, আইডিয়াল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, মতিঝিল, ঢাকা   

১৩ মার্চ, ২০১৬ ০০:০০



সংক্ষিপ্ত প্রশ্ন

১।    পরিবেশের ওপর জীবের নির্ভরশীলতার দুটি উদাহরণ দাও।

     উত্তর : পরিবেশের ওপর জীবের নির্ভরশীলতার দুটি উদাহরণ নিচে উল্লেখ করা হলো—

     ক. প্রত্যেক জীবের বেঁচে থাকার জন্য প্রয়োজন পানি। আর এ পানির জন্য জীব পরিবেশের ওপর নির্ভরশীল।

     খ. প্রত্যেক জীবের শ্বাসকার্য পরিচালনার জন্য প্রয়োজন অক্সিজেন। আর এ অক্সিজেনের জন্য জীব পরিবেশের উপাদান বায়ু ও উদ্ভিদের ওপর নির্ভরশীল।

২।    খাদ্যশৃঙ্খল বলতে কী বোঝো?

     উত্তর : সবুজ উদ্ভিদ খাদ্য উত্পাদন ও সংরক্ষণ করে। এই সবুজ উদ্ভিদকে খায় ছোট ছোট প্রাণী। আবার ছোট প্রাণীকে খায় বড় প্রাণী। এভাবে পরিবেশে খাদ্য ও খাদকের মধ্যে যেসব ধারাবাহিকতা বিদ্যমান, তাকেই খাদ্যশৃঙ্খল বলে।

৩।    সালোকসংশ্লেষণ বলতে কী বোঝো?

     উত্তর : সালোকসংশ্লেষণ হলো উদ্ভিদের খাদ্য তৈরির প্রক্রিয়া অর্থাৎ সূর্যালোকের উপস্থিতিতে ক্লোরোফিলের সাহায্যে বায়ু থেকে গৃহীত কার্বন ডাই-অক্সাইড এবং মাটি থেকে শোষিত পানি যে জটিল শারীরবৃত্তীয় জারণ-বিজারণ প্রক্রিয়ায় শর্করা জাতীয় খাদ্য প্রস্তুত করে, তাকে সালোকসংশ্লেষণ বলে।

৪।    খাদ্যজাল কী?

     উত্তর : খাদ্যজাল : কোনো পরিবেশে অনেক খাদ্যশৃঙ্খল বিদ্যমান থাকতে পারে।

     এ খাদ্যশৃঙ্খলগুলো একটি অন্যটির সঙ্গে সম্পর্কযুক্ত। পরিবেশে এটাই খাদ্যজাল নামে পরিচিত।

৫।    সূর্য থেকে কিভাবে তাপ ও আলো পাই?

     উত্তর : সূর্য থেকে আমরা তাপ ও আলো পাই বিকিরণ পদ্ধতিতে।

৬।    শক্তির কয়েকটি উেসর নাম লেখো।

     উত্তর : শক্তির উত্স হলো কয়লা, তেল, গ্যাস, খাদ্য, জলপ্রবাহ, বায়ুপ্রবাহ, বৈদ্যুতিক ব্যাটারি, জেনারেটর ইত্যাদি।

৭।    প্রশ্ন : সুস্থ-সবল দেহের জন্য সবার কী ধরনের খাদ্য গ্রহণ করা প্রয়োজন?

     উত্তর : সুস্থ-সবল দেহের জন্য সবার সুষম খাদ্য গ্রহণ করা প্রয়োজন।

৮।    আমরা কেন খাদ্য গ্রহণ করি?

     উত্তর : দেহ সুস্থ, সবল ও কর্মক্ষম রাখার জন্য খাদ্য গ্রহণ করি।

৯।    প্রধান তিনটি খাদ্য উপাদানের নাম কী?

     উত্তর : প্রধান তিনটি খাদ্য উপাদান হলো—শর্করা, আমিষ ও স্নেহ পদার্থ।

১০।   খাদ্য কাকে বলে?

     উত্তর : ক্ষুধা নিবারণের জন্য স্বাভাবিক অবস্থায় আমরা যা খাই তা-ই খাদ্য। অন্যভাবে বলা যায়, যা খেলে দেহের বৃদ্ধি সাধন, ক্ষয় পূরণ, রক্ষণাবেক্ষণ, তাপ ও শক্তি উত্পাদন করে দেহকে সুস্থ, সবল ও কর্মক্ষম রাখে তাকে খাদ্য বলে। যেমন : চাল, ডাল, মাছ, সবজি, ফলমূল ইত্যাদি।

 

রচনামূলক প্রশ্ন

১।    পরিবেশে উদ্ভিদ ও প্রাণী কিভাবে একে অপরের ওপর নির্ভরশীল আলোচনা করো।

     উত্তর : পরিবেশে উদ্ভিদ ও প্রাণী পরস্পরের দ্বারা প্রভাবিত হয়ে জীবন ধারণ করে। যেমন—উদ্ভিদ সূর্যের আলো ও পানির সাহায্যে সালোকসংশ্লেষণ প্রক্রিয়ায় খাদ্য তৈরি করে। পৃথিবীর সব প্রাণী খাদ্যের জন্য প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে উদ্ভিদের এ খাদ্যের ওপর নির্ভরশীল।

     আবার সবুজ উদ্ভিদ সালোকসংশ্লেষণ প্রক্রিয়ায় বায়ু থেকে কার্বন ডাই-অক্সাইড গ্রহণ করে এবং অক্সিজেন বায়ুতে ছাড়ে।

     প্রাণী শ্বাসকার্যে এ অক্সিজেন গ্রহণ করে এবং কার্বন ডাই-অক্সাইড ছাড়ে। উদ্ভিদ ও প্রাণী কার্বন ডাই-অক্সাইড এবং অক্সিজেনের জন্য একে অন্যের ওপর নির্ভরশীল। এ রকম নানাভাবে উদ্ভিদ ও প্রাণী একে অপরের ওপর নির্ভরশীল।

২।    উদ্ভিদ ও প্রাণী সংরক্ষণের প্রয়োজনীয়তা আলোচনা করো।

     উত্তর : বেঁচে থাকার জন্য আমরা উদ্ভিদ ও প্রাণী থেকে খাদ্য, ওষুধসহ অনেক জিনিস পাই। যেমন—উদ্ভিদের কাণ্ড, পাতা, ফুল, ফল ইত্যাদি আমরা খাদ্য হিসেবে গ্রহণ করি। জীবনধারণের জন্য অপরিহার্য অক্সিজেন আমরা উদ্ভিদ থেকেই পেয়ে থাকি।

     জীবনরক্ষাকারী ওষুধ উদ্ভিদের দেহের বিভিন্ন অংশ থেকে তৈরি হয়।

     মাছ, হাঁস-মুরগি, গরু, ছাগল, মহিষ ইত্যাদি প্রাণীকে আমরা খাদ্য হিসেবে গ্রহণ করি। আবার প্রাণীর দেহের বিভিন্ন অংশ থেকেও তৈরি হচ্ছে বিভিন্ন ওষুধ।

     পরিবেশে এ উদ্ভিদ ও প্রাণীর ঘাটতি হলে প্রাকৃতিক পরিবেশের ভারসাম্য নষ্ট হবে।

     সুতরাং পরিবেশে উদ্ভিদ ও প্রাণী সংরক্ষণের প্রয়োজনীয়তা অপরিসীম।


মন্তব্য