kalerkantho

শনিবার । ১০ ডিসেম্বর ২০১৬। ২৬ অগ্রহায়ণ ১৪২৩। ৯ রবিউল আউয়াল ১৪৩৮।


বহু নির্বাচনী প্রশ্ন

এইচএসসি প্রস্তুতি : বাংলা প্রথম পত্র

আবুল কালাম আল মাহমুদ, প্রভাষক, অমৃত লাল দে মহাবিদ্যালয়, বরিশাল   

১১ মার্চ, ২০১৬ ০০:০০



চাষার দুক্ষু

রোকেয়া সাখাওয়াত হোসেন

 

উদ্দীপকটি পড়ে প্রশ্নগুলোর উত্তর দাও :

সোনাকুড়া গ্রামের শিল্পী ও সবুর কৃষক-দম্পতি। ঋণগ্রস্ত সবুর একে একে সব বন্ধক রেখে আজ নিঃস্ব।

বাঁচার তাগিদে শিল্পী গ্রাম ছেড়ে শহরে চলে যায়।

সেখানে এক ধনী পরিবারে গৃহপরিচারিকার কাজ নেয় সে। সেখানে সে দেখে, গ্রামের নারীদের তৈরি নকশিকাঁথার কদর ধনী পরিবারগুলোতে অনেক বেশি। নিজের পায়ে দাঁড়ানোর তীব্র আকাঙ্ক্ষা নিয়ে শিল্পী গ্রামে ফিরে আসে। আরো কয়েকজন নারীকে নিয়ে সে একটি কর্মীদল তৈরি করে। সবাই মিলে নকশিকাঁথা প্রস্তুত করে শহরে বিক্রি করে নিজেদের দারিদ্র্য মোচন করে তারা। বন্ধক রাখা সব জমিও পুনরুদ্ধার করে।

ক. রংপুর অঞ্চলে রেশমকে স্থানীয় ভাষায় কী বলে?

খ. ‘শিরে দিয়ে বাঁকা তাজ ঢেকে রাখে টাক’ বলতে প্রাবন্ধিক কী বুঝিয়েছেন?

গ. ‘চাষার দুক্ষু’ প্রবন্ধের কোন দিকটি শিল্পীর মধ্যে প্রকাশ পেয়েছে, তা ব্যাখ্যা করো।

ঘ. শিল্পীর স্বাবলম্বন ‘চাষার দুক্ষু’ প্রবন্ধে লেখকের বর্ণিত দিকনির্দেশনার আলোকে ব্যাখ্যা করো।

 

উত্তর :

ক. রংপুর অঞ্চলে রেশমকে স্থানীয় ভাষায় ‘অ্যান্ডি’ বলে।

খ. ‘শিরে দিয়ে বাঁকা তাজ ঢেকে রাখে টাক’—এই উক্তিটির মাধ্যমে প্রাবন্ধিক বাঙালি কৃষকের বিলাসিতাকে বুঝিয়েছেন।

‘চাষার দুক্ষু’ প্রবন্ধে রোকেয়া সাখাওয়াত হোসেন কৃষকের দুঃখ-দুর্দশা ও তার কারণ বর্ণনা করেছেন। সভ্য ভারতবর্ষের কৃষকরা অন্নাভাবে, বস্ত্রাভাবে, চিকিৎসাভাবে মানবেতর জীবন যাপন করছেন। কৃষকদের এই চরম দারিদ্র্যের জন্য তিনি সভ্যতার নামে এক শ্রেণির মানুষের বিলাসিতাকে দায়ী করেছেন।

সভ্য কৃষকরা সভ্যতার অনুকরণে পেটে ভাত না জুটলেও মাথায় বাঁকা তাজ অর্থাৎ মুকুট দিয়ে টাক ঢাকার বৃথা চেষ্টা করেন। প্রাবন্ধিক আলোচ্য উক্তিটি দ্বারা সভ্য কৃষকের অন্ধ অনুকরণপ্রিয় বিলাসিতাকে বুঝিয়েছেন।

গ. ‘চাষার দুক্ষু’ প্রবন্ধের কৃষক রমণীদের সংসারের সমস্যা সমাধান করার দিকটি উদ্দীপকের শিল্পীর মধ্যে প্রকাশ পেয়েছে।

‘চাষার দুক্ষু’ প্রবন্ধে রোকেয়া সাখাওয়াত হোসেন শতাধিক বছর আগের কৃষকের আত্মনির্ভরশীল অবস্থার বর্ণনা করেছেন বর্তমান কৃষক-জীবনের পরিপ্রেক্ষিতে।

কৃষক রমণীরা রেশম সুতা দিয়ে তৈরি করত অ্যান্ডি কাপড়।

বেশ গরম এ কাপড় প্রায় ৪০ বছর স্থায়ী হয়। চার-পাঁচটি অ্যান্ডি কাপড় থাকলে লেপ, কম্বল, কাঁথা কিছুই প্রয়োজন হয় না। অর্থাৎ কৃষক রমণীরা সে সময় হেসে-খেলে নিজেদের বস্ত্র সমস্যা পূরণ করত।

উদ্দীপকের শিল্পী কৃষক রমণী।

ঋণগ্রস্ত ও নিঃস্ব হয়ে বাঁচার তাগিদে স্বামীর সঙ্গে শহরে যায়। সেখানে গিয়ে ধনী পরিবারগুলোতে গ্রামের নারীদের তৈরি নকশিকাঁথার কদর দেখে নিজের মধ্যে স্বাবলম্বী হওয়ার আকাঙ্ক্ষা জাগে। পরে সে গ্রামে এসে কর্মীদল গঠন করে।

তাদের তৈরি করা কাঁথা বাজারে বিক্রি করে তারা সংসারের সমস্যার সমাধান করে।

সুতরাং ‘চাষার দুক্ষু’ প্রবন্ধের কৃষক রমণীদের সাংসারিক সমস্যা সমাধানের দিকটি উদ্দীপকের শিল্পীর মধ্যে প্রকাশ পেয়েছে।

ঘ. শিল্পীর স্বাবলম্বনের বিষয়টি ‘চাষার দুক্ষু’ প্রবন্ধে লেখকের বর্ণিত দেশি শিল্প, বিশেষত নারী শিল্পগুলো পুনরুদ্ধারের দিকনির্দেশনা ব্যাখ্যাযোগ্য।

‘চাষার দুক্ষু’ প্রবন্ধে রোকেয়া সাখাওয়াত হোসেন তত্কালীন কৃষকের দারিদ্র্যপূর্ণ জীবনচিত্র তুলে ধরেছেন। শত বছর আগে ভারতবর্ষের কৃষক ছিল আত্মনির্ভরশীল, স্বয়ংসম্পূর্ণ। আজ ভারতবর্ষ সভ্য হয়েছে। কিন্তু কৃষকের পেটে অন্ন জোটে না, শীতে বস্ত্র নেই, অসুখে চিকিৎসা নেই। অথচ অসভ্য বর্বর ভারতবর্ষের কৃষকরা বস্ত্রের কিংবা অন্নের কাঙাল ছিল না।

রমণীরা হেসে-খেলে নিজেদের বস্ত্রের প্রয়োজন নিজেরা মেটাত। অর্থাৎ প্রবন্ধকার শত বছর আগের সেই ‘সরাই-ভরা ধান, ঢাকা মসলিন’ ইত্যাদি ফিরে পাওয়ার উপায় হিসেবে দেশি শিল্প, বিশেষত নারী শিল্পগুলো পুনরুদ্ধারের ওপর গুরুত্বারোপ করেছেন। তিনি মনে করেন, গ্রামে গ্রামে সুশিক্ষা বিস্তারের জন্য পাঠশালা, চরকা ও টেকো হলে চাষার দারিদ্র্য দূর হবে।

উদ্দীপকের শিল্পী সোনাকুড়া গ্রামের বাসিন্দা। ঋণগ্রস্ত হয়ে তার পরিবার আজ নিঃস্ব। বাঁচার তাগিদে স্বামীর সঙ্গে সে শহরে যায়। সেখানে গিয়ে ধনী পরিবারগুলোতে গৃহপরিচারিকার কাজ করে। এ শ্রেণির মানুষের কাছে গ্রামের নারীদের তৈরি নকশিকাঁথার গ্রহণযোগ্যতা দেখে স্বাবলম্বী হওয়ার তীব্র আকাঙ্ক্ষা অনুভব করে। পরে সে গ্রামে ফিরে এসে কর্মীদল গঠন করে। আত্মপ্রচেষ্টা ও কর্মনিষ্ঠার মাধ্যমে তৈরীকৃত নকশিকাঁথা শহরে বিক্রি করে এবং নিজের সমস্যা সমাধান করতে সক্ষম হয়।

উদ্দীপকের শিল্পী ঋণগ্রস্ত ও নিঃস্ব পরিবারকে উদ্ধার করেছে স্বাবলম্বী করার মাধ্যমে। এ ক্ষেত্রে আত্মসচেতনতার দিকটি গুরুত্বপূর্ণ। কেননা আত্মসচেতনতার কারণে সে নিজেকে মূল্যায়ন করতে পেরেছে এবং পরবর্তী সময়ে তার দক্ষতা, আত্মপ্রচেষ্টা ও প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে নিজের জীবনের সচ্ছলতা ফিরিয়ে আনতে সক্ষম হয়েছে।

‘চাষার দুক্ষু’ প্রবন্ধে প্রবন্ধকার কৃষকদের দারিদ্র্যপূর্ণ অবস্থার কারণ বর্ণনা করেছেন এবং পুনরুদ্ধারের দিকনির্দেশনা দিয়েছেন।

তিনি মনে করেন, কৃষকের দারিদ্র্য দূর করার অন্যতম উপায় কুটির শিল্প তথা নারীদের প্রত্যক্ষ অবদানে পরিচালিত শিল্পের পুনরুদ্ধার ও গ্রামে সুশিক্ষার বিস্তার, যা তাদের করবে আত্মসচেতন।

তাই বলা যায়, আত্মসচেতন হয়ে শিল্পীর স্বাবলম্বনের বিষয়টি ‘চাষার দুক্ষু’ প্রবন্ধে লেখকের বর্ণিত দেশি শিল্প, বিশেষত নারী শিল্পগুলো পুনরুদ্ধারের দিকনির্দেশনা ব্যাখ্যাযোগ্য।


মন্তব্য