অষ্টম শ্রেণি : বাংলাদেশ ও বিশ্বপরিচয়-333858 | পড়ালেখা | কালের কণ্ঠ | kalerkantho

kalerkantho

সোমবার । ২৬ সেপ্টেম্বর ২০১৬। ১১ আশ্বিন ১৪২৩ । ২৩ জিলহজ ১৪৩৭


সৃজনশীল প্রশ্ন

অষ্টম শ্রেণি : বাংলাদেশ ও বিশ্বপরিচয়

মো. আতিকুল ইসলাম, সহকারী শিক্ষক, রাজশাহী ক্যান্টনমেন্ট পাবলিক, স্কুল ও কলেজ, রাজশাহী।   

৯ মার্চ, ২০১৬ ০০:০০



দ্বিতীয় অধ্যায়

 

 বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধ

উদ্দীপক পড়ে নিচের প্রশ্নগুলোর উত্তর দাও :

তাহমিদ ট্রেনে রাজশাহী থেকে ঢাকা যাচ্ছিল। ট্রেনটি এম মনসুর আলী স্টেশনে পৌঁছালে তাহমিদ তার বাবাকে বলল, এম মনসুর আলী কে? তার বাবা বললেন, এম মনসুর আলী এমন এক সরকারের অর্থ মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বে ছিলেন, যে সরকারের সরকারপ্রধান ছিলেন কারাগারে বন্দি।

ক. ‘এস ফোর্স’-এর অধিনায়ক কে ছিলেন?

খ. মুক্তিযুদ্ধে নিয়মিত বাহিনীর গঠন ব্যাখ্যা করো?

গ. উদ্দীপকে তাহমিদের বাবা ইতিহাসের কোন সরকারের কথা বলেছেন? ব্যাখ্যা করো।

ঘ. বিশ্বমানচিত্রে বাংলাদেশের স্থান করতে উক্ত সরকারের ভূমিকা মূল্যায়ন করো।

 

উত্তর :

ক. ‘এস ফোর্স’-এর অধিনায়ক ছিলেন মেজর কে এম শফিউল্লাহ।

খ. মুক্তিবাহিনী সরকারি পর্যায়ে নিয়মিত বাহিনী ও অনিয়মিত বাহিনী এই দুই ভাগে বিভক্ত ছিল।

নিয়মিত বাহিনী ইস্টবেঙ্গল রেজিমেন্টের ইউনিটগুলোর বাঙালি সৈনিকদের নিয়ে গঠিত হয়। সরকারিভাবে এদের নামকরণ করা হয় এমএফ (মুক্তিফৌজ)। মুক্তিযুদ্ধকালে বাংলাদেশ সরকার নিয়মিত বাহিনী হিসেবে সেনাবাহিনী, বিমান ও নৌবাহিনীও গড়ে তোলে।

গ. উদ্দীপকে তাহমিদের বাবা মুজিবনগর সরকারের কথা বলেছেন। এ সরকারের নেতৃত্বেই মুক্তিযুদ্ধ সংঘটিত হয় এবং বাংলাদেশ শত্রুমুক্ত হয়।

১৯৭১ সালের ১০ এপ্রিল নির্বাচিত প্রতিনিধিদের নিয়ে মুজিবনগর সরকার গঠন করা হয়। ওই দিনই আনুষ্ঠানিকভাবে ঘোষিত হয় ‘বাংলাদেশের স্বাধীনতার ঘোষণা আদেশ’ মুজিবনগর সরকার শপথ গ্রহণ করে ১৯৭১ সালের ১৭ এপ্রিল। শপথ গ্রহণের মধ্য দিয়ে স্বাধীন বাংলাদেশ সরকার প্রতিষ্ঠিত হয়। মুজিবনগর সরকারের কাঠামো ছিল এভাবে—রাষ্ট্রপতি ও সর্বাধিনায়ক ছিলেন বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান, উপরাষ্ট্রপতি সৈয়দ নজরুল ইসলাম, (বঙ্গবন্ধুর অবর্তমানে অস্থায়ী রাষ্ট্রপতি) এবং তাজউদ্দীন আহমদকে প্রধানমন্ত্রী নিযুক্ত করা হয়। অন্য তিনজন মন্ত্রী ছিলেন অর্থমন্ত্রী এম মনসুর আলী, স্বরাষ্ট্র, ত্রাণ ও পুনর্বাসনমন্ত্রী এ এইচ এম কামরুজ্জামান, পররাষ্ট্র ও আইনমন্ত্রী খন্দকার মোশতাক আহমেদ। এ ছাড়া মুক্তিযুদ্ধকালীন জাতীয় ঐক্য প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে প্রধানমন্ত্রী তাজউদ্দীন আহমদকে প্রধান করে একটি উপদেষ্টা কমিটি করা হয়। উপদেষ্টা কমিটির অন্য সদস্যরা হলেন—খন্দকার মোশতাক আহমদ, মওলানা আবদুল হামিদ খান ভাসানী, মণিসিংহ, মোজাফ্ফর আহমদ, শ্রী মনোরঞ্জন ধর।

যেহেতু মুজিবনগর সরকারের প্রধান বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান পাকিস্তানের কারাগারে বন্দি ছিলেন এবং অর্থ মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বে ছিলেন এম মনসুর আলী। সুতরাং উদ্দীপকে তাহমিদের বাবা মুজিবনগর সরকারের কথা বলেছেন।

ঘ. ওই সরকারটি হলো মুজিবনগর সরকার। ১৯৭১ সালের ১০ এপ্রিল গঠিত মুজিবনগর সরকারের প্রধান উদ্দেশ্য ছিল মুক্তিযুদ্ধ পরিচালনা এবং বাংলাদেশের পক্ষে বিশ্বজনমত সৃষ্টি করা। বাংলাদেশের স্বাধীনতা এবং সার্বভৌমত্ব অর্জনে মুজিবনগর সরকারই মুখ্য ভূমিকা পালন করে।

বেসামরিক প্রশাসন এবং সামরিক কার্যক্রম—প্রধানত এই দুই ভাগে মুজিবনগর সরকারের কার্যক্রম ভাগ করে পরিচালিত হয়। বাঙালি কর্মকর্তাদের নিয়ে সরকার প্রশাসনিক কাজ পরিচালনা করে। এতে মোট ১২টি মন্ত্রণালয় বা বিভাগ ছিল। বাংলাদেশ সরকারের পক্ষে প্রচারণা ও সমর্থন আদায়ের জন্য মুজিবনগর সরকার বিশ্বের বিভিন্ন দেশের গুরুত্বপূর্ণ শহরে বাংলাদেশ সরকারের মিশন স্থাপন করে। সরকার বিচারপতি আবু সাঈদ চৌধুরীকে বিশেষ দূত নিয়োগ করে। এই সরকার মুক্তিযুদ্ধ পরিচালনার জন্য সামরিক, বেসামরিক জনগণকে নিয়ে একটি মুক্তিযোদ্ধা বাহিনী গড়ে তোলার উদ্যোগ গ্রহণ করে।

সমগ্র দেশকে মোট ১১টি সেক্টরে বিভক্ত করা হয় এবং তিনটি ব্রিগেড ফোর্স গঠিত হয়। প্রত্যেক সেক্টরে নিয়মিত সেনা, গেরিলা ও সাধারণ যোদ্ধা ছিল। এ দেশের ছাত্র, শিক্ষক, কৃষক, রাজনৈতিক দলের কর্মী, শ্রমিক—অনেকেই মুক্তিযুদ্ধে যোগদান করেছিল। মুজিবনগর সরকারের তত্ত্বাবধানে তারা যুদ্ধ পরিচালনা করেছে। যুদ্ধের অস্ত্র সংগ্রহ এবং জনগণের মনোবল অটুট রাখার ক্ষেত্রে মুজিবনগর সরকার গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছে। মুজিবনগর সরকারের তত্ত্বাবধানে মুক্তিযোদ্ধা ও গেরিলা প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা, ভারতে শরণার্থীদের ত্রাণ ও আশ্রয়ের ব্যবস্থা, স্বাধীন বাংলা বেতারকেন্দ্র পরিচালনা হয়।

পরিশেষে বলতে পারি, ১৯৭১ সালে মুক্তিযোদ্ধারা মুজিবনগর সরকারের নেতৃত্বে দেশকে পাকিস্তানিদের দখলমুক্ত করার জন্য রণক্ষেত্রে যুদ্ধ করেছেন এবং দেশকে স্বাধীন করে বিশ্বের মানচিত্রে একটি সার্বভৌম রাষ্ট্র হিসেবে বাংলাদেশ স্থান করে নিয়েছে।

মন্তব্য