kalerkantho

শুক্রবার । ২ ডিসেম্বর ২০১৬। ১৮ অগ্রহায়ণ ১৪২৩। ১ রবিউল আউয়াল ১৪৩৮।


পাঠ প্রস্তুতি

এইচএসসি প্রস্তুতি : জীববিজ্ঞান দ্বিতীয় পত্র

মো. সুজাউদ্দৌলা, সাবেক প্রভাষক, ন্যাশনাল আইডিয়াল কলেজ, খিলগাঁও, ঢাকা   

৭ মার্চ, ২০১৬ ০০:০০



এইচএসসি প্রস্তুতি : জীববিজ্ঞান দ্বিতীয় পত্র

সৃজনশীল প্রশ্ন

 

উদ্দীপকটি পড়ো এবং নিচের প্রশ্নগুলোর উত্তর দাও :

A একটি মাংসাশী মিঠা পানির জীব। এদের অরীয় প্রতিসম দেহের এক প্রান্ত খোলা এবং অপর প্রান্ত বন্ধ।

A জীবের খোলা প্রান্ত দিয়ে একটি B জীব প্রবেশ করে ঘনিষ্ঠভাবে সহাবস্থান করে এবং পরস্পরের কাছ থেকে উপকৃত হয়।

ক. সিলেন্টেরন কী?  

খ. হাইড্রার দ্রুত চলন কিভাবে সম্পন্ন হয়?

গ. উদ্দীপকের A জীবে গ্রীষ্মকালে যে ধরনের প্রজনন সম্পন্ন হয়, তার বর্ণনা দাও?  

ঘ. উদ্দীপকের A ও B জীবের মধ্যে বিদ্যমান সহাবস্থানকে তোমার মতামতের আলোকে মূল্যায়ন করো।  

 

উত্তর :

ক. হাইড্রার গ্যাস্ট্রোডার্মিস আবরণী দ্বারা আবৃত দেহগহ্বর, যার মধ্যে পরিপাক ও সংবহনের কাজ সম্পন্ন হয়, তাকে সিলেন্টেরন বলে।

 

খ. হাইড্রা সমারসলটিং বা ডিগবাজির মাধ্যমে দ্রুত চলন সম্পন্ন করে।

এ ক্ষেত্রে চলনদিকে হাইড্রা তার দেহ প্রসারিত করে এবং বাঁকিয়ে কর্ষিকা দ্বারা চলনতল আটকে ধরে। এ সময় কর্ষিকাস্থিত গ্লুটিন্যান্ট নেমাটোসিস্ট কোনো বস্তুর সঙ্গে কর্ষিকার আবদ্ধ হতে সাহায্য করে। পরে দেহতলের সংযুক্ত অংশ বিমুক্ত হয়ে কর্ষিকার ওপর ভর দিয়ে সোজা হয়ে পদতল ঊর্ধ্বমুখী করে দাঁড়ায় এবং দেহকে সংকুচিত করে একটি ছোট আকৃতি দান করে। এবার দেহকে সামনে প্রসারিত করে এর মুক্ত পদতল প্রান্ত দিয়ে চলনতল স্পর্শ করে, পাশাপাশি কর্ষিকাসমূহের চলনতল থেকে বিমুক্ত করে আবার সোজা হয়ে দাঁড়ায়। এই চলনটি হাইড্রায় বারবার হতে থাকে এবং এটি একটি সুপরিচিত চলন। এটি দ্রুত চলন প্রক্রিয়া, যা হাইড্রা অল্প দূরত্ব অতিক্রমকালে ব্যবহার করে।

 

গ. উদ্দীপকের A জীবটি হলো হাইড্রা। হাইড্রায় গ্রীষ্মকালে মুকুলোদগম প্রক্রিয়ায় প্রজনন হয়।

এ পদ্ধতি হাইড্রার সাধারণ ও স্বাভাবিক অযৌন প্রজনন প্রক্রিয়া। গ্রীষ্মকালে যখন হাইড্রার চারদিকে প্রচুর খাদ্য থাকে, তখন এ প্রক্রিয়ায় হাইড্রা বংশ বৃদ্ধি করে। মুকুল সাধারণত পদতলের কাছে বা দেহের মাঝ বরাবর উত্পন্ন হয়ে থাকে। হাইড্রার মুকুলোদগম নিম্নের কয়েকটি ধাপে সংঘটিত হয়।

প্রবৃদ্ধি গঠন : হাইড্রার অ্যাক্টোডার্মের কিছু ইন্টারস্টিশিয়াল কোষ মাইটোসিস পদ্ধতিতে বিভাজিত হয়ে কিউটিকলের নিচে স্ফীত অংশ গঠন করে। এগুলো ক্রমেই আকারে বড় হয়ে পরিশেষে একটি করে দ্বিস্তরবিশিষ্ট নলাকার প্রবৃদ্ধিতে পরিণত হয়।

মুকুল সৃষ্টি : এ প্রবৃদ্ধি ধীরে ধীরে বৃদ্ধি পেয়ে দ্বিস্তরবিশিষ্ট ফাঁপা নলাকার মুকুল গঠন করে।

বিভিন্ন অঙ্গ-প্রত্যঙ্গের সৃষ্টি : ক্রমেই মুকুলের শুক্ত প্রান্তে একে একে কর্ষিকাসমূহ, হাইপোস্টোম ও মুখচ্ছিদ্র গঠিত হয়। বর্ধনশীল মুকুলের সিলেন্টেরন মাতৃ হাইড্রার সিলেন্টেরনের সঙ্গে যুক্ত থাকে।

খাঁজ সৃষ্টি : এরই মধ্যে মাতৃ হাইড্রা ও মুকুলের সংযোগস্থলে একটি বৃত্তাকার খাঁজের সৃষ্টি হয়। এ খাঁজ ক্রমে গভীরতর হতে থাকে এবং অবশেষে মাতৃ হাইড্রা ও মুকুলের সংযোগকারী সিলেন্টেরন বন্ধ হয়ে যায়।

বিচ্ছিন্ন হওয়া ও স্বাধীনভাবে বসবাস : এর পরপরই শিশু হাইড্রা মাতৃ হাইড্রার দেহ থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে স্বাধীন জীবনযাপন শুরু করে। মাতৃ হাইড্রার সঙ্গে মুকুলের যে প্রান্ত সংযুক্ত থাকে, সেই প্রান্তে শিশু হাইড্রার পাদচাকতি গঠিত হয়।

ঘ. উদ্দীপকের A জীব হলো সবুজ হাইড্রা Chlorohydra viridissima এবং B জীব হলো এককোষী সবুজ শৈবাল Zoochlorella এর মধ্যে মিথোজীবিতার সহচার্য বিদ্যমান।

দুটি ভিন্ন প্রজাতির জীব ঘনিষ্ঠভাবে সহাবস্থান করে পরস্পরের উপকার সাধন করলে, ওই জীব দুটিকে পরস্পরের মিথোজীবী বলে। এ ধরনের সহাবস্থানকে মিথোজীবিতা বলে।

শৈবাল :

১। আশ্রয় : শৈবাল হাইড্রার দেহের অ্যান্ডোডার্মে বাস করে নিরাপদ আশ্রয় লাভ করে।

২। CO2 প্রাপ্তি : হাইড্রার শ্বসন ও বিপাকের ফলে উত্পন্ন পানি ও কার্বন ডাই-অক্সাইড শৈবাল ব্যবহার করে তার দেহস্থ ক্লোরোফিল ও সূর্যালোকের সাহায্যে সালোকসংশ্লেষণ প্রক্রিয়ায় নিজের ব্যবহারের জন্য শর্করা উত্পন্ন করে।

৩। নাইট্রোজেনজাত পদার্থ প্রাপ্তি : হাইড্রা কর্তৃক উপজাত দ্রব্য হিসেবে সৃষ্ট নাইট্রোজেনযুক্ত বর্জ্য পদার্থ ব্যবহার করে শৈবাল আমিষ জাতীয় খাদ্য প্রস্তুত করে।

হাইড্রা :

১। খাদ্য : সালোকসংশ্লেষণ প্রক্রিয়ায় জুওক্লোরেলা যে খাদ্য প্রস্তুত করে, তার অতিরিক্ত অংশ হাইড্রা গ্রহণ করে। অনেক সময় হাইড্রা মৃত শৈবালও খাদ্য হিসেবে গ্রহণ করে।

২। O2 প্রাপ্তি : সালোকসংশ্লেষণ প্রক্রিয়ায় শৈবাল যে O2 নির্গত করে হাইড্রা তা শ্বসনের জন্য ব্যবহার করে।

৩। CO2 নিষ্কাশন : হাইড্রার শ্বসনে নির্গত CO2 শৈবাল গ্রহণ করে হাইড্রাকে ঝামেলামুক্ত করে।

৪। বর্জ্য পদার্থ নিষ্কাশন : হাইড্রার বিপাকে সৃষ্ট নাইট্রোজেন জাতীয় বর্জ্য পদার্থ শৈবাল গ্রহণ করে হাইড্রাকে বর্জ্যমুক্ত করে।

সুতরাং সবুজ হাইড্রা ও জুওক্লোরেলা একে অপরের সহায়তায় বেঁচে থাকে। এখানে পরস্পর পরস্পরের উপকার সাধন করে। কাজেই আমার মতে, জুওক্লোরেলা ও সবুজ হাইড্রা পরস্পরের মিথোজীবী এবং এদের এ সহাবস্থানই মিথোজীবিতা।

 

বহু নির্বাচনী প্রশ্ন

 

১।    নিচের কোনটি সেক্সলিংকড বৈশিষ্ট্য?

     ক. হিমোফিলিয়া

     খ. দৃষ্টিহীনতা

     গ. গাত্রবর্ণ  

     ঘ. অ্যানিমিয়া

২।    জীবের প্রকাশিত বাহিক্য বৈশিষ্ট্যকে কী বলে?

     ক. জিনোটাইপ

     খ. ফিনোটাইপ

     গ. হেটারোটাইপ    

     ঘ. হেটারোজাইগাস

৩।    এপিস্ট্যাসিসে যে জিনটি বৈশিষ্ট্য প্রকাশে বাধা দেয় তাকে কী বলে?

     ক. অ্যালিল জিন    

     খ. লিখাল জিন

     গ. হাইপোস্ট্যাটিক   

     ঘ. এপিস্ট্যাটিক জিন

৪।    বিবর্তনবিদ্যার জনক কে?

     ক. ল্যামার্ক     খ. মেন্ডেল

     গ. লিনিয়াস    ঘ. ডারউইন

     নিচের উদ্দীপকটি পড়ে ৫ ও ৬ নম্বর প্রশ্নের উত্তর দাও :

     রহিম মিয়া বর্ণান্ধ পুরুষ এবং তার স্ত্রী স্বাভাবিক মহিলা। তারা তাদের পরবর্তী বংশধরদের বর্ণান্ধ রোগ হওয়ার বিষয়ে চিন্তিত।

৫।    উদ্দীপকের দম্পতিদের F1 জনু পাওয়া যাবে—

     i. স্বাভাবিক পুত্র   ii. বর্ণান্ধবাহক

     iii. সবাই স্বাভাবিক দৃষ্টিসম্পন্ন

     নিচের কোনটি সঠিক?

     ক. i ও ii        খ. i ও iii

     গ. ii ও iii     ঘ. i, ii ও iii

৬।    রহিম সাহেবের মেয়ের সঙ্গে স্বাভাবিক পুরুষের বিয়ে হলে নিচের কোনটি সঠিক নয়?

     ক. স্বাভাবিক কন্যা হবে

     খ. স্বাভাবিক পুত্র হবে

     গ. বর্ণান্ধবাহক কন্যা হবে   

     ঘ. বর্ণান্ধবাহক পুত্র হবে

৭।    ম্যালেরিয়া জ্বর কত প্রকার?

     ক. দুই প্রকার

     খ. তিন প্রকার

     গ. চার প্রকার

     ঘ. পাঁচ প্রকার

৮।    ‘ম্যালেরিয়া’ শব্দের অর্থ কী?

     ক. জীবাণু    খ. জ্বর

     গ. দূষিত বাতাস    

     ঘ. বিশুদ্ধ বাতাস

৯।    একটি মশকীতে কতটি ওসিস্ট থাকে?

     ক. ৫-৫০টি  

     খ. ৫০-৫০০টি

     গ. ৫০০-৫০০০টি   

     ঘ. ৫০০০টি

১০।   সুপ্তাবস্থা বলতে কী বোঝায়—

     i. জীবাণু প্রবেশের পর থেকে লক্ষণ প্রকাশের পূর্ব পর্যন্ত সময়

     ii. জীবাণু প্রবেশের পর থেকে রোগ নিরাময়ের পূর্ব পর্যন্ত সময়

     iii. লক্ষণ বজায় থাকার সময়কাল

     নিচের কোনটি সঠিক?

     ক. i ও ii        খ. i ও iii

     গ. ii ও iii  ঘ. i, ii ও iii

১১।   প্লাজমোডিয়াম ভাইভেক্সের সুপ্তাবস্থাকাল—

     ক. ৮-১৫ দিন খ. ১১-১৬ দিন

     গ. ১২-২০ দিন     ঘ. ১৮-৪০ দিন

১২।   ম্যালেরিয়ার লক্ষণ নয় কোনটি?

     ক. ক্ষুধার অভাব ও বমিভাব

     খ. রক্তাল্পতা দেখা দেয়

     গ. মাথা ব্যথা ও তীব্র পানির পিপাসা

     ঘ. প্লীহা ও যকৃৎ ছোট হয়ে যাওয়া

১৩।   কেবল অ্যানোফিলিস মশকীই ম্যালেরিয়ার জীবাণু বহন করে কারণ—

     i. অন্য প্রজাতির মশকীদেহে বিষাক্ত উপাদান থাকে

     ii. অন্য প্রজাতির ট্রিপসিন উওকিনেটের পরস্ফুিটনকে রুদ্ধ করে

     iii. অ্যানোফিলিস মশকীর দেহেই জীবাণুর পরস্ফুিটন ও বহন সম্পন্ন হয়

     নিচের কোনটি সঠিক?

     ক. i ও ii        খ. i ও iii

     গ. ii ও iii         ঘ. i, ii ও iii

১৪।   স্পোরোজয়েট সম্পর্কে কোন তথ্যটি সঠিক নয়—

     ক. দেহ দ্বিঝিল্লি বেষ্টিত

     খ. দেহ সামান্য বাঁকানো এবং উভয়প্রান্ত সুঁচালো

     গ. অগ্রপ্রান্তে অ্যাপিকাল কাপ রয়েছে

     ঘ. মাইক্রোপাইল নামক রন্ধ্র রয়েছে

 

উত্তরগুলো মিলিয়ে নাও

১. ক ২. খ ৩. ঘ ৪. ঘ ৫. ঘ ৬. ঘ

৭. গ ৮. গ ৯. খ ১০. খ ১১. গ

১২. ঘ  ১৩. গ ১৪. ক


মন্তব্য