দশম শ্রেণি : বাংলা দ্বিতীয় পত্র-332318 | পড়ালেখা | কালের কণ্ঠ | kalerkantho

kalerkantho

বুধবার । ২৮ সেপ্টেম্বর ২০১৬। ১৩ আশ্বিন ১৪২৩ । ২৫ জিলহজ ১৪৩৭


পাঠ প্রস্তুতি

দশম শ্রেণি : বাংলা দ্বিতীয় পত্র

লুত্ফা বেগম, সিনিয়র শিক্ষক, বিএএফ শাহীন কলেজ, কুর্মিটোলা, ঢাকা   

৫ মার্চ, ২০১৬ ০০:০০



দশম শ্রেণি : বাংলা দ্বিতীয় পত্র

প্রতিবেদন

 

১। বর্তমানে নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্যের দাম বৃদ্ধি সম্পর্কে পত্রিকায় প্রকাশের নিমিত্ত প্রতিবেদন লেখো।

অথবা, তোমার এলাকায় স্থানীয় বাজারের দ্রব্যমূল্য পরিস্থিতি বিষয়ে পত্রিকায় প্রকাশের জন্য একটি প্রতিবেদন প্রস্তুত করো।

অথবা, বর্তমানে নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিসপত্রের দাম বৃদ্ধি সম্পর্কে একটি প্রতিবেদন রচনা করো।

উত্তর :

বরাবর

সম্পাদক

দৈনিক ............

বিষয় : দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতিবিষয়ক প্রতিবেদন প্রসঙ্গে।

জনাব

বিনীত নিবেদন এই যে, ‘দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতি জনজীবনে দুর্ভোগ’ নিয়ে একটি জনগুরুত্বপূর্ণ প্রতিবেদন প্রস্তুত করেছি। আশা করছি, প্রতিবেদনটি বিবেচ্য হলে আপনার বহুল প্রচারিত পত্রিকায় প্রকাশ করবেন।

দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতি জনজীবনে দুর্ভোগ

অতি সম্প্রতি সাধারণের ব্যবহার্য নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্যাদির অস্বাভাবিক মূল্য বৃদ্ধিতে জনজীবনে নেমে এসেছে চরম দুর্ভোগ। বলাবাহুল্য, বর্তমানে বেশির ভাগ দ্রব্যের মূল্য ক্রেতাসাধারণের ক্রয়ক্ষমতার বাইরে। আকস্মিক ও অস্বাভাবিক এ মূল্য বৃদ্ধির বহু কারণ রয়েছে। যেমন :

১. এ দেশে প্রায়ই দেখা যায়, মুনাফালোভী মজুদদাররা অধিক মুনাফা লাভের আশায় দ্রব্যের দাম বাড়িয়ে দেয়।

২. সরকারি কর্মচারীদের মহার্ঘভাতা বৃদ্ধি অন্যতম কারণ। দেশের একটি ক্ষুদ্রতম অংশ ভাতা পেলেও এর ফলে ক্ষতির শিকার হয় সমাজের বৃহত্তম অংশ।

৩. সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সুষ্ঠু নীতিমালার অভাবেও বাজারে দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতি পরিলক্ষিত হয়।

৪. ব্যবসায়ীরা সিন্ডিকেট তৈরি করে দ্রব্যমূল্য বৃদ্ধি করে।

অপ্রত্যাশিত এমন মূল্য বৃদ্ধি এ দেশে নতুন নয়। প্রতিদিন সকালে বাজারে ঢুকেই এ দেশের মানুষ জানতে পারে মূল্য বৃদ্ধির খবর।

অনেক সময় দাম বাড়ার যৌক্তিক কোনো কারণ থাকে না। অথচ বিশ্বের যেকোনো দেশের ক্ষেত্রে জনগণকে জানিয়ে এমনটি ঘটলে জনগণ তাত্ক্ষণিকভাবে ক্ষুব্ধ হয়ে পড়ে। ফলে জনসাধারণের কাছে সরকারকে জবাবদিহি করতে হয়। নীতিজ্ঞানহীন বিবেকশূন্য এক সম্প্রদায় এসব সমস্যায় ঘোলা পানিতে মাছ শিকারে তত্পর। তারা কখনো কৃত্রিম সংকট সৃষ্টি করছে, কখনো বা চোরাকারবারের মাধ্যমে সেই কৃত্রিম সংকটের শূন্যতা পূর্ণ করছে। এভাবেই দেশি মুদ্রা ও পণ্য—এ দুটি পথেই মার খাচ্ছে। পাশাপাশি জনসাধারণের ক্রয়ক্ষমতাও হ্রাস পাচ্ছে। এরই পরিপ্রেক্ষিতে দ্রুত কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ জরুরি। কেননা, গড়পড়তা আয়ের সঙ্গে সামঞ্জস্য একটি বাজারব্যবস্থা যেকোনো দেশের সরকারের কাছে তার জনগণের প্রাণের দাবি।

দ্রব্যমূল্যের এ ঊর্ধ্বগতি থেকে পরিত্রাণের জন্য সরকারি ও বেসরকারি অভিজ্ঞমহলের সুদৃষ্টি অবশ্যই থাকা উচিত।

 

প্রতিবেদনের শিরোনাম : দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতি জনজীবনে দুর্ভোগ

প্রতিবেদকের নাম ও ঠিকানা : জনি, বাগেরহাট

প্রতিবেদনের স্থান : বাগেরহাট জেলা

তারিখ : ২ জানুয়ারি ২০১৬

প্রতিবেদন তৈরির সময় : বিকেল ৫টা

* এখানে খাম আঁকতে হবে

 

২। তোমার বিদ্যালয়ের লাইব্রেরি জরিপ করে একটি প্রতিবেদন প্রস্তুত করো।

অথবা, তোমার বিদ্যালয়ের গ্রন্থাগার সম্পর্কে প্রধান শিক্ষক বরাবর একটি প্রতিবেদন প্রস্তুত করো।     

উত্তর :

বরাবর

প্রধান শিক্ষক

......... উচ্চ বিদ্যালয়, ঢাকা।

বিষয় : লাইব্রেরি জরিপবিষয়ক প্রতিবেদন প্রসঙ্গে।

জনাব

বিনীত নিবেদন এই যে, আপনার প্রেরিত পত্রের (পত্র নং-২০১৬/১/৭-ক-১) পরিপ্রেক্ষিতে ‘বিদ্যালয় গ্রন্থাগারের বর্তমান অবস্থা’ নিয়ে প্রতিবেদন প্রস্তুত করেছি। তা এখানে পেশ করছি—

 

বিদ্যালয় গ্রন্থাগার সংস্কার জরুরি

......... উচ্চ বিদ্যালয়ের গ্রন্থাগারটি প্রতিষ্ঠার সময় থেকেই ছিল। কিন্তু প্রয়োজনীয় বইপত্র ক্রয় না করায় এর আশানুরূপ উন্নতি হয়নি। শিক্ষার্থীর সংখ্যা এবং বইয়ের প্রয়োজনীয়তা বাড়লেও বইয়ের সংখ্যা বাড়েনি; বরং কমেছে। তা ছাড়া বিদ্যালয়ের আর্থিক দীনতার কারণে গ্রন্থাগারের জন্য ব্যয়বরাদ্দ কখনো যথেষ্ট ছিল না।

১. কিছু অসৎ কর্মচারীর কারসাজিতে গুরুত্বপূর্ণ বইগুলোর বেশির ভাগ গ্রন্থাগার থেকে চুরি হয়েছে।

২. গ্রন্থাগার গঠনকালে কোনো প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত গ্রন্থাগারিক না থাকায় সুষ্ঠুভাবে তা গড়ে ওঠেনি।

৩. বইয়ের তালিকা তৈরিতে কোনো বিজ্ঞানসম্মত পন্থা অনুসৃত হয়নি। দশমিক পদ্ধতি সম্পর্কে গ্রন্থাগারিক অনভিজ্ঞ বলে আধুনিক পদ্ধতি ব্যবহূত হয়নি।

৪. পুস্তকের রক্ষণাবেক্ষণে তেমন কোনো সচেতনতা নেই। বিদ্যালয় লাইব্রেরিতে ক্যাটালগ নেই, বই ইস্যু এবং ফেরত নেওয়ার ব্যাপারেও অব্যবস্থাপনা বিদ্যমান।

এসব অবস্থা থেকে এটাই প্রতীয়মান হয় যে, গ্রন্থাগারটি বিদ্যালয়ের তেমন কোনো উপকারে আসেনি।

এ অবস্থায় নিম্নোক্ত সুপারিশগুলো পেশ করছি, যার বাস্তবায়নে গ্রন্থাগারটি যথার্থ উপকারে আসতে পারে—

ক) অনতিবিলম্বে গ্রন্থাগারের সব পুস্তকের হিসাব গ্রহণ করে দশমিক পদ্ধতিতে তালিকা তৈরি করা দরকার।

খ) ছাত্রদের প্রয়োজন মেটানোর জন্য আরো বই সংগ্রহ করা জরুরি। বিষয় নির্বাচনে বিশেষ তত্পর হতে হবে।

গ) বইপত্র বাড়িতে ইস্যু করা, পাঠাগারে পড়ার ব্যবস্থা করতে হবে এবং প্রয়োজনীয়তা বিবেচনা করে ছাত্রছাত্রীদের দুই ধরনের গ্রন্থাগার কার্ড ইস্যু করতে হবে।

ঘ) বই রক্ষণাবেক্ষণের জন্য বিজ্ঞানসম্মত ব্যবস্থা করতে হবে এবং প্রয়োজনীয় নিরাপত্তামূলক ব্যবস্থা থাকতে হবে।

ঙ) গ্রন্থাগারের জন্য স্বতন্ত্র তহবিল গড়ে তুলতে হবে এবং তাতে শিক্ষার্থীদের বার্ষিক চাঁদা দিতে হবে।

 

প্রতিবেদনের শিরোনাম : বিদ্যালয় গ্রন্থাগার সংস্কার জরুরি

প্রতিবেদকের নাম ও ঠিকানা : আরিফুল ইসলাম, রাজশাহী

প্রতিবেদনের স্থান : ......... উচ্চ বিদ্যালয়

তারিখ : ২৫ জানুয়ারি ২০১৬

প্রতিবেদন তৈরির সময় : সকাল ১০টা

* এখানে খাম আঁকতে হবে

 

বহু নির্বাচনী প্রশ্ন

 

১।   কোনটি পারিভাষিক শব্দ?

     ক. সচিব    

     খ. সেক্রেটারি

     গ. খ্রিস্টাব্দ        

     ঘ. ইউনিভার্সিটি

২।   ইংরেজিতে প্রথম বাংলা ব্যাকরণ রচনা করেন—

     ক. ডক্টর উইলিয়াম কেরি

     খ. ডক্টর মুহম্মদ শহীদুল্লাহ

     গ. ডক্টর সুনীতি কুমার চট্টোপাধ্যায়

     ঘ. ডক্টর সি এন বি হ্যালহেড

৩।   ‘এ’ ধ্বনির বিবৃত উচ্চারণ শব্দের কোথায় পাওয়া যায়?

     ক. আদিতে  

     খ. মধ্যে

     গ. অন্তে          ঘ. আদি ও অন্তে

৪।   ‘উষ্ণ’ শব্দের বানানে যুক্ত ব্যঞ্জন দুটি কী?

     ক. ষ+ঞ     খ. ষ+ন

     গ. ষ+ণ     ঘ. ঞ+ষ

৫।   দ্বিত্ব ব্যঞ্জনের উদাহরণ কোনটি?

     ক. কবাট > কপাট

     খ. ফাল্গুন > ফাগুন

     গ. সকাল > সক্কাল

     ঘ. বড়দাদা > বড়দা

৬।   ই-কারান্ত এবং উ-কারান্ত উপসর্গের পর কতগুলো ধাতুতে ‘ষ’ হয়। এর উদাহরণ কোনটি?

     ক. ঊষর     খ. অভিলাষ

     গ. বিষম     ঘ. ভাষণ

৭।   বিশেষ নিয়মে সাধিত সন্ধির উদাহরণ কোনটি?

     ক. সম+কৃত = সংস্কৃত

     খ. গো+পদ = গোষ্পদ

     গ. এক+দশ = একাদশ

     ঘ. বৃহঃ+পতি = বৃহস্পতি

৮।   শব্দের শেষের ‘অক’ লিঙ্গ পরিবর্তনে ‘ইকা’ হয়—এর ব্যতিক্রম কোনটি?

     ক. গণক     খ. সাধক

     গ. গায়ক    ঘ. নায়ক

৯।   সামান্য বোঝাতে দ্বিরুক্তি কোনটি?

     ক. ধামা ধামা     

     খ. কবি কবি

     গ. দিন দিন

     ঘ. রাশি রাশি

১০। ‘চৌঠা’ শব্দটি কোন ভাষার নিয়মে হয়েছে?

     ক. বাংলা    খ. আসামি

     গ. হিন্দি     ঘ. উর্দু

১১। জন্তুর বহু বচনে ব্যবহূত হয়—

     ক. দাম ও পাল    

     খ. আবলি ও যূথ

     গ. মালা ও রাশি   

     ঘ. পাল ও যূথ

উত্তরগুলো মিলিয়ে নাও

১. ক ২. ঘ ৩. ক ৪. গ ৫. গ ৬. গ ৭. ক ৮. ক ৯. খ ১০. গ ১১. ঘ

মন্তব্য