অষ্টম শ্রেণি : চারু ও কারুকলা-331960 | পড়ালেখা | কালের কণ্ঠ | kalerkantho

kalerkantho

বুধবার । ২৮ সেপ্টেম্বর ২০১৬। ১৩ আশ্বিন ১৪২৩ । ২৫ জিলহজ ১৪৩৭


পাঠ প্রস্তুতি

অষ্টম শ্রেণি : চারু ও কারুকলা

মো. জাকির হোসেন, সিনিয়র শিক্ষক, বিএএফ শাহীন কলেজ, কুর্মিটোলা, ঢাকা   

৪ মার্চ, ২০১৬ ০০:০০



১। চারু ও কারুকলা ইনস্টিটিউট বা প্রথম গভর্নমেন্ট আর্ট ইনস্টিটিউট কিভাবে প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল। প্রতিষ্ঠাতা মানুষদের নাম উল্লেখ করে সংক্ষিপ্ত বিবরণ লেখো।

উত্তর : ১৮৪৭ সালে দেশ ভাগের পর কলকাতা আর্ট কলেজের ছাত্র এবং পরবর্তী সময়ে শিক্ষক শিল্পাচার্য জয়নুল আবেদিনের নেতৃত্বে তার সহকর্মীরা পূর্ব পাকিস্তানে একটি ছবি আঁকা শেখার প্রতিষ্ঠান প্রতিষ্ঠা করতে চেয়েছিলেন। কিন্তু তত্কালীন পাকিস্তান সরকারের অসহযোগিতা, ধর্মীয় গোড়ামির কারণে এটি প্রতিষ্ঠা করার পেছনে শিল্পীদের অনেক কষ্ট করতে হয়েছে। তারা শুধু ছবি আঁকা বিষয়টি হাতে-কলমে শিখবে, সে জন্য শিল্পী বানানোর জন্য চারুকলার শেখার প্রতিষ্ঠান করতে চাননি। তারা চেয়েছিলেন এই চারুকলাকে কেন্দ্র করে ছবি আঁকা, ভাস্কর্য ও অন্যান্য শিল্পের মাধ্যমে নানা রকম সংস্কৃতি চর্চা, ভাষার চর্চা ও সম্মান ইত্যাদিও প্রসারিত হবে। বাংলাদেশের মানুষের মধ্যে বাঙালির নিজস্ব ঐতিহ্য সম্পর্কে সচেতনতা বাড়বে। তারা নানাভাবে সরকারকে এর প্রয়োজনীয়তা বুঝিয়েছেন। শিল্পীদের পাশাপাশি অনেক জ্ঞানী-পণ্ডিত, শিল্পানুরাগী ব্যক্তিবর্গও এ ব্যাপারে বিশেষ ভূমিকা রেখেছিলেন। অবশেষে বাংলাদেশের প্রথম ছবি আঁকার প্রতিষ্ঠান—‘গভর্নমেন্ট আর্ট ইনস্টিটিউট’ প্রতিষ্ঠিত হয় ১৯৪৮ সালের ১৫ই নভেম্বর। চারুকলার প্রতিষ্ঠাতা শিল্পী জয়নুল আবেদিন, কামরুল হাসান, শফিউদ্দিন আহমদ, খাজা শফিক আহমেদ, শফিকুল আমিন, মোহাম্মদ কিবরিয়া এঁরা সবাই চিন্তা ও চেতনায় ছিলেন প্রগতিশীল, অসাম্প্রদায়িক এবং বাংলা ভাষা ও সংস্কৃতির প্রতি শ্রদ্ধাশীল ও সচেতন। চারুকলা চর্চার প্রথম দিক থেকেই যারা ছাত্র হিসেবে ভর্তি হয়েছিলেন তাদের মধ্যে অনেকেই প্রতিষ্ঠাতাশিল্পীদের চিন্তা ও চেতনাকে ধারণ করেই শিল্পচর্চা করেছেন।

মন্তব্য