kalerkantho

শনিবার । ১০ ডিসেম্বর ২০১৬। ২৬ অগ্রহায়ণ ১৪২৩। ৯ রবিউল আউয়াল ১৪৩৮।


সৃজনশীল প্রশ্ন

সপ্তম শ্রেণি : বাংলা প্রথম পত্র

লুত্ফা বেগম, সিনিয়র শিক্ষক, বিএএফ শাহীন কলেজ, কুর্মিটোলা, ঢাকা   

২ মার্চ, ২০১৬ ০০:০০



বাংলাদেশের হূদয়

রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর

 

১। উদ্দীপকটি পড়ে নিচের প্রশ্নগুলোর উত্তর দাও :

অনুচ্ছেদ-১ : ফুলে ফুলে ভরা বসন্তের রূপ প্রকৃতি থেকে দূরে সরে গিয়ে ধীরে ধীরে দেখা দেয় উষ্ণতা ও রুক্ষতার চিহ্ন।

চৈত্রের শেষে দেখা যায় প্রখর রোদ আর বৈশাখে কালবৈশাখী ঝড়।

অনুচ্ছেদ-২ : গ্রীষ্মের প্রচণ্ড গরমে যখন মাঠ-ঘাট ফেটে হয় চৌচির, নদী-নালা যায় শুকিয়ে তখন প্রকৃতি হয়ে ওঠে তৃষ্ণার্ত। এ প্রকৃতির পিপাসা মেটাতে আসে অবিরাম বৃষ্টি। বৃষ্টির এই আশীর্বাদে মাঠ-ঘাট হয়ে ওঠে শস্য-শ্যামল। একই প্রকৃতির মাঝে রয়েছে নানা রূপ, নানা শোভা। এভাবেই আমাদের প্রকৃতি ও ইতিহাস মিলেমিশে একাকার।

 

ক) মায়ের ডান হাতে কী জ্বলে?

উত্তর : মায়ের ডান হাতে খড়্গ জ্বলে।

 

খ) ‘তোমার অভয় বাজে হূদয়মাঝে হূদয়হরণী’ চরণটি দ্বারা কী বোঝানো হয়েছে?

উত্তর : ‘তোমার অভয় বাজে হূদয় মাঝে হূদয়হরণী’ চরণটি দ্বারা মনের মধ্যে সাহসের সঞ্চার হওয়ার কথা বোঝানো হয়েছে। রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর তাঁর ‘বাংলাদেশের হূদয়’ কবিতায় দেশমাতৃকার মমতাময়ী ও রুদ্র দুই রূপেরই পরিচয় তুলে ধরেছেন। বাংলার শ্যামল-সবুজ প্রকৃতির সৌন্দর্যে দেশজননীর মমতাময়ী রূপের পরিচয় পাওয়া যায়। এই হূদয়হরণকারী রূপকে টিকিয়ে রাখতে দেশজননী আবার কখনো রুদ্র ও ভয়ংকর হয়ে ওঠে, তার সন্তানদের দেয় অভয় আর সংগ্রামের শিক্ষা, যা আমাদের মনে সাহসিকতার জন্ম দেয়।

 

গ) উদ্দীপকের প্রথম অনুচ্ছেদটিতে ‘বাংলাদেশের হূদয়’ কবিতা অনুসরণে দেশমাতৃকার কোন রূপটি ফুটে উঠেছে— ব্যাখ্যা করো।

উত্তর : উদ্দীপকের প্রথম অনুচ্ছেদটিতে ‘বাংলাদেশের হূদয়’ কবিতায় বর্ণিত দেশমাতৃকার রুদ্র ও ভয়ংকর রূপটি ফুটে উঠেছে। বাংলার সবুজ-শ্যামল প্রকৃতিই বাংলাদেশের প্রাণ, হূদয়। এই প্রকৃতির মন ভোলানো রূপে দেশমাতৃকা যখন সেজে ওঠে তখন তার দিক থেকে চোখ ফেরানো যায় না। তার পবিত্র মন্দিরের দরজা যেন সোনা দিয়ে মোড়ানো অর্থাৎ প্রকৃতির সোনালি ফসলের সম্ভারে যেন চারদিক আলোকিত হয়ে ওঠে। দেশ জননী তার এই অনিন্দ্য সুন্দর ও মমতাময়ী রূপকে টিকিয়ে রাখতে কখনো আবার ভয়ংকর সংগ্রামী হয়ে ওঠে। তখন দেশমাতার হাতে ধারালো খড়্গ জ্বল জ্বল করে আর কপালের চোখ থেকে যেন আগুন বিচ্ছুরিত হয়। মায়ের মমতাময়ী রূপের পাশাপাশি এই রুদ্র রূপ কবিকে একই সঙ্গে মুগ্ধ ও বিস্মিত করে।

উদ্দীপকেও বসন্তের ফুলে ভরা রূপের পরে গ্রীষ্মের উষ্ণতা, প্রখর রোদ আর কালবৈশাখী ঝড়ের মাধ্যমে প্রকৃতির এই রুক্ষ রুদ্র রূপের কথা বলা হয়েছে, যা দেশ জননীর রুদ্র রূপের সঙ্গে

তুলনীয়।

ঘ) উদ্দীপকে ‘বাংলাদেশের হূদয়’ কবিতায় বর্ণিত বাংলা মায়ের মমতাময়ী ও রুদ্র দুই রূপেরই প্রকাশ পেয়েছে।

কারণ উদ্দীপকের প্রথমটিতে বাংলার প্রকৃতির রুদ্র রূপ আর দ্বিতীয়টিতে সবুজ-শ্যামল অর্থাৎ মমতাময়ী রূপের প্রকাশ ঘটেছে।

রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের ‘বাংলাদেশের হূদয়’ কবিতায়ও দেশ জননীর এই দুই রূপের সমন্বয় সাধন করা হয়েছে। দেশমাতা যখন সবুজে-শ্যামলে শোভিত, তখন তিনি মমতাময়ী। তার দুই চোখ তখন সন্তানের জন্য স্নেহ-মমতার হাসি আর বাঁ হাতে তিনি সন্তানের প্রতি আশীর্বাদ ঝরিয়ে অভয় মন্ত্র দান করেন। মায়ের এই শান্তশিষ্ট রূপ আবার দেশের দুর্দিনে ভয়ংকর ও রুদ্র হয়ে ওঠে। তখন দেশমাতৃকার দেশের মুক্তির লক্ষ্যে হাতে তুলে নেন খড়গের মতো ভয়ানক অস্ত্র, তার ললাটের চোখ দিয়ে আগুন ঝরে পড়ে, তার রুদ্র রূপের ছটায় সারা আকাশ ঝলসে ওঠে।

উপর্যুক্ত বক্তব্য এটাই প্রমাণ করে যে উদ্দীপকের প্রথম ও দ্বিতীয়টির ‘বাংলাদেশের হূদয়’ কবিতার বাংলা মায়ের স্বরূপ প্রকাশ করেছে।


মন্তব্য