ষষ্ঠ শ্রেণি : বাংলা প্রথম পত্র-331130 | পড়ালেখা | কালের কণ্ঠ | kalerkantho

kalerkantho

বুধবার । ২৮ সেপ্টেম্বর ২০১৬। ১৩ আশ্বিন ১৪২৩ । ২৫ জিলহজ ১৪৩৭


সৃজনশীল প্রশ্ন

ষষ্ঠ শ্রেণি : বাংলা প্রথম পত্র

লুত্ফা বেগম, সিনিয়র শিক্ষক, বিএএফ শাহীন কলেজ, কুর্মিটোলা, ঢাকা   

২ মার্চ, ২০১৬ ০০:০০



পদ্য : জন্মভূমি

রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর

 

১। উদ্দীপকটি পড়ে নিচের প্রশ্নগুলোর উত্তর দাও :

ধনধান্য পুষ্পভরা আমাদের এই বসুন্ধরা

তাহার মাঝে আছে দেশ এক সকল দেশের সেরা

ও সে স্বপ্ন দিয়ে তৈরি সে দেশ স্মৃতি দিয়ে ঘেরা

এমন দেশটি কোথাও খুঁজে পাবে নাকো তুমি,

সকল দেশের রানি সে যে আমার জন্মভূমি।

 

ক. কবির অঙ্গ জুড়ায় কিসে?

উত্তর : জন্মভূমির ছায়ায় এসে কবির অঙ্গ জুড়ায়।

খ. কবির শেষ ইচ্ছা কী? বর্ণনা করো।

উত্তর : জন্মভূমির মাটিতে চিরনিদ্রায় যাওয়ার সুযোগ পাওয়াটাই কবির শেষ ইচ্ছা।

‘জন্মভূমি’ কবিতার কবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর এই দেশে জন্মগ্রহণ করেন, জন্মভূমিকে ভালোবাসতে পেরেই নিজের জীবনের সার্থকতা অনুভব করেন। জন্মভূমির অপরূপ সৌন্দর্যের ঐশ্বর্যে কবি মুগ্ধ। এর সূর্যালোক কবির চোখ পরিপূর্ণভাবে জুড়িয়েছে। তাই কবির একান্ত ইচ্ছা এই সূর্যালোক দেখতে দেখতেই তিনি জন্মভূমির মাটিতে চিরনিদ্রায় শায়িত হবেন।

 

গ. উদ্দীপক ও ‘জন্মভূমি’ কবিতার কোন দিকটির মিল লক্ষ করা যায়? ব্যাখ্যা করো।

উত্তর : উদ্দীপক ও ‘জন্মভূমি’ কবিতার জন্মভূমির প্রতি কবির গভীর মমত্ববোধ ও দেশপ্রেমের দিকটির মিল লক্ষ করা যায়।

উদ্দীপকে বলা হয়েছে ধন-ধান, ফুলে-ফসলে সমৃদ্ধ পৃথিবীতে যত দেশ আছে, তার মধ্যে আমাদের জন্মভূমি সকল দেশের রানি, কারণ তা আমাদের স্বপ্ন দিয়ে তৈরি আর স্মৃতি দিয়ে ঘেরা।

‘জন্মভূমি’ কবিতায়ও একই কথা বলা হয়েছে। এই দেশে জন্মগ্রহণ করে জন্মভূমিকে ভালোবাসতে পেরেই কবি তাঁর জীবনের সার্থকতা অনুভব করেন। কবির জন্মভূমি অজস্র ধন-রত্নের আকর কি না, তাতে তাঁর কিছু আসে-যায় না। কারণ, তিনি এই মাতৃভূমির স্নেহছায়ায় যে সুখ ও শান্তি লাভ করেছেন, তা অতুলনীয়। জন্মভূমির বিচিত্র সৌন্দর্যের অফুরন্ত উৎস হচ্ছে বাগানের ফুল, চাঁদের জ্যোত্স্না সূর্যের আলো। এসব কবি-মনকে আকুল করে।

যেমন স্বদেশের সৌন্দর্য স্মৃতি আর স্বপ্নের মধ্য দিয়ে প্রকাশ পেয়েছে, তেমনি ‘জন্মভূমি’ কবিতায় ও স্বদেশের ছায়ায় শান্তি অনুভবের কথা বলা হয়েছে, ধন-রত্নকে বড় করে দেখা হয়নি। উভয় কবিতায় মূলত শান্তির এই আত্মিক মিলটির কথা বলা হয়েছে।

 

ঘ. উদ্দীপক ও কবিতায় জন্মভূমিকে ‘রানি’ সম্বোধন করার যৌক্তিকতা ব্যাখ্যা করো।

উত্তর : উদ্দীপক ও ‘জন্মভূমি’ কবিতায় জন্মভূমিকে ‘রানি’ সম্বোধন করার কারণ হলো দেশপ্রেম।

উদ্দীপকে বলা হয়েছে ধন-ধান্য, ফুল-ফসলের ঐশ্বর্যে সমৃদ্ধ এই বসুন্ধরায় সকল দেশের রানি আমাদের জন্মভূমি বাংলাদেশ। কারণ বাংলাদেশিরা তাদের স্মৃতি, কল্পনা ও স্বপ্ন দিয়ে এই দেশকে রূপের রানি করেছে।

‘জন্মভূমি’ কবিতায় কবি তাঁর দেশকে ‘রানি’ বলেছেন, রানির মতো রূপ ঐশ্বর্য থাকার কারণে নয়—এই দেশের মাটির সংস্পর্শে এলে কবির হূদয়-মন জুড়িয়ে যায় বলে। কবি এই দেশে জন্মগ্রহণ করে, দেশকে ভালোবাসতে পেরেই তাঁর জন্মকে ধন্য বলে মনে করেন। তাঁর জন্মভূমি অজস্র ধন-রত্নের আকর কি না, অর্থাৎ রানির ধন-রত্নের সম্ভারে মানুষের চোখ যেমন ঝলসে যায়, কবির স্বদেশের প্রাকৃতিক সম্পদ ঐশ্বর্য রানির মতো অতটা আছে কি না, তা নিয়ে তাঁর কোনো মাথা ব্যথা নেই। জন্মভূমির বাগানের ফুল, চাঁদের জ্যোত্স্না, সূর্যের আলো ইত্যাদি যা কিছু প্রাকৃতিক সৌন্দর্য আছে, তাই-ই কবিকে রানির ঐশ্বর্য, রূপের থেকেও তাঁকে বেশি মুগ্ধতা দান করেছে।

উপর্যুক্ত বক্তব্যের পরিপ্রেক্ষিতে বলা যায়, উদ্দীপকের জন্মভূমি কবির কল্পনায় সকল দেশের রূপের রানি হয়েছে আর ‘জন্মভূমি’ কবিতার জন্মভূমিকে কবি ভালোবাসতে পেরেই ধন্য হয়েছেন, রানির মতো রূপ দেখে নয়।

মন্তব্য