kalerkantho

রবিবার। ৪ ডিসেম্বর ২০১৬। ২০ অগ্রহায়ণ ১৪২৩। ৩ রবিউল আউয়াল ১৪৩৮।


পাঠ প্রস্তুতি

দশম শ্রেণি : বাংলাদেশ ও বিশ্বপরিচয়

তাহেরা খানম, সহকারী শিক্ষক, ইসলামিয়া সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়,ঢাকা   

২ মার্চ, ২০১৬ ০০:০০



দশম শ্রেণি : বাংলাদেশ ও বিশ্বপরিচয়

১। দ্রাঘিমারেখা কী?

উত্তর : নিরক্ষরেখাকে ডিগ্রি, মিনিট ও সেকেন্ডে ভাগ করে প্রত্যেক ভাগ বিন্দুর ওপর দিয়ে উত্তর মেরু থেকে দক্ষিণ মেরু পর্যন্ত যে রেখাগুলো কল্পনা করা হয়েছে, তাকে দ্রাঘিমারেখা বলে।

দ্রাঘিমারেখাকে মধ্যরেখাও বলা হয়। দ্রাঘিমারেখাগুলো অর্ধবৃত্ত ১৮০ ডিগ্রি হয়। মধ্যরেখাগুলোর যেকোনো একটিকে নির্দিষ্ট মূল মধ্যরেখা ধরে এ রেখা থেকে অন্যান্য মধ্যরেখার কৌণিক দূরত্ব মাপা হয়। দ্রাঘিমার সাহায্যে স্থানীয় সময় নির্ণয় বা স্থির করা যায়।

 

২। ভূমিকম্প কী?

উত্তর : ভূমিকম্প একটি প্রাকৃতিক দুর্যোগ।

ভূপৃষ্ঠের কিছু অংশ কখনো কখনো হঠাৎ করে কোনো কারণে অত্যন্ত মৃদু থেকে প্রচণ্ড আকারে কেঁপে ওঠে। ভূপৃষ্ঠের এরূপ আকস্মিক ও ক্ষণস্থায়ী কম্পনকে ভূমিকম্প বলে। ভূমিকম্প মাত্র কয়েক সেকেন্ড স্থায়ী হয়। ভূমিকম্পের ফলে পৃথিবীতে বহু পরিবর্তন ও ক্ষতি সাধিত হয়। বড় মাত্রার ভূমিকম্পে ভবন ধসে পড়ে, শহর-বন্দর ধ্বংসপ্রাপ্ত হয় এবং বহু লোকের প্রাণহানি ঘটে।

 

৩। ম্যানগ্রোভ বনভূমি বলতে কী বোঝো?

উত্তর : সমুদ্র উপকূলে জোয়ার-ভাটার লোনা মাটিতে যেসব উদ্ভিদ জন্মায় তাদের ম্যানগ্রোভ বনভূমি বলা হয়।

বাংলাদেশের দক্ষিণ-পশ্চিমাংশে নোয়াখালী ও চট্টগ্রাম জেলার উপকূলে এ ধরনের বনভূমি দেখা যায়। প্রধানত সুন্দরবনে এগুলো বেশি জন্মায়। লোনা পানিতে সুন্দরী, গেওয়া, পশুর, কেওড়া, বাইন, গড়ান প্রভৃতি ম্যানগ্রোভ বৃক্ষ বেশি লক্ষ করা যায়। বাংলাদেশে মোট চার হাজার ১৯২ বর্গকিলোমিটারজুড়ে এ বনভূমি রয়েছে।

৪। সার্বভৌমত্ব বলতে কী বোঝো?

উত্তর : সার্বভৌমত্ব হচ্ছে রাষ্ট্র গঠনের মুখ্য উপাদান।

সার্বভৌমত্ব দ্বারা চরম ও চূড়ান্ত ক্ষমতাকে বোঝায়। সার্বভৌমত্ব প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে রাষ্ট্রের গঠন পূর্ণতা পায়। এই ক্ষমতা রাষ্ট্রকে অন্যান্য সংস্থা থেকে পৃথক করে। সার্বভৌমত্ব রাষ্ট্রের ওই বৈশিষ্ট্য, যার ফলে নিজের ইচ্ছা ছাড়া অন্য কোনো প্রকার ইচ্ছা দ্বারা রাষ্ট্র আইনসংগতভাবে আবদ্ধ নয়। সার্বভৌম ক্ষমতার অভ্যন্তরীণ ও বাহ্যিক দুটি দিক রয়েছে। অভ্যন্তরীণ ক্ষমতা প্রয়োগের মধ্য দিয়ে রাষ্ট্রের মধ্যকার সব ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের ওপর রাষ্ট্রের কর্তৃত্ব প্রতিষ্ঠা পায়। সার্বভৌম ক্ষমতার ঊর্ধ্বে কোনো কর্তৃপক্ষ নেই। বাহ্যিক সার্বভৌমত্বের অর্থ হলো রাষ্ট্র আন্তর্জাতিক ক্ষেত্রে বহিঃশত্রুর নিয়ন্ত্রণ ও হস্তক্ষেপ থেকে মুক্ত থাকবে।

 

৫। স্থানীয় প্রশাসন কী?

উত্তর : স্থানীয় পর্যায়ে বিভাগীয়/জেলা ও উপজেলা শাসনব্যবস্থাকে স্থানীয় প্রশাসন বলা হয়।

প্রশাসনের সুবিধার্থে স্থানীয় প্রশাসনের সৃষ্টি। এ প্রক্রিয়ায় কেন্দ্রীয় শাসন ও নিয়ন্ত্রণকে নিম্নপর্যায় পর্যন্ত নিয়ে যাওয়া হয়। কেন্দ্রীয় সরকারের পক্ষে আইনশৃঙ্খলা রক্ষা, রাজস্ব আদায় ও সরকারি সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নই এর মুখ্য উদ্দেশ্য। এ ব্যবস্থায় স্থানীয় শাসনের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট কর্মচারীরা সরকারের এজেন্ট বা প্রতিনিধি হিসেব গণ্য।

 

৬। রাজনৈতিক দল বলতে কী বোঝো?

উত্তর : যে সংগঠিত নাগরিক সমষ্টি দলীয় আদর্শ প্রচারের মাধ্যমে জনমত গঠনের মধ্য দিয়ে বৈধ উপায়ে ক্ষমতায় আসার চেষ্টা করে, তাদের রাজনৈতিক দল বলে।

অধ্যাপক গেটেল রাজনৈতিক দলের সংজ্ঞা দিতে গিয়ে বলেন, ‘রাজনৈতিক দল বলতে কমবেশি সংগঠিত একদল লোককে বোঝায়, যারা রাজনৈতিক এককরূপে কাজ করে এবং ভোটাধিকার প্রয়োগের মাধ্যমে সরকার গঠন করতে ও কর্মসূচি বাস্তবায়ন করতে চায়। ’ সংগঠন কর্মসূচি প্রদান ও ক্ষমতা অর্জন রাজনৈতিক দলের

বৈশিষ্ট্য।

 

৭। সিডও (CEDAW) ১৯৭৯ কী?

উত্তর : সিডও বা CEDAW-১৯৭৯ হচ্ছে নারীর প্রতি বৈষম্য দূরীকরণবিষয়ক একটি আন্তর্জাতিক সনদ।

সিডও বা CEDAW-১৯৭৯-এর পূর্ণরূপ হচ্ছে Convention on the Elimination of All forms of Discrimination Against Women-1979. ১৯৮১ সালে ২০টি দেশ সমর্থন করার পর এটি কার্যকর হয়। বাংলাদেশসহ মোট ১৩২টি দেশ বর্তমানে এ সনদটি সমর্থন করেছে। এই সনদের বিশেষ বৈশিষ্ট্য হচ্ছে, এটি নারীর অধিকারের একটি পূর্ণাঙ্গ দলিল, যা বিভিন্ন সময়ে নারীর প্রতি বৈষম্য নিরসনে গ্রহণকৃত বিভিন্ন ইস্যুকে সমন্বিত করে।

 

৮। জাতীয় সম্পদ বলতে কী বোঝো?

উত্তর : রাষ্ট্রের সব নাগরিকের ব্যক্তিগত সম্পদ ও সমাজের সমষ্টিগত সম্পদকে একত্রে জাতীয় সম্পদ বলে।

জমি, ঘরবাড়ি, গাড়ি, হাসপাতাল, স্কুল, বনাঞ্চল, খনিজ সম্পদ, কর্মদক্ষতা, উদ্ভাবনী শক্তি, প্রযুক্তিগত জ্ঞান প্রভৃতি জাতীয় সম্পদের অন্তর্ভুক্ত। জাতীয় সম্পদ প্রকৃতি প্রদত্ত ও মানবসৃষ্ট উপাদান নিয়ে গঠিত।

 

৯। মোট দেশজ উত্পাদন বলতে কী বোঝো?

উত্তর : সাধারণত এক বছরে একটি দেশের ভৌগোলিক সীমানার মধ্যে মোট যে পরিমাণ চূড়ান্ত দ্রব্য ও সেবা উত্পাদিত হয়, তার বাজার দামের সমষ্টিকে মোট দেশজ উত্পাদন বলে।

দুই খাতবিশিষ্ট সরল অর্থনীতির ক্ষেত্রে—মনে করি, বাংলাদেশের অভ্যন্তরে বছরে তিনটি দ্রব্য উত্পাদন হয়। যেমন : ১০০ কুইন্টাল ধান, ১০০০ জামা এবং ১০০০ কলম উত্পাদিত হয়। মোট দেশজ উত্পাদন (জিডিপি) = ১০০ কুইন্টাল ধান  – ধানের বাজার দাম + ১০০০ জামা – জামার বাজার দাম + ১০০০ কলম – কলমের বাজার দাম। এভাবে কোনো দেশে উত্পাদিত সব দ্রব্যের পরিমাণকে নিজ নিজ দাম দ্বারা গুণ করে তার সমষ্টি বের করে জিডিপি নির্ণয় করা হয়। মোট দেশজ উত্পাদনকে ইংরেজিতে Gross Domestic Product বা GDP বলা হয়।

 

১০। আবগারি শুল্ক কী?

উত্তর : দেশের অভ্যন্তরে উত্পাদিত ও ব্যবহূত দ্রব্যের ওপর যে কর ধার্য করা হয়, তাকে আবগারি শুল্ক বলা হয়।

রাজস্ব সংগ্রহ ছাড়াও বিভিন্ন ক্ষতিকর দ্রব্যের ভোগ হ্রাস করার উদ্দেশ্যেও আবগারি শুল্ক ধার্য করা হয়। বাংলাদেশে প্রধানত চা, সিগারেট, চিনি, তামাক, কেরোসিন, ওষুধ, স্পিরিট, দিয়াশলাই, মদ, গাঁজা প্রভৃতি দ্রব্যের ওপর আবগারি শুল্ক ধার্য করা হয়।

 

১১। পরিবার বলতে কী বোঝো?

উত্তর : সমাজ স্বীকৃত বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হয়ে স্বামী-স্ত্রীর একত্রে বসবাস করাকে পরিবার বলে।

বৈবাহিক সম্পর্কের ভিত্তিতে এক বা একাধিক পুরুষ ও মহিলা, তাদের সন্তানাদি, মা-বাবা এবং অন্যান্য পরিজন নিয়ে যে সংগঠন গড়ে ওঠে, তাকে পরিবার বলে। ম্যাকাইভারের মতে, ‘সন্তান জন্মদান ও লালনপালনের জন্য সংগঠিত ক্ষুদ্র বর্গকে পরিবার বলে। মূলত পরিবার হলো স্নেহ, মায়া, মমতা, ভালোবাসার বন্ধনে আবদ্ধ হয়ে গঠিত ক্ষুদ্র সামাজিক প্রতিষ্ঠান।

 

১২। শিল্পায়ন বলতে কী বোঝো?

উত্তর : যে প্রক্রিয়ার মাধ্যমে কৃষিভিত্তিক অর্থনীতি ও সমাজব্যবস্থা শিল্পভিত্তিক এবং উত্পাদনমুখী অর্থনীতি ও সমাজে রূপান্তরিত হয়, তাকে শিল্পায়ন বলে।

কর্মসংস্থান বৃদ্ধি, উত্পাদন বৃদ্ধি, মাথাপিছু আয় ও জাতীয় আয় বৃদ্ধির মূলে রয়েছে শিল্পায়ন। শিল্পায়নের ফলে নগরায়ণ ঘটে থাকে এবং বেকারত্ব ঘুচে থাকে। শিল্পায়নের ফলে শিল্পের স্থানীয়করণ প্রক্রিয়ার সূচনা হয়ে শিল্পের বিকাশকে ত্বরান্বিত করে।

 

১৩। এইচআইভি কী?

উত্তর : এইচআইভি হলো অতি ক্ষুদ্র বিশেষ ধরনের এন্টি-ভাইরাস।

এইচআইভির পুরো নাম হিউম্যান ইমিউনো ডেফিসিয়েন্সি ভাইরাস (Human Immuno Deficiency Virus) যা সংক্ষেপে এইচআইভি (HIV)। এই ভাইরাস মানবদেহে প্রবেশ করে দেহের নিজস্ব রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতাকে ধীরে ধীরে ধ্বংস করে দেয়। এ ভাইরাস অনেক দিন পর্যন্ত শরীরে সুপ্ত অবস্থায় থাকে। সাধারণত এর সুপ্তিকাল প্রায় ছয়-সাত মাস পর্যন্ত থাকে।


মন্তব্য