kalerkantho

বেদখলে বনের জমি

উদ্ধারে যথোপযুক্ত ব্যবস্থা নিন

২৬ মার্চ, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ২ মিনিটে



ঢাকার খুব কাছের জেলা গাজীপুরের বনভূমি দখল নিয়ে গতকাল কালের কণ্ঠে প্রকাশিত একটি অনুসন্ধানী প্রতিবেদন সংশ্লিষ্ট মহলের দৃষ্টি আকর্ষণের দাবি রাখে। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, গাজীপুরে ঢাকা বন বিভাগের ৫২ হাজার ৭৩৭ একর জমির ২১.৫৬ শতাংশ জমি এরই মধ্যে গ্রাস করে নিয়েছে প্রভাবশালী গোষ্ঠী। সেখানে গড়ে তোলা হয়েছে তৈরি পোশাক কারখানাসহ নানা শিল্পপ্রতিষ্ঠানের অবৈধ স্থাপনা। সামান্য কিছু জমি বন বিভাগ উদ্ধার করতে পারলেও বাকি জমি উদ্ধার করা তাদের সক্ষমতার বাইরে। বেদখল হয়ে যাওয়া এসব জমি উদ্ধারে বন বিভাগ থেকে প্রশাসনের কাছে চিঠিও দেওয়া হয়েছে। প্রভাবশালী এসব অবৈধ দখলদার চিহ্নিত হলেও জমি উদ্ধারে তেমন কোনো তৎপরতা চোখে পড়ে না; বরং নতুন করে জমি দখলের পাঁয়তারা চলে। ২০১৬ সালেই বন ও পরিবেশ মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সভায় ১৫৫ জন ভূমি দখলদারকে চিহ্নিত করা হয়। এসব প্রভাবশালীর পরিচয়ও কারো কাছে অজানা নয়। কিন্তু ভূমি উদ্ধার হয় না অজানা কারণে।

একটি দেশের পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষায় দেশটির মোট ২৫ শতাংশ বন থাকতে হয়। কিন্তু বাংলাদেশে বন রয়েছে মাত্র ১০.৬৬ শতাংশ এলাকা। অন্যদিকে এসব বনের ৬৫.৮ শতাংশই রয়েছে বিলীন হওয়ার উচ্চ ঝুঁকির মধ্যে। জাতিসংঘের খাদ্য ও কৃষি সংস্থার মতে, বাংলাদেশে গত ২৫ বছরে ৬৫ হাজার একর বনভূমি বিলীন হয়ে গেছে। শুধু গত পাঁচ বছরেই বিলীন হয়েছে ১৩ হাজার একর বন। এই যখন অবস্থা তখন বনভূমি দখল করে একের পর এক শিল্প-কারখানা গড়ে তোলা হলে পরিবেশের ভারসাম্য কি আদৌ থাকবে? এসব বিষয় নিয়ে তাই এখন থেকেই ভাবতে হবে। অবৈধ দখলদারদের হাত থেকে বনের জমি উদ্ধারে সর্বাত্মক অভিযান পরিচালনা করা প্রয়োজন। সরকারের সদিচ্ছার কারণে নদীর জমি উদ্ধার সম্ভব হয়েছে। বনের জমি উদ্ধারও সম্ভব হবে বলে আমরা আশা করি। বনের জমি উদ্ধারে এখনই উপযুক্ত ব্যবস্থা নিতে হবে। বন্ধ করতে হবে জমি ইজারা দেওয়া।

মন্তব্য