kalerkantho

ট্রেনের ভাড়া বৃদ্ধির উদ্যোগ

যৌক্তিক সিদ্ধান্ত নেওয়া হোক

১৮ মার্চ, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



ট্রেনে যাত্রীসেবা ৪০ বছর আগে যা ছিল এখন তার চেয়ে উল্লেখ করার মতো উন্নত হয়েছে, সে কথা বলার উপায় নেই। এ সময়ে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন ‘আন্ত নগর’ সার্ভিস। ট্রেনের সংখ্যাও বেড়েছে, তবে তা যাত্রীসংখ্যা বাড়ার সমানুপাতে বাড়েনি। বাকি সব যা ছিল প্রায় তেমনই আছে। অব্যবস্থাপনা, যাত্রী হয়রানি, ট্রেন ও স্টেশনের অপরিচ্ছন্নতা, পর্যাপ্ত বিশ্রামাগারের অভাব, সময়সূচি ঠিক না থাকা, টিকিট ছাড়া যাত্রী ওঠা, কুলিদের দৌরাত্ম্য, বুফে কারে মাত্রাতিরিক্ত মূল্য রাখা—এসব সমস্যা নিয়তির মতো কপালে সেঁটে আছে। বিশেষ কয়েকটি ট্রেন ছাড়া চলাচলকারী দুই শতাধিক ট্রেনে যাত্রীসেবার মান সন্তোষজনক নয়।

সেবা বাড়ানোর উদ্যোগ নেই। কিন্তু ভাড়া বাড়ানোর উদ্যোগ আছে। প্রতিবছর ভাড়া বাড়ানোর নীতি অনুসরণ করা হচ্ছে ২০১৬ সাল থেকে। গত বছর জাতীয় সংসদ নির্বাচন থাকায় তা বাড়ানো হয়নি। নির্বাচন শেষ হওয়ার পর ভাড়া বাড়ানোর প্রস্তাবের খসড়া তৈরি করা হয়েছে। এবার ২৫ শতাংশ ভাড়া বাড়ানো হচ্ছে। এশীয় উন্নয়ন ব্যাংক (এডিবি)-এর চাপ এবং একটি বিদেশি পরামর্শক সংস্থার সুপারিশে ভাড়া বাড়ানো হচ্ছে। জুন মাসের মধ্যে তা কার্যকর করা হবে।

কালের কণ্ঠ’র প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এ প্রস্তাব কার্যকর হলে ভাড়া ঢাকা-চট্টগ্রাম রুটে আন্ত নগর (শোভন চেয়ার) ৩৪৫ থেকে বেড়ে ৪৬৫ টাকা ও এসি চেয়ারে ৬৫৬ থেকে বেড়ে এক হাজার ৭০ টাকা হবে; ঢাকা-রংপুর, ঢাকা-লালমনিরহাট ও ঢাকা-খুলনা রুটে শোভন চেয়ার ৫০৫ থেকে ৬৩০ টাকা ও এসি চেয়ারে ৯৬৬ থেকে এক হাজার ৪৪৯ টাকা; ঢাকা-রাজশাহী রুটে শোভন চেয়ারে ৩৪০ থেকে ৪৬৫ টাকা ও এসি চেয়ারে ৬৫৬ থেকে এক হাজার ৭০ টাকা; ঢাকা-সিলেট রুটে শোভন চেয়ারে ৩২০ থেকে ৪৩৫ টাকা ও এসি চেয়ারে ৬১০ থেকে এক হাজার এক টাকা; ঢাকা-দিনাজপুর রুটে শোভন চেয়ারে ৪৬৫ থেকে ৬৩০ টাকা ও এসি চেয়ারে ৯৯০ থেকে এক হাজার ৩৮০ টাকা; ঢাকা-পঞ্চগড় রুটে শোভন চেয়ারে ৫৫০ থেকে ৬৭৫ টাকা ও এসি চেয়ারে এক হাজার ৫৩ থেকে বেড়ে এক হাজার ৫৫৩ টাকা হবে।

প্রয়োজনে ট্রেনের ভাড়া বাড়বে বৈকি। তবে সরকারি গণপরিবহনের ভাড়া বৃদ্ধির উদ্দেশ্য কিন্তু মুনাফা বৃদ্ধি নয়; এর মূল উদ্দেশ্য পরিচালন ব্যয় মেটানো। কিন্তু সেবা না বাড়লে ভাড়া বৃদ্ধি যৌক্তিক নয়, তাও ২৫ শতাংশ হারে। ট্রেনের লোকসানের মূল কারণ অব্যবস্থাপনা ও দুর্নীতি। এসব সমস্যা সমাধানের পর যতটুকু বৃদ্ধি আবশ্যক ততটুকুই বাড়ানো উচিত। আশা করি, সরকার ও রেলওয়ে কর্তৃপক্ষ এদিকে নজর দিয়ে সিদ্ধান্ত নেবে।

মন্তব্য