kalerkantho

ক্রাইস্টচার্চে সশস্ত্র হামলা

বিশ্বজুড়ে উগ্রপন্থা রোধে ব্যবস্থা নিন

১৭ মার্চ, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ২ মিনিটে



দ্বীপরাষ্ট্র নিউজিল্যান্ড একটি উন্নত দেশ। আন্তর্জাতিকভাবে প্রচলিত মানবসম্পদ উন্নয়ন সূচকের ওপরের দিকে দেশটির অবস্থান। জীবনযাত্রার মান, প্রত্যাশিত আয়ুষ্কাল, শিক্ষার হার, শান্তি ও অগ্রগতি, অর্থনৈতিক স্বাধীনতা, ব্যবসা-বাণিজ্যের সুযোগ, গণমাধ্যমের স্বাধীনতা, রাজনৈতিক অধিকার রক্ষা ইত্যাদি নানা বিষয় মিলিয়ে অগ্রসরমাণ দেশ নিউজিল্যান্ড। ক্রিকেটের খোঁজখবর নিয়মিত রাখেন যাঁরা, তাঁদের কাছে ক্রাইস্টচার্চ অতি পরিচিত নাম। গতকাল শনিবার থেকে এই ক্রাইস্টচার্চে বাংলাদেশ ও নিউজিল্যান্ডের মধ্যে টেস্ট সিরিজের তৃতীয় ম্যাচ অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা ছিল। কিন্তু শুক্রবার দুই মসজিদে হামলার ঘটনায় অন্তত ৪৯ জন নিহত হয়েছেন। আহতরা হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। যে দেশে বুকভরে নিঃশ্বাস নেওয়া যায়, যেখানে নিরাপত্তা নিয়ে কোনো দিন ভাবতে হয়নি, সেখানেই গত শুক্রবার ঘটে গেল নারকীয় ঘটনা। সে দেশের প্রধানমন্ত্রী জাসিন্ডা আরডার্ন এ ঘটনাকে বর্ণনা করেছেন নিউজিল্যান্ডের ইতিহাসের একটি কালো দিন হিসেবে। প্রথম হামলাটি হয় ক্রাইস্টচার্চের ডিনস এভিনিউয়ের আল নূর মসজিদে। দ্বিতীয় হামলা হয় লিনউড মসজিদে। আল নূর মসজিদে ৪১ জন এবং লিনউডে সাতজন নিহত হয়েছেন। হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা গেছেন আরো একজন। নিহতদের মধ্যে অন্তত দুজন বাংলাদেশের নাগরিক বলে জানিয়েছেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী। তিনি জানিয়েছেন, ঘটনার পর থেকে নিখোঁজ রয়েছেন তিনজন, হাসপাতালে ভর্তি পাঁচজন।

নিউজিল্যান্ড সফরে যাওয়া বাংলাদেশ জাতীয় ক্রিকেট দলের খেলোয়াড়রাও আল নূর মসজিদে নামাজ পড়তে যাচ্ছিলেন। অল্পের জন্য বেঁচে গেছেন তাঁরা। প্রার্থনারত মানুষের ওপর এভাবে গুলিবর্ষণের ঘটনায় বিশ্বজুড়ে নিন্দার ঝড় বয়ে চলেছে। বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা নিউজিল্যান্ডের প্রধানমন্ত্রীকে বার্তা পাঠিয়ে শোক জানিয়েছেন। বাংলাদেশ ক্রিকেট দলকে জরুরি ভিত্তিতে দেশে ফিরিয়ে আনা হয়েছে। হামলাকারী সম্পর্কে বলা হয়েছে, তিনি অস্ট্রেলিয়ার নাগরিক। দুই বছর ধরে হামলার পরিকল্পনা সাজিয়েছেন তিনি। হামলার আগে নিজের টুইটার অ্যাকাউন্টে দীর্ঘ এক বিবৃতিও প্রকাশ করেছেন। হামলার উদ্দেশ্য বর্ণনা করতে গিয়ে হামলাকারী নিজের অভিবাসনবিরোধী ও মুসলিমবিরোধী অবস্থানের কথা তুলে ধরেছেন।

বিশ্বজুড়েই উগ্র ডানপন্থী গোষ্ঠীর বিস্তার ঘটছে। আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় একযোগে এর বিরুদ্ধে না দাঁড়ালে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যাবে। আমরা আশা করব, বিশ্বশান্তি নিশ্চিত করতে উগ্র সন্ত্রাস দমনে সবাই একযোগে কাজ করবে।

 

মন্তব্য