kalerkantho

পাটকলে হতাশা

বাজার ধরতে আধুনিকীকরণ জরুরি

১৬ মার্চ, ২০১৯ ০০:০০



একসময় পাটকে বলা হতো সোনালি আঁশ। ক্রমে পাট তার গৌরব হারাতে শুরু করে। পাটের বিকল্প হিসেবে আসে সিনথেটিক পণ্য। আবার শাসককুলের অপরিণামদর্শী সিদ্ধান্ত্তেও বাংলাদেশের পাট তার গৌরব হারিয়েছে। ২০০৮ সালে আওয়ামী লীগের নেতৃত্বাধীন মহাজোট ক্ষমতায় আসার পর আবার পাট ও পাটশিল্পের হৃেগৗরব ফিরিয়ে আনার উদ্যোগ নেওয়া হয়। বাংলাদেশেই প্রথম পাটের জেনোম আবিষ্কৃত হয়। বেশ কিছু বন্ধ পাটকল আবার চালু করা হয়। পাটের উৎপাদন নতুন করে বৃদ্ধি পায়। পাটজাত মোড়কের বাধ্যতামূলক ব্যবহার আইন ২০১০ প্রণয়নের মাধ্যমে বেশ কিছু পণ্যে পাটের মোড়ক ব্যবহার বাধ্যতামূলক করা হয়। একসময় পাটের বস্তার বার্ষিক চাহিদা ১০ কোটি থেকে বেড়ে ৭০ কোটিতে গিয়ে দাঁড়ায়। ১১৮টি দেশে এখন বহুমুখী পাটপণ্য রপ্তানি শুরু হয়েছে।

কয়েক বছর ধরেই পাট ও পাটজাত পণ্যের আন্তর্জাতিক বাজার বাড়ছে। পাটপণ্যের বাজার আরো বড় হওয়ার সম্ভাবনাও আছে। পাটের আঁশ ব্যবহার করে পচনশীল পলিমার ব্যাগ তৈরির প্রক্রিয়া উদ্ভাবিত হয়েছে বছরখানেক আগে। দেশি এক বিজ্ঞানীর এ আবিষ্কার সাড়া ফেলেছে দেশে ও বিদেশে। এক বছরের মাথায় এসে পরীক্ষামূলকভাবে প্রতিদিন এক লাখ পিস পলিমার ব্যাগ উৎপাদনের কাজ শুরু হচ্ছে। দেশে-বিদেশে এই ব্যাগের ব্যাপক চাহিদা রয়েছে। পণ্যটির ৫০০ বিলিয়ন ডলারের বাজার রয়েছে। এর জন্য বাণিজ্যিকভাবে দ্রুত উৎপাদনে যাওয়া প্রয়োজন। সারা বিশ্ব যখন ক্ষতিকর পলিথিন ব্যাগের ব্যবহার থেকে বেরিয়ে আসতে উন্মুখ তখনই বাংলাদেশে আবিষ্কৃত হয় পাটের আঁশ দিয়ে তৈরি পলিমার ব্যাগ; যার নাম দেওয়া হয়েছে সোনালি ব্যাগ। বিশ্বব্যাপী এই ব্যাগের বাজার তৈরি হয়েই আছে। দ্রুত উৎপাদন শুরু করে এই বাজার ধরতে হবে।

কয়েক বছর ধরেই বাড়ছে পাটের উৎপাদন। বিশ্ববাজারে পাটপণ্যের চাহিদা বাড়ছে। কিন্তু এর সুবিধা কতটুকু নিতে পারছে বাংলাদেশ? কালের কণ্ঠে প্রকাশিত খবরে বলা হচ্ছে, দীর্ঘদিনেও মিলগুলোর যন্ত্রাংশ আধুনিকীকরণ না হওয়ায় পাটজাত পণ্যের উৎপাদন কমে আসছে। সময়মতো উৎপাদিত পণ্য বিক্রি না হওয়ায় বেহাল যন্ত্রপাতি নিয়ে বিপাকে পড়ছে মিলগুলো। দীর্ঘ অর্ধশত বছরের বেশি সময়ে এসব পাটকলে উন্নয়নের ছোঁয়া লাগেনি। যন্ত্রপাতিগুলো আধুনিকীকরণ বা বিএমআরই না হওয়ায় স্পিনিং, সফটনার, ব্রেকার ও ফিনিশার কার্ড এবং ড্রয়িং মেশিন বেহাল। ফলে দিন দিন উৎপাদন কমে আসছে। অথচ এই পাটকলগুলো আধুনিক করে তোলা গেলে সহজেই আন্তর্জাতিক বাজার সম্প্রসারণ করা সম্ভব। আমরা আশা করব, সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ এ বিষয়ে দৃষ্টি দেবে।



মন্তব্য