kalerkantho


সরকারের অতিরিক্ত ঋণ

বেসরকারি বিনিয়োগ যেন ক্ষতিগ্রস্ত না হয়

১৬ মার্চ, ২০১৯ ০০:০০




সরকারের অতিরিক্ত ঋণ

বেসরকারি খাতে বিনিয়োগ বৃদ্ধিতে প্রধান ভূমিকা পালন করে দেশের বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলো। কিন্তু বাংলাদেশে বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলো এই ভূমিকা যথাযথভাবে পালন করতে পারছে না। এর একটি বড় কারণ বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলোতে ঋণের বিপরীতে সুদের উচ্চ হার। সেই সঙ্গে রয়েছে ব্যাংকিং খাত থেকে সরকারের অতিরিক্ত ঋণ নেওয়া। ব্যাংকগুলোও নিরাপদ মনে করে সরকারি প্রকল্পে ঋণ দিতে বেশি স্বাচ্ছন্দ্য বোধ করে। এতে বেসরকারি খাতে ঋণের প্রবাহ উল্লেখযোগ্য হারে কমে যায়। সম্প্রতি সেই প্রবণতাই জোরদার হয়েছে। কালের কণ্ঠে প্রকাশিত প্রতিবেদন থেকে জানা যায়, রাজস্ব আহরণ আশানুরূপ না হওয়ায় সরকার ব্যাংকিং খাত থেকে বেশি করে ঋণ নিতে বাধ্য হচ্ছে। গত ২৮ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত ব্যাংকিং খাত থেকে সরকারের নেওয়া ঋণের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ৮৮ হাজার ৪৮০ কোটি টাকা। অথচ ২০১৮ সালের ২৮ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত ব্যাংকিং খাত থেকে সরকারের নেওয়া ঋণের পরিমাণ ছিল ৬৮ হাজার ৭২৩ কোটি টাকা। অর্থাৎ এক বছরে সরকারি ঋণের পরিমাণ বেড়েছে প্রায় ২০ হাজার কোটি টাকা। ঋণ নেওয়ার হারও ক্রমেই বাড়ছে। এ বছরের জানুয়ারি মাসের প্রথম ১৫ দিনেই নিয়েছে এক হাজার ১৮৩ কোটি টাকা। অর্থনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন, এর নেতিবাচক প্রভাব পড়বে দেশের বিনিয়োগ, বিশেষ করে ক্ষুদ্র ও মাঝারি বিনিয়োগের ওপর।

প্রকাশিত খবর থেকে জানা যায়, চলতি অর্থবছরের প্রথমার্ধের (জুলাই-ডিসেম্বর) মুদ্রানীতিতে বেসরকারি খাতে ঋণের প্রবৃদ্ধি ধরা হয়েছিল ১৬.৮ শতাংশ। কিন্তু অর্জিত হয়েছে মাত্র ১৩.৩ শতাংশ। অন্যদিকে সরকারি খাতে ঋণের প্রবৃদ্ধি ধরা হয়েছিল ৮.৬ শতাংশ, সেখানে ঋণের প্রবৃদ্ধি হয়েছে ১৩.৩ শতাংশ। এটি কোনোভাবেই অর্থনীতির জন্য স্বস্তিদায়ক নয়। এভাবে সরকারি খাতে ঋণ বেড়ে গেলে স্বাভাবিকভাবেই বেসরকারি খাতে ঋণের প্রবাহ কমে যাবে। এর নেতিবাচক প্রভাব পড়বে বিনিয়োগের ওপর। অথচ দেশে বিনিয়োগ না বাড়লে কর্মসংস্থানের হার বাড়বে না। জিডিপির প্রবৃদ্ধিও কমে যাবে। অর্থনীতির স্বাভাবিকতা বিনষ্ট হবে। বিষয়গুলো নিঃসন্দেহে সরকারের নীতিনির্ধারকদের বিবেচনায় আছে। তার পরও সরকার ব্যাংক থেকে বেশি করে ঋণ নিতে বাধ্য হচ্ছে কেন? রাজস্ব আহরণ কেন লক্ষ্যমাত্রা পূরণ করতে পারছে না? বিনিয়োগ ও কর্মসংস্থান সৃষ্টিতে ধস নামলে তার পরিণতি কী হবে? বিষয়গুলো জরুরি ভিত্তিতে বিবেচনা করতে হবে এবং এই প্রবণতা রোধ করার উদ্যোগ নিতে হবে।

এটি ঠিক যে দেশে অনেক মেগা প্রকল্প চলমান রয়েছে। কোনোভাবেই সেগুলোর কাজের অগ্রগতি ব্যাহত করা যাবে না। আবার দেশে বিনিয়োগের ক্ষেত্রে যে ইতিবাচক ধারার সৃষ্টি হয়েছে, আমরা চাই না সেটিও বাধাগ্রস্ত হোক। এই দুই বিপরীত পরিস্থিতির মধ্যে সমন্বয় সৃষ্টি করার উদ্যোগ নিতে হবে। রাজস্ব আহরণ কেন আশানুরূপ হচ্ছে না তার কারণ অনুসন্ধান করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে হবে।

 



মন্তব্য