kalerkantho

ঢাকায় প্রাণঘাতী শব্দদূষণ

আইনের প্রয়োগ নিশ্চিত করুন

১১ মার্চ, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



বিশ্বের শীর্ষ কয়েকটি দূষিত শহরের মধ্যে ঢাকা অন্যতম। আন্তর্জাতিক পরিবেশবাদী সংগঠন গ্রিনপিস ও এয়ার ভিজ্যুয়াল গত সোমবার বিশ্বের তিন হাজার ৯৫টি দূষিত শহরের যে সূচক প্রকাশ করেছে সেখানেও ঢাকা রয়েছে ১৭ নম্বরে এবং রাজধানী শহরগুলোর মধ্যে দ্বিতীয় অবস্থানে। বায়ুদূষণই সবচেয়ে মারাত্মক। সেই সঙ্গে আছে পানিদূষণ ও শব্দদূষণের অভিঘাত। এসব দূষণের কারণে প্রতিবছর বহু মানুষের মৃত্যু হচ্ছে। তবে সেই মৃত্যু তাত্ক্ষণিক নয়, অসুস্থ হয়ে ধীরে ধীরে। ফলে আমরা দূষণের ভয়াবহতা সম্পর্কে সচেতন ও সাবধান হচ্ছি না। প্রতিকারের কোনো ব্যবস্থা নিচ্ছি না। গতকাল কালের কণ্ঠ প্রকাশিত খবরের শিরোনাম হচ্ছে, ‘এবার শব্দদূষণের বিরুদ্ধে মাঠে নামছে সরকার’। এই খবরে আমরা কতটুকু আশ্বস্ত হতে পারছি?

শব্দদূষণকে অনেকে কোনো দূষণ বলেই মনে করে না। রাজধানীতে শব্দদূষণের প্রধান কারণ যানবাহনের উচ্চমাত্রার হর্ন এবং তা অকারণে বাজানো। হাসপাতাল, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের মতো কিছু জায়গা আছে যেগুলোর আশপাশে হর্ন বাজানো নিষেধ। এ রকম সাইনবোর্ডও লাগানো থাকে। প্রায় কেউই মানে না সেই নিষেধ। সরকারের পরিবেশ অধিদপ্তরের পক্ষ থেকেও এগুলোকে ‘নীরব এলাকা’ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। শব্দের তীব্রতা মাপার একক ডেসিবল দিয়ে নির্ধারণ করে দেওয়া হয়েছে। নীরব এলাকায় দিনে সর্বোচ্চ ৫০ ডেসিবল এবং রাতে সর্বোচ্চ ৪০ ডেসিবল। কিন্তু কে শোনে কার কথা! হলি ফ্যামিলি হাসপাতালের আশপাশে শব্দের মাত্রা থাকে ১০০ থেকে ১৩০ ডেসিবল পর্যন্ত। মতিঝিল গভর্নমেন্ট বয়েজ ও গার্লস স্কুল বা অন্য অনেক স্কুলের সামনের অবস্থাও তাই। আবাসিক এলাকায় দিনে সর্বোচ্চ ৫৫ এবং রাতে ৪৫ থাকার কথা। কিন্তু বাস্তবে শব্দের মাত্রা এর দ্বিগুণেরও বেশি। কিন্তু কেউ কি তা নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা করছে? যানবাহন ছাড়াও আরো অনেকভাবে উচ্চ শব্দ হয়। এর মধ্যে একটি হচ্ছে বাড়িঘর নির্মাণ। অনেক আবাসিক এলাকায় দিনে তো বটেই, সারা রাত ধরেও চলে নির্মাণকাজ। আশপাশের বাড়িঘরে লোকজনের থাকাই দায় হয়ে যায়। আছে উচ্চ শব্দে মাইক বাজানো, গান-বাজনা চলা ইত্যাদি।

প্রকাশিত খবর থেকে জানা যায়, পরিবেশ অধিদপ্তর শব্দদূষণ নিয়ন্ত্রণে ৩৫ কোটি টাকার একটি প্রকল্প নিয়েছে। এই প্রকল্পের একটি উল্লেখযোগ্য দিক হচ্ছে মানুষকে সচেতন করা এবং এ ব্যাপারে দেশব্যাপী উদ্যোগ নেওয়া। শব্দদূষণের ক্ষতিকর দিকগুলো সম্পর্কে সচেতন হলে মানুষ হয়তো উচ্চ শব্দ সৃষ্টি করা থেকে বিরত থাকবে। কিন্তু এর বিপরীত দিকও আছে। ঢাকায় গত বছরেরই ঘটনা। পাশের ফ্লাটে বিয়ে উপলক্ষে উচ্চ শব্দে গান-বাজনা চলছিল। একজন সচেতন বাসিন্দা সেটি বন্ধ করতে বলায় তাঁকে প্রাণই দিতে হয়েছে। তাই সচেতনতা সৃষ্টির পাশাপাশি আইনের কঠোর প্রয়োগও নিশ্চিত করতে হবে।

 

মন্তব্য