kalerkantho

বাড়িভাড়ায় স্বেচ্ছাচারিতা

দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া হোক

১০ মার্চ, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



রাজধানী ঢাকার জনসংখ্যা দেড় কোটি ছাড়িয়েছে। এর ৮০ শতাংশেরই নিজস্ব আবাসনের ব্যবস্থা নেই। থাকতে হয় ভাড়া বাড়িতে। আর সেখানেই বিপত্তি। চাকরিজীবীদের অনেককেই বেতনের অর্ধেকের বেশি দিয়ে দিতে হয় ভাড়া হিসেবে। তার ওপর বছর না ঘুরতেই বাড়িয়ে দেওয়া হয় ভাড়া। বেড়ে যায় সার্ভিস চার্জের অঙ্ক। অনেক বাড়িতে ভাড়াটিয়াদের জন্য বিদ্যুতের আলাদা মিটার থাকে না। তাদের কাছ থেকে অতিরিক্ত অর্থ আদায় করার অভিযোগও রয়েছে। বাড়িতে মেহমান এলেও অনেক বাড়িওয়ালা আপত্তি জানায়। পানির জন্য অতিরিক্ত অর্থ দাবি করে। দিনে একবারের বেশি পানি অনেক বাড়িতেই দেওয়া হয় না। ভাড়াটিয়ারা সব কিছু সহ্য করে থাকতে বাধ্য হয়। কারণ প্রতিবাদ করলেই তাদের বাড়ি ছেড়ে দিতে বলা হয়। বাড়িওয়ালাদের এমন নৈরাজ্য ঠেকাতে সরকার, সিটি করপোরেশন বা অন্য কোনো সংস্থার কোনো উদ্যোগ নেই বললেই চলে।

বাড়িভাড়া নিয়ন্ত্রণ আইন ১৯৯১ কার্যকর থাকলেও আইনটির কিছু ত্রুটি থাকায় তা যথেষ্ট কার্যকর হচ্ছে না। সিটি করপোরেশন নিজেদের দায় এড়ানোর জন্য এলাকাভিত্তিক ভাড়ার একটি তালিকা করে দিয়েই খালাস। কোনো বাড়িওয়ালাই তা মানে না। মানানোর জন্য সিটি করপোরেশনের কোনো উদ্যোগও নেই। এমনকি সিটি করপোরেশনে ভাড়াটিয়াদের অভিযোগ পেশ করারও কোনো ব্যবস্থা রাখা হয়নি। থানায়ও প্রতিকার চাওয়ার ব্যবস্থা নেই। আদালতে যাওয়া যায়, কিন্তু অনেকেই ঝামেলার কথা বিবেচনা করে চুপ থাকেন। আবার বাড়িওয়ালার রোষানলে পড়ার কিংবা নিগৃহীত হওয়ার ভয়ে অনেক ভাড়াটিয়া প্রতিবাদ করেন না। খুব বেশি অসহ্য হয়ে উঠলে বেশির ভাগ ভাড়াটিয়া নীরবে বাড়ি ছেড়ে দেন। আবার অনেক ভাড়াটিয়া জানেনও না কোথায় কিভাবে প্রতিকার চাওয়া যায়। অযৌক্তিকভাবে ভাড়া বাড়ানো হলে আদালতে ভাড়া নিয়ন্ত্রক বরাবরে দরখাস্ত দেওয়া যায়। আদালতের আদেশ নিয়ে আদালতেই ভাড়া জমা দেওয়া যায়। জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরেও অভিযোগ নেওয়া হয় এবং সেখানে বর্তমানে অনেকেই যাচ্ছেন অভিযোগ নিয়ে। দ্রুত সমাধানও করা হচ্ছে।

কনজ্যুমারস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (ক্যাব) কয়েক বছর আগের এক হিসাব অনুযায়ী ২৬ বছরে ঢাকায় বাড়িভাড়া বেড়েছে ৩৮৮ শতাংশ। সে অনুযায়ী চাকরিজীবীদের, বিশেষ করে বেসরকারি চাকরিজীবীদের বেতন কতটা বেড়েছে? বেসরকারি চাকরিজীবীদের ‘উপরি আয়ের’ সুযোগও তো নেই। তারা চলবে কিভাবে? নিম্ন-আয়ের মানুষের দুর্ভোগ আরো বেশি। বস্তির একটি খুপরিঘরের ভাড়াও কয়েক হাজার টাকা। এরা কি এ দেশের নাগরিক নয়? তাদের দুর্ভোগ দেখা কি রাষ্ট্রের দায়িত্ব নয়? আমরা চাই, বাড়িভাড়া নিয়ন্ত্রণ আইন ও ভোক্তা অধিকার আইন দ্রুত সংশোধন করা হোক এবং তা কঠোরভাবে প্রয়োগ করা হোক। সিটি করপোরেশন প্রতিটি ওয়ার্ডে বাড়িভাড়া নিয়ন্ত্রণে প্রয়োজনীয় উদ্যোগ নিক।

 

মন্তব্য