kalerkantho


হাসপাতালে অগ্নিকাণ্ড

তদন্ত সাপেক্ষে দ্রুত ব্যবস্থা নিন

১৬ ফেব্রুয়ারি, ২০১৯ ০০:০০



রাজধানীর সোহরাওয়ার্দী হাসপাতালে গত বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় আগুন লাগার ঘটনাটি ছোট করে দেখার কোনো সুযোগ নেই। আগুন লাগার পর হাসপাতালে ভর্তি এক হাজার ২০০ রোগীকে রাজধানীর বিভিন্ন হাসপাতালে সরিয়ে নেওয়া হয়। হাসপাতালের চিকিৎসক-কর্মকর্তা-কর্মচারী, সোহরাওয়ার্দী মেডিক্যাল কলেজের শিক্ষার্থী, শেরেবাংলা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী থেকে শুরু করে সর্বস্তরের মানুষ রোগীদের উদ্ধার করে বিভিন্ন হাসপাতালে নিয়ে যায়। মানুষ যে মানুষের প্রয়োজনে সব সময় ছুটে আসে, মানুষের বিপদে মানুষ যে ত্রাতা হিসেবে আবির্ভূত হয়, তা আরেকবার প্রমাণিত হয়েছে গত বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায়। এমনকি বেসরকারি অ্যাম্বুল্যান্স সার্ভিসও রোগী স্থানান্তরের জন্য কোনো ভাড়া দাবি করেনি। স্বেচ্ছাশ্রমে এলাকার মানুষ সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দিয়েছে। হাসপাতালের আইসিইউতে থাকা ১০ রোগীকেও সরিয়ে নেওয়া সম্ভব হয়েছে। অন্য হাসপাতালে স্থানান্তরের সময় এক শিশুর মৃত্যু হয়েছে, যা দুঃখজনক।

রাজধানী শুধু নয়, বাংলাদেশে বোধ হয় এ ধরনের ঘটনা প্রথম। স্বাস্থ্যমন্ত্রী জাহিদ মালেক স্বপন ঘটনাটিকে ওয়েক আপ কল উল্লেখ করে বলেছেন, অনেক হাসপাতাল পুরনো হয়ে গেছে। ফায়ার ফাইটিং সিস্টেমের আধুনিকায়ন প্রয়োজন। বাংলাদেশের সব হাসপাতালে বৈদ্যুতিক যে তার বা যন্ত্রপাতি আছে, সেগুলো চেক করা দরকার। সোহরাওয়ার্দী মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনাটি আসলেই আমাদের দেশের জন্য একটি ওয়েক আপ কল। স্বাস্থ্যসেবাসংক্রান্ত যেসব খবর গণমাধ্যমে এসেছে, তার একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশজুড়ে থেকেছে দেশের বিভিন্ন হাসপাতালের অবকাঠামো। অনেক হাসপাতালেই দীর্ঘদিন ধরে কোনো সংস্কার হয়নি। আবার যেসব হাসপাতালে সংস্কার হয়েছে, তা মানসম্পন্ন নয়। রাজধানীর বড় বড় সরকারি হাসপাতালে গেলে দেখা যায় রোগীদের কী দুর্ভোগ পোহাতে হয়। নোংরা পয়োনিষ্কাশন ব্যবস্থা, ব্যবহারের অনুপযোগী শৌচাগার, রোগীদের নোংরা বিছানা—সব মিলিয়ে অব্যবস্থাপনার চূড়ান্ত। সোহরাওয়ার্দী হাসপাতালের চিকিৎসাসেবার মান নিয়ে কোনো প্রশ্ন নেই। চিকিৎসকরা আন্তরিক। কিন্তু বৃহস্পতিবার সন্ধ্যার অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা চোখে আঙুল দিয়ে দেখিয়ে দিল হাসপাতালটি নিরাপদ ছিল না। একটি অবকাঠামো তৈরি করে কয়েকজন চিকিৎসকের পদায়ন করলেই যে সেবা শতভাগ নিশ্চিত করা যায় না, সোহরাওয়ার্দী হাসপাতালে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনাটি তা প্রমাণ করে দিল। হাসপাতালকে শতভাগ নিরাপদ হতে হবে। সোহরাওয়ার্দী হাসপাতালে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় দুটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। যে সতর্কবার্তা এই অগ্নিকাণ্ডের মধ্য দিয়ে পাওয়া গেছে, তা অবশ্যই মনে রাখতে হবে। যেখানে রোগীদের জীবন-মৃত্যু নির্ভর করছে, সেই হাসপাতালের রক্ষণাবেক্ষণ নিশ্চিত করার বিকল্প নেই। আমরা আশা করব, সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ দেশের সব হাসপাতালের সব ধরনের নিরাপত্তাব্যবস্থা পরীক্ষা করে দেখবে। তদন্ত কমিটির প্রতিবেদন দেখে যথাযথ ব্যবস্থাও নেবে।



মন্তব্য