kalerkantho


আদালতের তিন নির্দেশনা

সময়োপযোগী সঠিক পদক্ষেপ

১৪ ফেব্রুয়ারি, ২০১৯ ০০:০০



সরকারি ডাক্তারদের রোগী দেখা, অস্ত্র ও মাদকের মামলায় তদন্ত এবং আদালতে বিচারাধীন কোনো মামলার শিশু আসামির ছবিসহ তার পরিচিতি গণমাধ্যমে প্রকাশ ও প্রচার করা—এই তিন বিষয়ে হাইকোর্টের আলাদা তিনটি বেঞ্চ থেকে এসেছে সময়োপযোগী তিন নির্দেশনা।

কালের কণ্ঠে প্রকাশিত একটি প্রতিবেদনের সূত্রে আদালতে করা রিট আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে সরকারি ডাক্তারদের রোগী দেখা নিয়ে একটি নীতিমালা করার নির্দেশ দিয়ে বিশেষজ্ঞদের নিয়ে কমিশন গঠন করতেও বলা হয়েছে আদালত থেকে। নির্দেশনায় আদালত বলেছেন, বেসরকারি হাসপাতাল ও ক্লিনিকে প্রাইভেট প্র্যাকটিস করার নামে সাধারণ মানুষের জীবন নিয়ে যাতে কেউ ব্যবসা করতে না পারে, সে জন্যই একটি পূর্ণাঙ্গ গাইডলাইন থাকা উচিত। এই গাইডলাইন করতে স্বাস্থ্যসচিব, স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক, বিএমডিসি সভাপতি এবং বিএমএ সভাপতির প্রতি নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

হাইকোর্টের ভিন্ন আরেকটি বেঞ্চ অস্ত্র ও মাদকের মামলায় এক মাসের মধ্যে তদন্ত সম্পন্ন করে আদালতে অভিযোগপত্র দাখিলের নির্দেশ দিয়েছেন। এক মাসের মধ্যে তদন্ত সম্পন্ন করতে ব্যর্থ হলে কী কারণে এই ব্যর্থতা তা সংশ্লিষ্ট বিচারিক আদালতের কাছে ব্যাখ্যা করতে মামলার তদন্ত কর্মকর্তার প্রতি নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে তদন্ত কর্মকর্তা যাতে যথাসময়ে তদন্ত সম্পন্ন করতে পারেন তা তদারকির জন্য একটি মনিটরিং কমিটি গঠনের জন্য পুলিশ মহাপরিদর্শক ও সব এসপির প্রতি নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। হাইকোর্টের আরেকটি নির্দেশনায় বলা হয়েছে, আদালতে বিচারাধীন কোনো মামলার শিশু আসামির ছবিসহ তার পরিচিতি গণমাধ্যমে প্রকাশ ও প্রচার করা যাবে না। একই সঙ্গে বিচারের আগে, বিচার চলাকালে এবং বিচারের পর সংশ্লিষ্ট শিশু সম্পর্কে তথ্য প্রকাশ করা যাবে না।

আদালতের এই নির্দেশনাগুলো অত্যন্ত সঠিক। সরকারি চাকরি করলেও দেখা যায় চিকিৎসকদের অনেকেই প্রাইভেট প্র্যাকটিসে বেশি আগ্রহী। ফলে হাসপাতালের রোগীরা অবহেলিত থাকে। আবার সেবামূলক এই পেশায় মানুষের জীবন নিয়ে অমানবিক বাণিজ্যের অভিযোগও আছে। অস্ত্র মামলার তদন্ত প্রসঙ্গে আদালত রায়ের পর্যবেক্ষণ সর্বাংশে সঠিক ও প্রাসঙ্গিক। সেখানে বলা হয়েছে, অনেক সময় দেখা যায় মাসের পর মাস, বছরের পর বছর চলে যায় কিন্তু তদন্ত কর্মকর্তা মামলায় অভিযোগপত্র দাখিল করেন না। কোনো কোনো ক্ষেত্রে মাদকসহ আটকের মামলায় অভিযোগপত্র দিতেও দেরি করেন তদন্ত কর্মকর্তা। তদন্তে বিলম্বের কারণে বিচার বিলম্বিত হয়। এ কারণেই অস্ত্র ও মাদকের মামলায় দ্রুত তদন্ত সম্পন্ন হওয়া প্রয়োজন। দ্রুত তদন্ত হলে তাড়াতাড়ি বিচার সম্পন্ন হয়। আমরা আশা করব, উচ্চ আদালতের এই তিন নির্দেশনা প্রতিপালিত হবে।

 



মন্তব্য