kalerkantho


বিঘ্নিত হচ্ছে সামাজিক নিরাপত্তা

সরকারকে প্রতিশ্রুতি রক্ষায় দৃঢ় থাকতে হবে

১২ ফেব্রুয়ারি, ২০১৯ ০০:০০



আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতির ধারা অব্যাহত রয়েছে। নিরাপত্তাবোধ অলীক বিষয় যেন। সড়কে পিষ্ট হচ্ছে, খুন হচ্ছে মানুষ; নিজের ঘরে-বাড়িতেও খুন হচ্ছে। ডাকাতি, ছিনতাই, রাহাজানি, ধর্ষণ প্রভৃতি নিত্য খবরের বিষয়। এ অবনতিশীল পরিস্থিতির জন্য আইন-শৃঙ্খলা রক্ষার কাজে নিয়োজিতদের অবশ্যই দায়ী করা চলে, অনেক ক্ষেত্রে তাদের সরাসরি সংশ্লিষ্টতাও রয়েছে। তবে সবচেয়ে বড় যে কারণ, তা এড়িয়ে গেলে সমাধান কোনো দিনই মিলবে না। সেটি হচ্ছে সামাজিক অবক্ষয়, মূল্যবোধের অবক্ষয়। নানা কারণে দীর্ঘদিন ধরে এ অবক্ষয় ঘটেছে। এ অবক্ষয়ের সবচেয়ে বড় কারণ ব্যক্তিস্বার্থে রাজনৈতিক কর্তৃত্বের অপব্যবহার এবং অসাধু অর্থনৈতিক প্রতিযোগিতা। এ দুটি বিষয়ে মনোযোগ দিলে আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতির ধারা ঠেকানো সম্ভব।

নিজের ঘরে খুন হওয়ার ঘটনা নতুন নয়, অনেকবার ঘটেছে। গত রবিবার রাতে রাজধানীর এলিফ্যান্ট রোডের একটি ফ্ল্যাট থেকে ইডেন কলেজের সাবেক অধ্যক্ষের লাশ উদ্ধার করা হয়েছে। পুলিশ ও স্বজনদের ভাষ্য, তাঁকে শ্বাস রোধ করে হত্যা করা হয়েছে। তাঁর লাশ ঘরে তালাবদ্ধ করে রাখা হয়। ঘটনার পর দুই গৃহকর্মী নিখোঁজ। বাসা থেকে স্বর্ণালংকার ও টাকা খোয়া গেছে। ফলে এ হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে তারা জড়িত বলে সন্দেহ করা হচ্ছে। অন্যদিকে রাজধানীর যাত্রাবাড়ীর কুতুবখালী এলাকার একটি বাসায় এক নারীকে কুপিয়ে ও হাতুড়ি দিয়ে আঘাত করে হত্যা করা হয়েছে। রবিবার সন্ধ্যায় তাঁর লাশ উদ্ধার করে পুলিশ।

কালের কণ্ঠ’র আরেক খবরে বলা হয়েছে, মানিকগঞ্জের সাটুরিয়ায় পাওনা টাকা চাওয়ার জেরে এক তরুণীকে দুই দিন আটকে রেখে দুই পুলিশ ধর্ষণ করেছে। সাটুরিয়া থানার দুই উপপরিদর্শক (এসআই) এ কাজ করেছেন। ধর্ষণের সময় অস্ত্র ঠেকিয়ে তরুণীকে ইয়াবা ট্যাবলেট সেবনেও বাধ্য করা হয়। গত রবিবার সকালে তরুণী মানিকগঞ্জ পুলিশ সুপারের কাছে লিখিত অভিযোগ করেন। অভিযুক্ত দুই কর্মকর্তাকে প্রত্যাহার করে পুলিশ লাইনে সংযুক্ত করা হয়েছে।

ধর্ষণের আরেকটি অভিযোগে সাতক্ষীরার শ্যামনগর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার গাড়িচালককে আটক করা হয়েছে। অপরদিকে ময়মনসিংহের ফুলবাড়িয়া উপজেলার সদর ইউনিয়নে এক যুবককে বাড়ি থেকে নিজের গরুর খামারে ডেকে নিয়ে পিটিয়ে হত্যা করার অভিযোগ উঠেছে পুলিশের এক এসআইয়ের বিরুদ্ধে।

আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি কী অবস্থায় রয়েছে, তা এসব ঘটনায় স্পষ্ট। যাদের হাতে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষা ও সামাজিক নিরাপত্তা বিধানের গুরুভার রয়েছে, তারাই চরম অবক্ষয়ের শিকার। তাহলে কী করে অবনতির ধারা বন্ধ হবে? আমরা আশা করি, সরকার তার প্রতিশ্রুতি রক্ষার্থে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের দ্রুত বিচারের মুখোমুখি করবে এবং অবক্ষয় রোধের সামাজিক ও রাজনৈতিক প্রক্রিয়ার সূচনা করবে।

 



মন্তব্য