kalerkantho


পুলিশ কি এতই অমানবিক!

অভিযোগ তদন্ত করে ব্যবস্থা নিন

৭ ফেব্রুয়ারি, ২০১৯ ০০:০০



‘পুলিশ জনগণের বন্ধু’—এমন কথা শুনে আসা মানুষের কাছে ঘটনাটি অবিশ্বাস্য মনে হতে পারে। কালের কণ্ঠে প্রকাশিত ‘নববধূকে থানাহাজতে আটকে তালাকে স্বাক্ষর করাল পুলিশ’ শীর্ষক খবর বলছে, বন্ধু নয় শত্রুর মতোই আচরণ করেছে গাজীপুরের গাছা থানার পুলিশ। স্বামীর আত্মীয়স্বজনের হুমকির বিচার চাইতে গিয়ে এখন নিজেই হুমকির মুখে পড়েছেন রুমানা নামের এক তরুণী। প্রকাশিত খবরে বলা হচ্ছে, গার্মেন্টকর্মী রুমানার সঙ্গে স্থানীয় ফ্লেক্সিলোডের দোকান মালিক সজলের প্রেমের সম্পর্ক গড়ে ওঠে। সজল রুমানাকে বাধ্য করে তাঁর আগের স্বামীকে তালাক দিতে। গত ৩১ জানুয়ারি বিয়েও করেন তাঁরা। এখানেই দেখা দেয় বিপত্তি। সজলের পরিবার এ বিয়ে মেনে নিতে পারেনি। নিজের বাড়িতে স্ত্রীকে তুলতে পারেননি সজল। ফলে নবপরিণীতা স্ত্রীর ভাড়া বাসায়ই রুমানাকে রাখেন তিনি। কিন্তু সজলের আত্মীয়স্বজন সেখানে গিয়ে তাঁকে হুমকি দিলে রুমানা থানায় যান অভিযোগ করতে। প্রথমে থানায় সজলকে আটকে রাখলেও স্থানীয় প্রভাবশালীদের কারণে পুরো পরিস্থিতি পাল্টে যায়। রুমানাকে থানায় ডেকে নিয়ে ভয়ভীতি দেখানো হয়, তালাক দেওয়ার জন্য চাপও দেওয়া হয়। স্থানীয় কাজিকে ডেকে বিয়ের পাঁচ দিনের মাথায় জোরপূর্বক স্বাক্ষর নেওয়া হয় বলে জানিয়েছেন রুমানা। এরই মধ্যে পুলিশ রুমানার ভাড়া বাড়ির মালিককে বলেছে তাঁকে বাড়ি থেকে বের করে দিতে। তাঁর আশ্রয় হয়েছে রাস্তা। শুধু তা-ই নয়, মীমাংসার কথা বলে সজলের পরিবারের কাছ থেকে দুই লাখ ৭০ হাজার টাকা নেওয়া হলেও রুমানাকে মাত্র ৬০ হাজার টাকা দিয়ে এলাকা ছেড়ে চলে যেতে বলা হয়েছে বলেও অভিযোগ পাওয়া গেছে। পুলিশ সেবা সপ্তাহে ‘জনগণের বন্ধু পুলিশ’ কী করে এত অমানবিক হয়?

পুলিশের কিছু সদস্যের বিরুদ্ধে অপরাধে জড়ানোর অভিযোগ এটিই প্রথম নয়, এর আগেও অনেক অভিযোগ উঠেছে। যেকোনো দেশের আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পুলিশ বাহিনীর ভূমিকাই প্রধান। কিন্তু বাংলাদেশের মানুষের দুর্ভাগ্য, এখানে পুলিশের সততা ও নিষ্ঠা নিয়ে প্রশ্ন ওঠে। মিথ্যা মামলায় ফাঁসিয়ে দেওয়া থেকে শুরু করে অনেক অপকর্মেই পুলিশের কিছু সদস্যের সম্পৃক্ততা পাওয়া যায়। দেশে নৈতিকতার অবক্ষয় যতই ঘটুক না কেন, হাতে গোনা কিছু সদস্যের কারণে পুলিশের মতো একটি সুশৃঙ্খল বাহিনীকে কেন তা কলঙ্কিত করবে? যেখানে আইনের শাসন প্রতিষ্ঠায় মূল ভূমিকা পালন করবে পুলিশ, সেখানে পুলিশ যদি এ ধরনের কাজে জড়িয়ে পড়ে, তাহলে ভাবমূর্তি কোথায় যায়। আমরা আশা করব, এ ঘটনার তদন্ত হবে। অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থাও নেওয়া হবে। তবে তদন্ত করতে গিয়ে আবার রুমানার ‘স্বেচ্ছায় তালাক দেওয়ার’ ফর্মুলা আবিষ্কারের চেষ্টা যেন না হয়।



মন্তব্য