kalerkantho


বুড়িগঙ্গা তীরে উচ্ছেদ অভিযান

দখল রোধে স্থায়ী ব্যবস্থা নিন

৬ ফেব্রুয়ারি, ২০১৯ ০০:০০



বুড়িগঙ্গা তীরে উচ্ছেদ অভিযান

ঢাকার পার্শ্ববর্তী নদীগুলোর তীর থেকে প্রায়ই অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ করা হয়, অনেকটা চোর-পুলিশ খেলার মতো। ঢাকঢোল পিটিয়ে বেশ ঘটা করে চলে অভিযান। দুই দশকে এমন অভিযান অনেক হয়েছে। অভিযান শেষ হতেই দখলকারীরা আবার ঘরদুয়ার বানিয়ে নেয়। গত ২৯ জানুয়ারি বুড়িগঙ্গার তীরে আবারও শুরু হয়েছে উচ্ছেদ অভিযান। সপ্তাহে তিন দিন করে আগামী ১৭ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত চলবে এ অভিযান। জানা যায়, বুড়িগঙ্গার দুই তীরে ৯০৬টি অবৈধ স্থাপনা চিহ্নিত করা হয়েছে। গতকাল পর্যন্ত পাঁচতলা, সাততলা ভবনসহ অর্ধেকেরও বেশি স্থাপনা উচ্ছেদ করা হয়েছে। বলা হয়েছে, উচ্ছেদ অভিযান শেষে নদীর তীর বরাবর ওয়াকওয়ে নির্মাণসহ স্থায়ী প্রতিরোধ ব্যবস্থা নেওয়া হবে। ঢাকাবাসীও প্রত্যাশা করে, এবারের অভিযানও যেন আগের মতো লোক-দেখানো না হয়।

শুধু বুড়িগঙ্গা নয়, ঢাকার পার্শ্ববর্তী অন্য নদীগুলোর অবস্থাও শোচনীয়। দখল, ভরাট ও দূষণে নদীগুলোর মরো মরো অবস্থা। অভিযোগ রয়েছে, বড় অনেক শিল্পপ্রতিষ্ঠান ড্রেজার দিয়ে নদী ভরাট করে রাতারাতি দখল করে কারখানা বানিয়েছে। অনেক সরকারি প্রতিষ্ঠানও এ কাজে পিছিয়ে থাকেনি। চলতি অভিযানে বুড়িগঙ্গার তীর থেকে বিটিসিএলের একটি ভবনও ভাঙা হয়েছে। শুধু ভাঙলেই হবে না, দখল ও ভরাটের অভিযোগে দখলকারীদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থাও নিতে হবে। আর নদী রক্ষায় নিয়োজিত সংস্থাগুলোর চোখ ফাঁকি দিয়ে দখলকারীরা কিভাবে নদীর জায়গা দখল করে স্থাপনা বানায়, সেটিও দেখতে হবে। কারো দায়িত্বে গাফিলতি থাকলে তার বিরুদ্ধেও ব্যবস্থা নিতে হবে। জানা যায়, ২০১৫ সালের মে মাসে হাইকোর্ট এক নির্দেশে রাজধানীর পার্শ্ববর্তী বুড়িগঙ্গা, তুরাগ, বালু ও শীতলক্ষ্যা নদীর তীর দখল, মাটি ভরাট, স্থায়ী ও অস্থায়ী সব ধরনের নির্মাণকাজ বন্ধ এবং অবৈধ দখল উচ্ছেদে কার্যকর পদক্ষেপ নিতে সরকারকে নির্দেশ প্রদান করেন। কিন্তু সে নির্দেশ যে যথাযথভাবে পালিত হয়নি তা দখলের বর্তমান পরিসর দেখেই অনুমান করা যায়। এর আগে ২০১৬ সালের এপ্রিল মাসেও বুড়িগঙ্গা তীরের স্থাপনা উচ্ছেদ করা হয়েছিল। তারপর এত স্থাপনা হলো কী করে? হাইকোর্টের আরেক নির্দেশনায় বলা হয়েছিল, ১৯৪০ সালের ক্যাডেস্ট্রাল সার্ভে বা সিএস রেকর্ড অনুযায়ী ঢাকার চারপাশ ঘিরে থাকা নদীগুলোর সীমানা নির্ধারণ এবং নদীতে শিল্প ও পয়োবর্জ্য ফেলা বন্ধ করা এবং খননের মাধ্যমে নদীগুলোর নাব্য আগের অবস্থায় ফিরিয়ে আনতে হবে। অভিযোগ আছে, সেই কাজটিও যথাযথভাবে করা হয়নি। অনেক জায়গায় যেনতেনভাবে স্থাপিত সীমানা পিলারের কোনো অস্তিত্বই এখন খুঁজে পাওয়া যায় না। নদী দখল রোধে সরকারের বিপুল অর্থ খরচ করে উচ্ছেদ অভিযানের নামে এই চোর-পুলিশ খেলা অবশ্যই বন্ধ করতে হবে।

শুধু ঢাকা নয়, প্রতিটি বড় শহরের পাশেই নদী দখলের মহোৎসব চলছে। চট্টগ্রামে কর্ণফুলীর পাশে থাকা অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদের কাজও শুরু হয়েছে। উচ্ছেদের পাশাপাশি দখল রোধে স্থায়ী ব্যবস্থা নিতে হবে।



মন্তব্য