kalerkantho


মাধ্যমিকের পরীক্ষা শুরু আজ

প্রশ্ন ফাঁস রোধে সর্বাত্মক ব্যবস্থা নিন

২ ফেব্রুয়ারি, ২০১৯ ০০:০০



মাধ্যমিকের পরীক্ষা শুরু আজ

আজ শনিবার থেকে শুরু হচ্ছে এসএসসি ও সমমানের পরীক্ষা। নিয়মিত ও অনিয়মিত মিলিয়ে এবার পরীক্ষায় অংশ নিচ্ছে ২১ লাখ ৩৫ হাজার ৩৩৩ পরীক্ষার্থী। আজ থেকে শুরু হয়ে ২৫ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত হবে তত্ত্বীয় পরীক্ষা। ২৬ ফেব্রুয়ারি সংগীত বিষয়ের এবং ২৭ ফেব্রুয়ারি থেকে ১২ মার্চের মধ্যে অন্য বিষয়ের ব্যাবহারিক পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হবে। দেশের তিন হাজার ৪৯৭টি কেন্দ্রে ২৮ হাজার ৬৮২টি প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীরা পরীক্ষা দেবে আজ। বিদেশে আটটি কেন্দ্রে এসএসসি পরীক্ষায় অংশ নেবে ৪৩৪ জন শিক্ষার্থী। এবারও বাংলা দ্বিতীয় পত্র এবং ইংরেজি প্রথম ও দ্বিতীয় পত্র ছাড়া অন্য সব বিষয়ে সৃজনশীল প্রশ্নে পরীক্ষা হবে।

গত কয়েক বছর এসএসসি, এইচএসসি শুধু নয়, বিশ্ববিদ্যালয়ের ভর্তি পরীক্ষা থেকে শুরু করে যেকোনো চাকরির পরীক্ষার আগে প্রশ্ন ফাঁসের ঘটনা ঘটতে দেখা গেছে। একটি সিন্ডিকেট ছাপাখানা থেকে প্রশ্ন ফাঁস করে বিক্রি করত। আবার ডিজিটাল ডিভাইসের মাধ্যমেও প্রশ্ন ফাঁসের ঘটনা ঘটেছে। এমনকি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমেও প্রশ্ন ফাঁসের ঘটনা ঘটতে দেখা গেছে। ফেসবুকে চলতি বছরের এইচএসসির প্রশ্নপত্র ফাঁসের আশ্বাস দিয়ে শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে অর্থ হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগে মাদারীপুরে এক কলেজছাত্রকে আটকও করেছে র‌্যাব। অন্যদিকে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ভর্তিসহ বিভিন্ন চাকরির নিয়োগ পরীক্ষার প্রশ্ন ফাঁসের সঙ্গে জড়িত দুটি বড় চক্রের হোতাসহ ৪৬ জনকে গ্রেপ্তারের কথা জানিয়েছে পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি)। গ্রেপ্তার হওয়া এই ৪৬ জনসহ দুই সিন্ডিকেটের শতাধিক সদস্যের নামে শিগগিরই চার্জশিট দেওয়া হবে বলে জানা গেছে। আর আজ থেকে শুরু এসএসসি পরীক্ষার প্রশ্ন ফাঁস রোধে এবারও কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন শিক্ষামন্ত্রী। একই সঙ্গে অভিভাবকদেরও প্রশ্ন ফাঁসের গুজবে কান না দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন তিনি। এবার পরীক্ষার্থীরা পরীক্ষা শুরুর ৩০ মিনিট আগে কেন্দ্রে প্রবেশ করে আসন গ্রহণ করবে। পরীক্ষা শুরুর ২৫ মিনিট আগে প্রশ্নের সেট কোড জানানো হবে।

প্রশ্নপত্র ফাঁসের ঘটনা শিক্ষার্থীদের মধ্যে এক ধরনের আতঙ্ক সৃষ্টি করে। প্রশ্ন ফাঁসের সঙ্গে জড়িতরা যেমন অপরাধী, তেমনি যে অভিভাবকরা ফাঁস হওয়া প্রশ্ন কেনার জন্য ছোটাছুটি করেন, তাঁরাও কম অপরাধী নন। ফাঁস হওয়া প্রশ্নপত্র কোনো অভিভাবক কিনবেন না—এমন প্রতিজ্ঞা থাকলে ফাঁসকারীরা বিক্রি করার কোনো সুযোগ পাবে না। অভিভাবকদের মনে রাখা দরকার, ফাঁস হওয়া প্রশ্ন কেনা মানেই জীবনের শুরুতে সন্তানদের অসততার সঙ্গে পরিচয় করিয়ে দেওয়া। তা ছাড়া জিপিএ ৫ না পেলে যে জীবনের খুব বেশি ক্ষতি হয়ে যায়, তা নয়। সবার সহযোগিতায় সুন্দরভাবে পরীক্ষা সম্পন্ন হবে বলে আমরা আশাবাদী। এসএসসি ও সমমানের পরীক্ষার্থীদের জন্য শুভ কামনা।

 



মন্তব্য