kalerkantho

ঢালাও ছাঁটাই কেন

গার্মেন্ট খাতে অস্থিরতা কাম্য নয়

১ ফেব্রুয়ারি, ২০১৯ ০০:০০



নতুন মজুরি কাঠামোতে থাকা বেতনবৈষম্য নিরসনের দাবিতে সম্প্রতি গার্মেন্ট শ্রমিকরা রাস্তায় নেমে এসেছিল। এরপর ত্রিপক্ষীয় বৈঠকে সমঝোতার ভিত্তিতে বেতন কাঠামোতে প্রয়োজনীয় সংশোধনী আনা হয় এবং শ্রমিকরা কাজে ফিরে যায়। পত্রিকায় প্রকাশিত খবর অনুযায়ী সেই আন্দোলনে অংশ নেওয়া শ্রমিকদের টার্গেট করে ব্যাপক হারে ছাঁটাইয়ের প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। জানা যায়, সাভার ও আশুলিয়ায় গত কয়েক দিনে পাঁচ থেকে সাত হাজার শ্রমিককে ছাঁটাই করা হয়েছে। বহু কারখানার গেটে ঝুলিয়ে দেওয়া হয়েছে শ্রমিক ছাঁটাইয়ের নোটিশ। ফলে শ্রমিকদের মধ্যে নতুন করে আতঙ্ক দেখা দিয়েছে। শ্রমিক সংগঠনগুলোর সূত্রে বলা হয়, ত্রিপক্ষীয় বৈঠকে সমঝোতা হওয়ার পর কোনো প্রতিশোধমূলক পদক্ষেপ কোনোভাবেই কাম্য নয়।

গার্মেন্ট দেশের অর্থনীতিতে বড় অবদান রাখছে। রপ্তানি আয়ের বেশির ভাগই আসে এই খাত থেকে। এখানে প্রায় ৪৫ লাখ শ্রমিক-কর্মচারী কাজ করছে। তাদের পরিবার-পরিজন মিলিয়ে কয়েক কোটি মানুষ এ খাতের ওপর নির্ভরশীল। এমন একটি খাত সুষ্ঠুভাবে পরিচালিত হোক—এটি সবাই চায়। অন্যদিকে দেশকে অস্থিতিশীল করার জন্য দেশি-বিদেশি চক্র বরাবরই এই খাতে অস্থিরতা সৃষ্টির চেষ্টা করে আসছে। তাই এ খাতের সংশ্লিষ্ট সব পক্ষকেই সতর্ক থাকতে হবে। ত্রিপক্ষীয় বৈঠকে সমঝোতা হওয়ার পর শ্রমিকরা যখন কাজে ফিরে গেছে তখন আন্দোলনে অংশ নেওয়া শ্রমিকদের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া কি ঠিক হবে? এতে আবারও শ্রমিক অসন্তোষ তৈরি হওয়ার আশঙ্কা থাকে এবং তাতে এই খাতই ক্ষতিগ্রস্ত হবে। তৈরি পোশাক প্রস্তুত ও রপ্তানিকারকদের সংগঠন বিজিএমইএর সভাপতি মো. ছিদ্দিকুর রহমান বলেছেন, নতুন মজুরি কাঠামোর চাপে অনেক কারখানা বন্ধ হয়ে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। তাঁর মতে, একদিকে বিশ্ববাজারে তৈরি পোশাকের দাম কমছে, অন্যদিকে দেশে মজুরি বাড়ছে। এতে অনেক কারখানাই ক্ষতির মুখে পড়তে পারে এবং বন্ধ হয়ে যেতে পারে। পরিস্থিতি যদি তেমনই হয়, সে ক্ষেত্রে দেশের প্রচলিত আইন অনুযায়ী অবশ্যই প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে হবে। কিন্তু কোনো ঘটনার বিপরীতে যখন কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয় তখন তা ভিন্ন ধারণাই দেয়। বিষয়টি বিজিএমইএসহ সংশ্লিষ্টদের অনুসন্ধান করে দেখা প্রয়োজন। কোনো কোনো কারখানার মালিক অবশ্য বলেছেন, তাঁরা কাউকে ছাঁটাই করছেন না, কয়েকজনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে এবং কারণ দর্শানোর নোটিশ দেওয়া হয়েছে। আন্দোলনকালীন অনুপস্থিতির জন্য এ ধরনের ব্যবস্থা গ্রহণ কি খুব জরুরি ছিল?

আমরা চাই, দেশের বৃহত্তম শিল্প খাত তৈরি পোশাকশিল্পে শান্তিপূর্ণ পরিবেশ বজায় থাকুক এবং এই শিল্পটি উত্তরোত্তর আরো এগিয়ে যাক। এ জন্য এই খাতের সংশ্লিষ্ট সব পক্ষকে ধৈর্য ও সহিষ্ণুতার পরিচয় দিতে হবে।



মন্তব্য