kalerkantho


বিপজ্জনক মাত্রায় বায়ুদূষণ

ঢাকার বাসিন্দাদের জীবন বাঁচান

১৩ জানুয়ারি, ২০১৯ ০০:০০



বিপজ্জনক মাত্রায় বায়ুদূষণ

নিঃশ্বাস না নিয়ে বেঁচে থাকা সম্ভব নয়, তাই নিঃশ্বাস নিতেই হবে। কিন্তু নিঃশ্বাস নিলেই যদি অসুস্থ হতে হয়, তাহলে মানুষ কী করবে? রাজধানী ঢাকার বর্তমান অবস্থা এমনই। এখানে বায়ুদূষণের মাত্রা শুধু অস্বাস্থ্যকর নয়, অতি অস্বাস্থ্যকর পর্যায়ে চলে গেছে। মানুষের পক্ষে দম বন্ধ রেখে ঢাকার বাইরে গিয়ে শ্বাস নিয়ে আসা কিংবা পাত্রে করে বিশুদ্ধ বাতাস এনে শ্বাস নেওয়া কোনোটাই সম্ভব নয়। গতকাল কালের কণ্ঠে প্রকাশিত প্রতিবেদনে দেখা যায়, গত ১৫ দিনে ঢাকার বায়ুমান পরীক্ষায় দেখা গেছে বেশির ভাগ সময়ই ঢাকার বাতাস ছিল অতি অস্বাস্থ্যকর। কিছু কিছু সময় তা বিপজ্জনক মাত্রায়ও চলে গেছে। গত চার বছরের চিত্রও প্রায় একই রকম।

বায়ুদূষণের মাত্রা বেশি হলে প্রধানত তা আমাদের ফুসফুসকে অকেজো করে দেয়। এ ছাড়া বায়ুতে থাকা ক্ষতিকর পদার্থের উপস্থিতি অনুযায়ী অন্যান্য রোগেরও কারণ হয়। কয়েক বছর আগে ঢাকা শিশু হাসপাতাল ঢাকার ১১টি এলাকায় পাঁচ শতাধিক মানুষের ওপর একটি গবেষণা চালিয়ে ফুসফুসের অসুস্থতা ব্যাপক হওয়ার প্রমাণও পেয়েছে। ফুসফুসের সক্রিয়তা বা পিএফটি (পালমোনারি ফাংশন টেস্ট) পরীক্ষায় দেখা যায়, ঢাকার ২৩ দশমিক ৪৭ শতাংশ মানুষ ফুসফুসের কোনো না কোনো রোগে আক্রান্ত। এর মধ্যে শিশু ও বৃদ্ধদের সংখ্যাই বেশি। এত দিনে এই হার নিশ্চয়ই আরো বেড়েছে। এখানে বাসিন্দাদের কী করার আছে? জীবনযুদ্ধের প্রয়োজনে তাদের ঘর থেকে বেরোতেই হবে। আর নিঃশ্বাসে দূষিত বাতাস টেনে অসুস্থ হতে হবে। আর শুধু কি ফুসফুসের রোগ? অস্বাভাবিক মাত্রায় বায়ুদূষণের কারণে হৃদরোগ, লিভার-কিডনির রোগ, এমনকি ক্যান্সারের পরিমাণও দিন দিন বাড়ছে। শিশুদের মস্তিষ্কের বিকাশ ব্যাহত হচ্ছে। অথচ বায়ুদূষণ কমানোর কোনো উদ্যোগই আমাদের চোখে পড়ে না।

ঢাকার বায়ুদূষণের একটি প্রধান কারণ আশপাশে থাকা অজস্র ইটভাটা। আইনে আছে জনবসতির কাছাকাছি ইটভাটা থাকতে পারবে না। কিন্তু সেই আইন বাস্তবায়নের কোনো চেষ্টাই নেই। ঢাকায় এখন স্থাপনা নির্মাণের প্রতিযোগিতা চলছে। প্রতিদিন শত শত ট্রাক বালু প্রবেশ করছে ঢাকায়। সবই খোলা অবস্থায়। ত্রিপল দিয়ে ঢেকে বালু পরিবহন করার আইন থাকলেও কেউ তা মানছে না। নির্মাণকাজেও চলে যথেচ্ছাচার। সরকারের বিভিন্ন মন্ত্রণালয় বা দপ্তরও খোঁড়াখুঁড়ি বা নির্মাণকাজ চালায় প্রায় একইভাবে। ফলে ঢাকার বাতাসে ধুলাবালির পরিমাণ অনেক বেশি। জলাভূমি কমে যাওয়ায়ও বাতাসে ধুলাবালি বাড়ছে। পুরনো যানবাহন বা অতিরিক্ত বোঝাই করা যানবাহনের কারণেও বাতাসে হাইড্রোকার্বন বা রাসায়নিক দূষণ বাড়ছে। পানি না ছিটিয়ে রাস্তায় যে ঝাড়ু দেওয়া হয়, তাও ঢাকার বাতাসে ধূলিকণা বৃদ্ধির একটি বড় কারণ। ঢাকায় কলকারখানাও কম নয়।

ঢাকাসহ বড় শহরগুলোর বায়ুদূষণ রোধে দ্রুত কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া না হলে পরিস্থিতি অতি দ্রুত নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যেতে পারে। কোটি মানুষের জীবন-মৃত্যুর প্রশ্ন যেখানে জড়িত, সেখানে কোনো ধরনের শৈথিল্য কাম্য নয়। আমরা আশা করি, নতুন সরকার বিষয়টির প্রতি সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেবে।



মন্তব্য