kalerkantho

অভিন্ন নদীপথ খনন

বাংলাদেশ-ভারত আস্থার সম্পর্ক দৃঢ় হোক

১৪ নভেম্বর, ২০১৮ ০০:০০




অভিন্ন নদীপথ খনন

বাংলাদেশ ও ভারতের অভিন্ন নদীর সংখ্যা ৫৪। দু-একটি ছাড়া এসব নদীর উৎস ভারত এবং এগুলোর বেশির ভাগ ভারতের ওপর দিয়ে প্রবাহিত। এসব নদীর প্রবাহ ও পানিবণ্টন নিয়ে সমস্যা অনেক দিন ধরেই চলছে। সামরিক শাসনামলে গঙ্গা তথা পদ্মার পানিবণ্টন নিয়ে জনতোষক রাজনীতিই করা হয়েছে, কাজের কাজ কিছুই করা হয়নি। অন্য নদীগুলোর প্রসঙ্গ বলতে গেলে উঠতই না। আওয়ামী লীগের শাসনামলে কার্যকর কিছু পদক্ষেপ গ্রহণ করা হয়। গঙ্গার পানিবণ্টন নিয়ে চুক্তি করা হয়েছে। তবে ভারত প্রায়ই চুক্তিসম্মত আচরণ করে না বলে অভিযোগ ওঠে। বাংলাদেশের পক্ষ থেকে বারবার তাগাদা দেওয়ার পরও তিস্তার পানিবণ্টন সমস্যার সুরাহা এখনো হয়নি। 

অভিন্ন অন্যান্য নদীসংশ্লিষ্ট বিষয়গুলোও ঝুলে রয়েছে। এসবের মধ্যে নাব্যতা, পানির হিসসা, নদীতে বাঁধ বা ব্যারাজ নির্মাণের বিষয়গুলো রয়েছে। অর্থাৎ অভিন্ন নদীসংক্রান্ত সিদ্ধান্ত গ্রহণে দুই দেশকেই সম্মতিতে পৌঁছাতে হবে। কোনো এক পক্ষের আপত্তি থাকলে সিদ্ধান্ত হবে না। কিন্তু এসব বিষয়ে ভারতের আন্তরিকতার ঘাটতি রয়েছে বলে নদী ও পানি বিশেষজ্ঞরা মনে করেন।

দীর্ঘদিন ধরে বিরাজমান এসব সমস্যার কারণে বাংলাদেশের নদীগুলোর নাব্যতা ও প্রবাহ বাধাগ্রস্ত হচ্ছে। গত শতকের পঞ্চাশের দশকে বাংলাদেশে প্রায় ১২ শ ছোট-বড় নদী প্রবহমান ছিল। এখন এ সংখ্যা আড়াই শর কিছু বেশি। বাকিগুলো হয় মরে গেছে, নয়তো খাল-নালায় পরিণত হয়েছে। গত আড়াই দশকে অভিন্ন নদী ও পানিবণ্টনের ব্যাপারে কিছু অগ্রগতি হয়েছে, তবে তা সন্তোষজনক নয়। নদীপথ ব্যবহারের বিষয়েও ভারতের সঙ্গে সমঝোতা হয়েছে বাংলাদেশের। এ বিষয়ে ভারতের তাগিদই বেশি। নৌ-ট্রানজিট প্রটোকল হয়েছে। এতে নদী খনন করে নাব্যতা বাড়ানোর প্রসঙ্গও রয়েছে।

এই প্রটোকলের আওতায় বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যে ৪৭০ কিলোমিটার নৌপথ খনন করা হবে। খননকাজে যে খরচ হবে তার ৮০ শতাংশ বহন করবে ভারত। বাকি ২০ শতাংশ বহন করবে বাংলাদেশ। প্রটোকল অন ইনল্যান্ড ওয়াটার ট্রানজিট অ্যান্ড ট্রেড সংশোধন করে এ ব্যবস্থা রাখা হচ্ছে। গত সোমবার এসংক্রান্ত খসড়ায় ভূতাপেক্ষ অনুমোদন দিয়েছে মন্ত্রিসভা। সচিবালয়ে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের সভাকক্ষে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত মন্ত্রিসভার নিয়মিত বৈঠকে এ অনুমোদন দেওয়া হয়। এ কাজ যথাসময়ে ও যথাযথভাবে সম্পন্ন করতে পারলে নৌ চলাচল সহজ হবে। সিলেটের জকিগঞ্জ থেকে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আশুগঞ্জ এবং সিরাজগঞ্জ থেকে ভারতের দইখাওয়া পর্যন্ত নদীপথ খনন করা হবে। নৌ প্রটোকলে আরো কিছু গুরুত্বপূর্ণ বিষয় অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।

অভিন্ন নদীর পানিবণ্টন ও দুই দেশের জন্যই গুরুত্বপূর্ণ নদীপথ উন্নয়নবিষয়ক যেসব চুক্তি-সমঝোতা রয়েছে সেগুলোর সঠিক বাস্তবায়ন দরকার। পারস্পরিক আস্থা বাড়ানোর জন্যই তা দরকার। ৪৭০ কিলোমিটার নদীপথ খননের মাধ্যমে বাস্তবায়ন ও আস্থা বৃদ্ধির প্রক্রিয়া ত্বরান্বিত হবে বলে আমরা মনে করি। এ জন্য বাংলাদেশকে নিষ্ঠার সঙ্গে তৎপর হতে হবে। ভারতকেও আন্তরিক হতে হবে।

 



মন্তব্য