kalerkantho

বাল্যবিয়ে চলছেই

সামাজিক প্রতিরোধ গড়ে তুলতে হবে

১৭ অক্টোবর, ২০১৮ ০০:০০



বাল্যবিয়ের কুফল নিয়ে প্রতিনিয়ত পত্রপত্রিকায় লেখালেখি হচ্ছে। সরকারি-বেসরকারি নানা উদ্যোগে সচেতনতামূলক প্রচার চালানো হচ্ছে। স্থানীয় প্রশাসন থেকে বাল্যবিয়ে রোধে নানা রকম উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। বিভিন্ন জায়গায় মেয়েরা দলবদ্ধ হয়ে বাল্যবিয়ে প্রতিরোধে বিভিন্ন কর্মসূচি নিচ্ছে। বাল্যবিয়ের জন্য বিয়ে পড়ানো কাজি বা অভিভাবকদের অনেকের শাস্তিও হয়েছে। কিন্তু তাতে কি বাল্যবিয়ে বন্ধ হয়েছে? গতকালের কালের কণ্ঠ পত্রিকায় বাল্যবিয়ে সম্পর্কিত দুটি খবর প্রকাশিত হয়েছে। দুটি খবরেই দেখা যায়, প্রত্যন্ত অঞ্চলে এখনো বাল্যবিয়ে ব্যাপকভাবে বিদ্যমান।

প্রকাশিত খবরে সুনামগঞ্জের তাহিরপুর উপজেলার একটি বিদ্যালয়ের পরিসংখ্যান দেওয়া হয়েছে। ২০১০ সালে সেখানকার সোহাল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ৪৫ জন ছাত্রী ভর্তি হয়েছিল। আট বছরে তাদের ৯ জনের পড়াশোনায় ইতি ঘটে বাল্যবিয়ের কারণে। এর মধ্যে ২০১৩ সালে বিয়ে হয় রোজিনা আক্তারের, তখন সে ছিল তৃতীয় শ্রেণির ছাত্রী। এখন তার এক কন্যাসন্তান রয়েছে। ২০১৪ সালে চতুর্থ শ্রেণিতে পড়ার সময় বিয়ে হয় রোকেয়া আক্তারের। সে এখন দুই কন্যাসন্তানের জননী। বিয়ে হওয়া বাকি সাতজনের অবস্থাও প্রায় কাছাকাছি। তাদের সহপাঠীদের মধ্যে যাদের এখনো বিয়ে হয়নি, তারা বর্তমানে অষ্টম শ্রেণির সমাপনী পরীক্ষা দিচ্ছে। ভাবতেও অবাক লাগে, আমরা এ কোন দেশে বাস করছি! মেয়েদের ছুড়ে ফেলে দিতে পারলেই যেন অভিভাবকরা বেঁচে যান! নাহলে তারা তৃতীয় বা চতুর্থ শ্রেণিতে পড়ার সময় একটি শিশুকে বিয়ের পিঁড়িতে বসান কিভাবে?

দেশে বাল্যবিয়ে নিরোধে সুনির্দিষ্ট আইন আছে। আইনে এ জন্য শাস্তির ব্যবস্থা রয়েছে। কিন্তু আইনের যথাযথ বাস্তবায়ন হয় না। আর শুধু কঠোর আইন করে বা শাস্তি দিয়েই কি এই কুপ্রথা বিলোপ করা যাবে? যেসব এলাকায় এমন অমানবিক কর্মকাণ্ড চলে, আমরা বিশ্বাস করি, সেসব এলাকায়ও অনেক বিবেকবান, শিক্ষিত ও সভ্য মানুষ রয়েছে। কন্যাশিশুকে হত্যা করার শামিল—এ ধরনের অপতৎপরতা রোধে তাদেরও এগিয়ে আসতে হবে। সিলেটের বিশ্বনাথ উপজেলার প্রশাসন বাল্যবিয়ে রোধে কিছুটা শক্ত ভূমিকা নিয়েছে। তার পরও সেখানে বাল্যবিয়ে থেমে নেই। উপজেলা প্রশাসন গত এক সপ্তাহে বেশ কয়েকটি বাল্যবিয়ের উদ্যোগ বন্ধ করেছে এবং এমন কাজ আর করবে না মর্মে অভিভাবকদের কাছ থেকে মুচলেকা নিয়েছে। আমরা সব উপজেলা প্রশাসনের কাছ থেকেই এমন তৎপরতা আশা করি। পাশাপাশি আমরা চাই বাল্যবিয়ের বিরুদ্ধে সামাজিক প্রতিরোধ গড়ে তোলা হোক। এর দায়িত্ব নিতে হবে শিক্ষিত তরুণসমাজকে। শিক্ষক, জনপ্রতিনিধিসহ সমাজের নেতৃস্থানীয় মানুষকেও এগিয়ে আসতে হবে। বাল্যবিয়ের কুফল সম্পর্কে ব্যাপক জনসচেতনতা গড়ে তুলতে হবে।



মন্তব্য