kalerkantho


নির্বাচন কমিশনে মতবিরোধ

দ্বন্দ্ব প্রকাশ্য না হওয়াই ভালো

১৭ অক্টোবর, ২০১৮ ০০:০০



নির্বাচন কমিশনে মতবিরোধ

একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন আগামী ডিসেম্বরের শেষ দিকে অনুষ্ঠিত হতে পারে। এ হিসাবে সময় আছে বড়জোর আড়াই মাস। এর মধ্যেই নির্বাচন কমিশনকে যথাযথ প্রস্তুতি নিয়ে নির্বাচন সম্পন্ন করতে হবে। এ পরিপ্রেক্ষিতে গত সোমবার রাজধানীর আগারগাঁওয়ে নির্বাচন কমিশন ভবনে নির্বাচন কমিশনের সভা অনুষ্ঠিত হয়। সেখানে নির্বাচনের সার্বিক প্রস্তুতি নিয়ে আলোচনা ও সিদ্ধান্ত হয়। নির্বাচন পরিচালনার জন্য কমিশন ৭০০ কোটি টাকার বাজেট অনুমোদন করেছে। এবার প্রার্থীদের অনলাইনে মনোনয়নপত্র জমা দেওয়ার সুযোগ রাখা হয়েছে। এমন ব্যবস্থা আগে ছিল না।

সভার পর কমিশন সচিব সাংবাদিকদের অবহিত করেন। ৩০ অক্টোবরের পর যেকোনো দিন তফসিল ঘোষণা করা হবে। সংসদ নির্বাচনের সব প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে। ভোটার তালিকার সিডি আঞ্চলিক কার্যালয়গুলোতে পাঠানো হয়েছে। কোনো ত্রুটি থাকলে ৩০ অক্টোবরের মধ্যে কমিশনকে জানাতে বলা হয়েছে। সব আসনের সীমানা নির্ধারণের কাজ শেষ হয়েছে। ৪০ হাজার ১৯৯টি ভোটকেন্দ্র থাকবে। এসব কেন্দ্রের ৫ শতাংশ অতিরিক্ত; দুর্যোগের কারণে ভোটকেন্দ্র সরানোর প্রয়োজন দেখা দিলে এগুলো ব্যবহার করা হবে। তফসিল ঘোষণার পর রিটার্নিং অফিসাররা ভোটকেন্দ্রের পূর্ণাঙ্গ তালিকা প্রকাশ করবেন। বেশির ভাগ নির্বাচনসামগ্রী কেনা হয়েছে, বাকিগুলো ৩০ অক্টোবরের মধ্যে কেনা হবে। সচিব এ কথাও জানিয়েছেন যে নির্বাচনে ইলেকট্রনিক ভোটিং মেশিন (ইভিএম) ব্যবহারের প্রস্তুতিও রয়েছে। সরকার সংশ্লিষ্ট আইন সংশোধন করলে ইভিএম ব্যবহার করা হবে। ইভিএমের সঙ্গে ভোটারদের পরিচিত করার জন্য এ মাসের শেষে ঢাকার বাইরে এবং নভেম্বরের প্রথম সপ্তাহে ঢাকায় ইভিএম মেলার আয়োজন করা হবে। নির্বাচন পর্যবেক্ষণের জন্য যথারীতি দেশি-বিদেশি পর্যবেক্ষকদের আমন্ত্রণ জানানো হবে। দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলোর পর্যবেক্ষকদের বিশেষভাবে আমন্ত্রণ জানানো হবে। দ্রুত ফল প্রকাশের ব্যবস্থার কথাও ভাবা হয়েছে।

নির্বাচনী প্রস্তুতির যে বিবরণ সচিব দিয়েছেন তা আশাব্যঞ্জক। নির্বাচন অনুষ্ঠানে কমিশন সচেষ্ট। গণমাধ্যম মারফত জনগণ এসব ব্যাপারে অবহিত হয়েছে। তবে সভার সব সিদ্ধান্ত সর্বসম্মতিক্রমে হয়নি। তাতে কোনো বিধি লঙ্ঘনও হয়নি। শুরুতেই জাতীয় নির্বাচন অবাধ, সুষ্ঠু, নিরপেক্ষ, অংশগ্রহণমূলক ও গ্রহণযোগ্য করার লক্ষ্যে নিজের প্রস্তাব উপস্থাপনের সুযোগ না পাওয়ায় আপত্তি জানিয়ে সভা বর্জন করেন একজন নির্বাচন কমিশনার। আগেও তিনি সভা বর্জন করেছেন। গত বছর অংশীজনদের সঙ্গে যে সংলাপ হয়েছিল তার সুপারিশমালা কমিশন আমলে না নেওয়ায় তিনি সভা বর্জন করেন বলে সাংবাদিকদের জানান। নিবন্ধিত রাজনৈতিক দল, সুধীসমাজসহ অংশীজনরা যেসব সুপারিশ করেছিল তা গ্রন্থাকারে প্রকাশ করা হলেও কমিশনের কোনো সভায় এ নিয়ে আলোচনা হয়নি এবং পর্যালোচনা করে গ্রহণযোগ্য সুপারিশ বাস্তবায়নের উদ্যোগ নেওয়া হয়নি—এটাই তাঁর আপত্তির জায়গা।

সর্বসম্মতিতে সিদ্ধান্ত হলে খুবই ভালো; না হলে কমিশন সংখ্যাগরিষ্ঠ মতের ভিত্তিতে সিদ্ধান্ত নিতে পারে। সব বিষয়ে সব সময় সব কমিশনার একমত হবেন, এমনটি নাও হতে পারে। তবে মতভিন্নতার বিষয়টি দ্বন্দ্বে পরিণত হলে এবং প্রকাশ্যে চলে এলে কমিশনেরই ক্ষতি। অংশীজনরা যে সুপারিশ করেছে তা আমল অযোগ্য করে রাখা ভালো কথা নয়। সহমতের ভিত্তিতে প্রতিষ্ঠানের ভাবমূর্তি অক্ষুণ্ন রেখে কাজ করাই উত্তম।

 

 



মন্তব্য