kalerkantho


কালোবাজারে গরিবের চাল

লুটপাটকারীদের কঠোর শাস্তি দিতে হবে

১৫ সেপ্টেম্বর, ২০১৮ ০০:০০



অতি দরিদ্র মানুষের পক্ষে ৪০ থেকে ৫০ টাকা কেজি দরে চাল কিনে পরিবারের সদস্যদের খাওয়ানো খুবই কষ্টকর হয়ে পড়ে। তাই প্রায়ই তাদের উপোস দিতে হয়। অতি দরিদ্র মানুষের এই কষ্ট লাঘবে সরকার ১০ টাকা কেজি দরে চাল বিক্রির কর্মসূচি নিয়েছে। উদ্দেশ্য অতি মহৎ হলেও অতি দরিদ্র লোকজন তা থেকে খুব বেশি উপকৃত হতে পারছে না। কিছু নিম্ন রুচির অতি লোভী মানুষের কারসাজিতে সেই চাল ঠিকমতো দরিদ্রদের হাতে পৌঁছে না। প্রকাশিত খবর থেকে জানা যায়, সেই চাল বিতরণের সঙ্গে নানা ধরনের অনিয়ম জড়িয়ে রয়েছে। এর মধ্যে আছে, কার্ড বিতরণে অনিয়ম, অতি দরিদ্রদের বদলে সচ্ছল ব্যক্তিদের কার্ড দেওয়া, এক ব্যক্তির নামে একাধিক কার্ড, ভুয়া নামে কার্ড, ওজনে কম দেওয়া, কালোবাজারে চাল বিক্রি করে দেওয়া ইত্যাদি। আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী বিভিন্ন স্থান থেকে এ রকম অনেক চাল উদ্ধারও করেছে। তাহলে কোটি কোটি টাকা ভর্তুকি দিয়ে সরকারের এই কর্মসূচি পরিচালনার সার্থকতা কোথায়?

নিম্ন-মধ্যবিত্ত ও অতি দরিদ্র মানুষের জন্য সরকারের গৃহীত দুটি কর্মসূচির একটি হলো ১০ টাকা কেজি দরে চাল বিক্রি, আরেকটি কর্মসূচি হলো খোলাবাজারে বিক্রি বা ওএমএস। সরকার ৩৯ টাকা কেজি দরে চাল কিনে ওএমএসে ৩০ টাকা দরে এবং অতি দরিদ্রদের জন্য ১০ টাকা দরে বিক্রি করে। এতে সরকারকে কোটি কোটি টাকা ভর্তুকি দিতে হয়। কিন্তু যাদের জন্য এই কর্মসূচি তারা কতটুকু উপকৃত হয়? ওএমএস কর্মসূচিতে ঢাকায় ১৪১টি স্পটে চাল, আটা ও অন্যান্য পণ্য বিক্রির কথা থাকলেও বাস্তবে ৩৩টি স্পটে চাল বিক্রির প্রমাণ পাওয়া যায়। তাহলে বাকি স্পটগুলোতে বিক্রির চাল, আটা যায় কোথায়? গত সপ্তাহে র‌্যাবের অভিযানে মোহাম্মদপুর কৃষি মার্কেট থেকে এমন ২১৫ বস্তা চাল উদ্ধার করা হয়। দেখা যায়, তেজগাঁওয়ের কেন্দ্রীয় খাদ্যগুদামের কর্মকর্তা-কর্মচারী ও ডিলার-বিক্রেতাদের একটি বড় সিন্ডিকেট নিয়মিতভাবে এসব চাল কালোবাজারে বিক্রির সঙ্গে জড়িত। খাদ্যগুদামের ম্যানেজারকে পরে বরখাস্তও করা হয়। একইভাবে দেশের বিভিন্ন স্থানে ১০ টাকা কেজির চাল কালোবাজার থেকে উদ্ধার করা হয়। ভৈরবে এক ব্যবসায়ীর গুদাম থেকে ১৬০ বস্তা চাল ও ডিলারসহ দুজনকে আটক করা হয়। মানিকগঞ্জ, শেরপুর, মাধবপুরসহ আরো অনেক স্থানেই পুলিশের অভিযানে ১০ টাকা কেজি দরের এই চাল উদ্ধার করা হয়েছে।

শাস্তি না হলে অপরাধীরা উৎসাহিত হয়। যারা অতি দরিদ্রদের চাল এভাবে আত্মসাৎ করে তারা অতি ঘৃণ্য অপরাধী। তাদের কঠোর শাস্তি না হলে আত্মসাৎ বন্ধ হবে না, সরকারের কোনো কর্মসূচিও লক্ষ্য অর্জন করতে পারবে না।



মন্তব্য