kalerkantho


স্থিতিশীল নয় পুঁজিবাজার

আস্থা ফেরাতে উদ্যোগী হতে হবে

১৩ সেপ্টেম্বর, ২০১৮ ০০:০০



২০১০ সালে ধস নামার পর থেকে দেশের পুঁজিবাজার আর স্থিতিশীল হতে পারেনি। বিশ্বের অন্যান্য দেশের মতো পুঁজিবাজার দীর্ঘমেয়াদি অর্থায়নের নির্ভরযোগ্য উৎস হয়ে উঠতে পারেনি। অথচ ধস নামার পর স্টক এক্সচেঞ্জের ডিমিউচুয়ালাইজেশন হয়েছে। গঠন করা হয়েছে ফিন্যানশিয়াল কাউন্সিল। আইন সংস্কার করা হয়েছে। ক্ষুদ্র বিনিয়োগকারীদের প্রণোদনা দেওয়াসহ বিভিন্ন পদক্ষেপও নিয়েছে সরকার। সরকারের কর্মপ্রচেষ্টার ফলে বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন, বিএসইসি ‘এ’ ক্যাটাগরির নিয়ন্ত্রক সংস্থা হিসেবে সম্মান পেয়েছে। বাংলাদেশের পুঁজিবাজারের প্রতি আগ্রহী হয়েছে ভারত ও চীন। চীনের কনসোর্টিয়াম ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের কৌশলগত অংশীদার হয়েছে। কিন্তু তাতে পুঁজিবাজার কতটা চাঙ্গা হয়েছে সেটাই দেখার বিষয়। অবশ্য এটাও ঠিক যে পুঁজিবাজার প্রতিদিনের বাজার নয়। এখানে দীর্ঘমেয়াদে বিনিয়োগ করতে হয়। বিনিয়োগকারীদের ধৈর্যের পরীক্ষা দিতে হয়। আবার পুঁজিবাজারে ফটকাবাজির ঘটনাও যে ঘটে না, তা নয়। অনেকেই সহজে টাকা উপার্জনের লক্ষ্যে এখানে বিনিয়োগ করতে এসে সর্বস্বান্ত হয়েছে। প্রাইমারি ও সেকেন্ডারি মার্কেটে ভালো করতে না পেরে অনেক বিও অ্যাকাউন্টধারী তাঁদের হিসাব নবায়ন করেননি। এর ভেতর দিয়েই ইতিবাচক ধারায় ফিরে আসার চেষ্টা করছে দেশের পুঁজিবাজার।

দেশের উন্নয়নের ধারা যখন ঊর্ধ্বমুখী তখন পুঁজিবাজার কেন পিছিয়ে থাকবে? বিশ্বের অন্যান্য দেশের সঙ্গে যদি তুলনা করা হয় তাহলে দেখা যাবে, অনেক দেশেরই পুঁজিবাজার জিডিপির আকারের চেয়ে অনেক বড়। কিন্তু বাংলাদেশের চিত্র একেবারেই ভিন্ন। ২০১০ সালের পর থেকে জিডিপি ও বাজার মূলধনের অনুপাত ধারাবাহিকভাবে কমছে। প্রতিবছর বাড়ছে জিডিপির আকার। কিন্তু বাড়ছে না পুঁজিবাজারের মূলধন। এর কারণও যে জানা নেই তা নয়। বাজার বিশেষজ্ঞদের মতে, বহুজাতিক অনেক কম্পানি এখন পর্যন্ত দেশের পুঁজিবাজারে আসেনি। এর পাশাপাশি বন্ড কিংবা অন্যান্য পণ্যও আনতে হবে বাজারে। জনগণকে বাজারমুখী করতে বা পুঁজিবাজারে বিনিয়োগে আগ্রহী করতে হলে বাজারে আকৃষ্ট করার মতো পরিবেশ থাকতে হবে। তালিকাভুক্ত কম্পানির সংখ্যা বাড়াতে হবে। বহুজাতিক ও সরকারি প্রতিষ্ঠান বাজারে এলে মানুষের আস্থা ফিরবে বলে আশা করা যায়। মৌল ভিত্তির কম্পানি বাজারে না এলে বাজার গতিশীল হবে না। সবার আগে কাটাতে হবে আস্থার সংকট। আস্থা ফেরাতে উদ্যোগ নিলে বাজারমুখী হবে বিনিয়োগকারীরা। সুদিন ফিরবে পুঁজিবাজারে।



মন্তব্য